ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের জরুরী ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত ২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর’ গণসংযোগ। ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে গণঅধিকার পরিষদ।

আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্যদের এক জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেতৃবৃন্দ, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক অস্তিত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বর্তমান অসাংবিধানিক ও সরকারকে কোন ধরণের সহযোগিতা না করে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার পার্শ্ববর্তী দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ২০০৮ সালে নীলনকশার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন দক্ষ চৌকস সেনা অফিসারকে হত্যা করে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করার চক্রান্তের পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালত, বিচারবিভাগ, পুলিশ প্রশাসন একে একে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে আওয়ামী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তারই অংশ হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার দেশে মসজিদ-মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশের সম্মানিত আলেম-ওলামাদের হয়রানি, অপমান- অপদস্থ করাসহ মিথ্যে মামলায় আটক করে বছরের পর বছর কারাগারে রাখেন বলে মন্তব্য করেন।

 

২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন ও ১৮ সালের ভোটডাকাতির নির্বাচন কার্যত দেশের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। শুধু নির্বাচনকে নির্বাসনে নয়, নাগরিকদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ভিন্নমত দমনে গায়েবী মামলা, গুম-খুন চালিয়ে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকারের কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুর্নীতিবাজ নেতৃবৃন্দ ও লুটেরা ব্যবসায়ী মিলে বাংলাদেশকে আজ একটি মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। যেখানে নাগরিকদের মর্যাদা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো সভ্য সমাজের ন্যূনতম বৈশিষ্ট্যটুকুও নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে দেশ আজ স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট, জনগণ আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

 

একদিকে ১৫ বছরে সরকারি দলের লুটেরাদের ১৬ লক্ষ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার, অন্যদিকে রিজার্ভ সংকট ও ব্যাংকসমূহের মূলধন ঘাটতিসহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। একদিকে বছর বছর কোটিপতির নতুন সংখ্যা অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে গণমানুষের দীর্ঘশ্বাস উঠেছে। এ যেন অলিগার্কদের রাজত্ব!

 

এমতাবস্থায় দেশের সচেতন নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহ জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্নীতিরোধ, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর বার বার তাগিদ দিলেও কর্তৃত্ববাদী সরকার ভিনদেশী তাবেদারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে আবারও ১৪, ১৮ সালের মতো একটি প্রহসনের নির্বাচন করে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়রোধসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক নাগরিকগণকে বর্তমান অবৈধ সরকারকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলবো এই সরকার সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। তাই এ অবৈধ সরকারের নির্দেশনা পালন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কোন ধরনের সহযোগিতা না করে জনগণের আন্দোলনের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের নামে বানরের রুটি ভাগের সার্কাস থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার পাশাপাশি প্রহসনের ভোট বর্জন করে প্রতিহত করুন। চলমান এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে যারা চাকরি হারানোসহ শারিরীক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদেরকে পূর্ণ সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পূর্নবহাল ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

 

ভোটারবিহীন অনির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী গণবিরোধী লুটেরা সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ ধারার বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর’ গণসংযোগ। ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে গণঅধিকার পরিষদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের জরুরী ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত ২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর’ গণসংযোগ। ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে গণঅধিকার পরিষদ।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্যদের এক জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় নেতৃবৃন্দ, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক অস্তিত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বর্তমান অসাংবিধানিক ও সরকারকে কোন ধরণের সহযোগিতা না করে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার পার্শ্ববর্তী দেশের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ২০০৮ সালে নীলনকশার মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর পরই সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কথিত বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন দক্ষ চৌকস সেনা অফিসারকে হত্যা করে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীকে পঙ্গু করার চক্রান্তের পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালত, বিচারবিভাগ, পুলিশ প্রশাসন একে একে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে আওয়ামী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তারই অংশ হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যার দেশে মসজিদ-মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশের সম্মানিত আলেম-ওলামাদের হয়রানি, অপমান- অপদস্থ করাসহ মিথ্যে মামলায় আটক করে বছরের পর বছর কারাগারে রাখেন বলে মন্তব্য করেন।

 

২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন ও ১৮ সালের ভোটডাকাতির নির্বাচন কার্যত দেশের নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। শুধু নির্বাচনকে নির্বাসনে নয়, নাগরিকদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ভিন্নমত দমনে গায়েবী মামলা, গুম-খুন চালিয়ে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সরকারের কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুর্নীতিবাজ নেতৃবৃন্দ ও লুটেরা ব্যবসায়ী মিলে বাংলাদেশকে আজ একটি মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। যেখানে নাগরিকদের মর্যাদা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতো সভ্য সমাজের ন্যূনতম বৈশিষ্ট্যটুকুও নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে দেশ আজ স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট, জনগণ আজ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

 

একদিকে ১৫ বছরে সরকারি দলের লুটেরাদের ১৬ লক্ষ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার, অন্যদিকে রিজার্ভ সংকট ও ব্যাংকসমূহের মূলধন ঘাটতিসহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটেছে। একদিকে বছর বছর কোটিপতির নতুন সংখ্যা অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে গণমানুষের দীর্ঘশ্বাস উঠেছে। এ যেন অলিগার্কদের রাজত্ব!

 

এমতাবস্থায় দেশের সচেতন নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও সংস্থাসমূহ জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্নীতিরোধ, সুশাসন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর বার বার তাগিদ দিলেও কর্তৃত্ববাদী সরকার ভিনদেশী তাবেদারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে আবারও ১৪, ১৮ সালের মতো একটি প্রহসনের নির্বাচন করে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা, অর্থনৈতিক বিপর্যয়রোধসহ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশপ্রেমিক নাগরিকগণকে বর্তমান অবৈধ সরকারকে কোন ধরনের সহযোগিতা না করার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বলবো এই সরকার সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। তাই এ অবৈধ সরকারের নির্দেশনা পালন থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি কোন ধরনের সহযোগিতা না করে জনগণের আন্দোলনের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের নামে বানরের রুটি ভাগের সার্কাস থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার পাশাপাশি প্রহসনের ভোট বর্জন করে প্রতিহত করুন। চলমান এই গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে যারা চাকরি হারানোসহ শারিরীক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদেরকে পূর্ণ সুযোগ-সুবিধাসহ চাকরিতে পূর্নবহাল ও অন্যান্য ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

 

ভোটারবিহীন অনির্বাচিত কর্তৃত্ববাদী গণবিরোধী লুটেরা সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবিতে যুগপৎ ধারার বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২১, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর’ গণসংযোগ। ২৪ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি পালন করবে গণঅধিকার পরিষদ।