চলতি মাসেই চালু হবে মোংলা-খুলনা রুটে ট্রেন চলাচল

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:২৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ মে ২০২৪ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

গেল বছরের নভেম্বরে উদ্ধোধন হলেও স্থায়ী জনবল নিয়োগসহ নানা জটিলতায় মোংলা-খুলনা রুটে ট্রেন চালু সম্ভব হয়নি। তবে কবে নাগাদ রেল চালু হবে সেটি নিয়েও ছিলো ধোয়াশা। ফলে মোংলা-খুলনা রুটে রেল চালু নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে সকল সমস্যার সমাধান, জটিলতা অবসানসহ আপাতত অস্থায়ী জনবল দিয়ে চলতি মে মাসেরই যে কোন সময়ে মোংলা-খুলনা রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এজন্য মঙ্গলবার (৩০এপ্রিল) বিকেলে খুলনা থেকে মোংলা রেলপথের চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মোঃ আরিফুজ্জামান ও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (পাকশী) বিভাগীয় প্রকৌশলী-০১ বীর বল মন্ডল বুধবার (১মে) দুপুরে জানান, মঙ্গলবার (৩০এপ্রিল) চুড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্নের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওেয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরিফুজ্জামান, মহা-ব্যবস্থাপক (পশ্চিম) অসীম কুমার তালুকদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) এ এম সালাহউদ্দীন, প্রধান যান্ত্রিক প্রজেক্ট (পশ্চিম) মুহাম্মদ কুতরত- ই- খুদা, প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী (পশ্চিম) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী টেলিকম (পশ্চিম) সৈয়দ মোঃ শহিদুজ্জামান, পশ্চিমাঞ্চলের (পাকশী) বিভাগীয় প্রকৌশলী-০১ বীর বল মন্ডল ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম।প্রকল্পের পরিচালক মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, রেল লাইনে বিভিন্ন ধাপের ফিনিশিংয়ের কাজ বাকী ছিল, সেটি সম্পন্ন করা হয়েছে। চুড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাও শেষ। বাণিজ্যিকভাবে রেল চালুর জন্য খুলনা-মোংলা রুট পুরোপুরি উপযোগী করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থায়ী জনবল নিয়োগের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আটকে থাকায় অস্থায়ী জনবল দিয়ে আপতত রেল চালানোর জন্য রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (পাকশী) কাছে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।এ বিষয়ে খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করে মঙ্গলবার (৩০এপ্রিল) চুড়ান্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। লাইন চালুতে দরকার প্রয়োজনীয় জনবল। এই রুটে আটটি স্টেশন ও লাইন ক্লিয়ারিংয়ে ৫৭৬জন জনবলের অর্গানোগ্রাম করা হয়েছে। সেটিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। তবে আপাতত অস্থায়ী জনবল নিয়োগ দিয়ে রেল চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে এ মাসেরই যে কোন দিন রেল চালুর বিষয়টি মাথায় রেখে স্টেশনের আসবাবপত্র, রেলস্টেশন ও রেলক্রসিংগুলোতে অস্থায়ী জনবল নিযুক্ত, রুটে চলাচলকারি রেলের সময় সূচি, ভাড়া ও শিডিউল চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে খুলনা-মোংলা রুটে এ মাসেই বাণিজ্যিকভাবে রেল চলানো হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (পাকশী) বিভাগীয় প্রকৌশলী-০১ (ভারপ্রাপ্ত) বীর বল মন্ডল।প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০সালের ২১ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হয়। জমি অধিগ্রহণ, রেললাইন, রেলসেতু নির্মাণসহ পুরো প্রকল্পের ব্যয় তখন ধরা হয়েছিল ১হাজার ৭২১কোটি টাকা। এরপর ২০১৫সালে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩হাজার ৮০১কোটি ৬১লাখ টাকা। এরপর ২০২১সালে ফের সময় ও ব্যয় বাড়ে। তখন ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪হাজার ২৬০কোটি ৮৮লাখ ৫৯হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০২৩সালের ৩১ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সেই মেয়াদ ২০২৪সালের ৩১মার্চ পর্যন্ত করা হয়। অন্যদিকে প্রকল্পের কাজ রূপসা নদীর ওপর ৫দশমিক ১৩কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রেলসেতু, ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত ৬৪কিলোমিটার রেলপথ হলেও স্টেশনগুলোর ডাবল লাইন হিসাব করে ৯১কিলোমিটার রেলপথ, নয়টি প্ল্যাটফর্ম এবং ১০৭টি ছোট সেতু ও ৯টি আন্ডারপাস নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে সিগনালিং ও টেলিকমিউনিকেশনের কাজও শেষ করা হয়।জানা গেছে, ২০২৩সালের ১লা নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ভার্চুয়ালি খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এর আগে ৩০অক্টোবর ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে রেল চালানো হয়।এদিকে রেল চলাচল শুরু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ ও ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর দিয়ে দ্রুত ও কম খরচে মালামাল পরিবহণ করতে পারবে। মোংলার সঙ্গে রেলপথে যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি আরও গতিশীল হবে মোংলা বন্দর। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন বিকাশে আরো সহায়ক হবে এ রেলপথ।
















