জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাত্র সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনের দাবি :ভিপি নুর

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ৬৬ বার পড়া হয়েছে


ডাকসু-চাকসুসহ সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দিকে যেন যান। এ দুই নির্বাচনের পরে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে- যদি এ সরকার স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করতে হবে। তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার, মেয়ররা সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে।
মঙ্গলবার(২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের ভাদুঘর পালকি কমিউনিটি সেন্টারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে জনআকাঙ্খার রাজনীতি শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূর এসব মন্তব্য করেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুর বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনও রাজনৈতিক জোট করিনি। আগামী নির্বাচনে গণধিকার পরিষদ এককভাবে ট্রাক প্রতীকে সারা দেশে নির্বাচনে অংশ নেবে। সময় হলে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করব। সবাই সেই ভাবে দলকে নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য তৈরী হতে গ্রাম শহর পাড়া মহল্লায় কাজ করার আহবান জানান।
তিনি বলেন, চার মাস পার হলেও দেশে স্থিতিশীলতা আসেনি এবং এই ধরনের মাজা ভাঙা উপদেষ্টাদের দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যদের রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞতা কম, যা সরকারের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করছে। রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এবং এর পরিচালনায় রাজনীতিবিদদেরই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে নুরুল হক বলেন, আপনারা যদি ভেবে থাকেন, কোনও বিশেষ দল ক্ষমতায় আসছে, তাদের সঙ্গে খাতির করে তাদের নিয়ে কাজ করি। ভুল করবেন। কে ক্ষমতায় আসবে এটা এখনই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। নির্বাচন নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে আমরা রাজনীতিবিদদের লুটপাট-দুর্নীতি ও হাসিনার ফ্যাসিবাদের কথা বলছি। হাসিনা ফ্যাসিবাদী হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এ দেশের আমলাতন্ত্র। এসপি বলেন, ডিসি বলেন, তারা বহাল তবিয়তে আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ- দেশ ছাড়ছে। তাদের অনেকের মধ্যে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন। কয়জন এসপি-ডিসি গ্রেফতার হয়েছেন? কয়জন ইউএনও-ওসি গ্রেফতার হয়েছেন? এই ওসি, ডিসি, ইউএনও, এসপিরা হাসিনার আকাম, কুকামের সহযোগী ছিল। হাসিনার বিচারের পাশাপাশি প্রশাসনের মধ্যেও যারা সরকারি আমলাতন্ত্রে নিয়োজিত আছেন, তারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, সহযোগী ছিলেন- তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি অবশ্যই করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, সরকারকে বলছি, আপনাদেরকে ভারতের সঙ্গে শক্তভাবে দেন-দরবার করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে পৃথিবীর বুকে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে- যে ফ্যাসিবাদের পরিণতি এই।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওবায়দুল কাদের নাকি সাড়ে তিন মাস দেশে ছিলেন। অথচ আমরা টেরই পেলাম না। অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবের পরে সবকিছু আইন সংবিধান নিয়মনীতি দিয়ে হয় না। যারা গুম, খুন, হামলা-মামলায় জড়িত ছিল, সবগুলোকে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে ব্রাশফায়ার করা দরকার ছিল।নুরুল হক বলেন, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও চিপায় চাপায় মিছিল করে। আওয়াজ দেয়। কত বড় দুঃসাহস। এখনও তারা আওয়াজ দিচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য আন্দোলনের আমরা যারা অংশীদার নেতা- অনেকেই আমরা দল ভারী করার জন্য আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করছি। জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার এখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। বাজারে সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে। যা সরকার গঠনের পরেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যক্রম না হওয়ায় জনগণ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কাজী রাজীউর হাসান তানভীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দলটির কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ এর সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কেন্দ্রীয় যুব
অধিকার পরিষদের সাধারন সম্পাদক নাদিম হাসান,কেন্দ্রীয় শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় মৎস ও প্রাণী সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল হাসান তপু, কেন্দ্রীয় আইনজীবী অধিকার পরিষদের যুগ্নআহবায়ক এড. মনিরুল ইসলাম , ছাত্র অধিকার পরিষদের কুমিল্লা বিভাগ সাংগঠনিক সম্পাদক রুপনি আহমেদ রাজ, ছাত্র অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ জুয়েল মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মাসুম আহমেদ, জেলা শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি শিব্বির আহমেদ, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহেল রানা রাফি, সদর উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মাও মাসউদুর রহমানসহ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা ও সাবেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।















