দর্শনার্থীদের ভিড় ঠাকুরগাঁওয়েই কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রুহুল আমিন জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও
দিগন্তজোড়া জলরাশি আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এবং স্বচ্ছ পানির মধুর শব্দ – সব মিলিয়ে মনোমুগ্ধকর এক দৃশ্য। এ যেন এক খণ্ড কক্সবাজার—যেখানে বর্ষাকালে প্রতিদিনই ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী। এটি কোনো সমুদ্র সৈকত নয়, নয় কক্সবাজারের ঢেউয়ের খেলা। এটি ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী বাঁধ। বাঁধটি মূলত কৃষিজমি রক্ষার জন্য হলেও, আজ তা হয়ে উঠেছে জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। স্থানীয়রা তাই এর নাম দিয়েছেন—‘মিনি কক্সবাজার’।
বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে দেখা মেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেউ বাঁধের ধারে বসে উপভোগ করছেন স্নিগ্ধ দৃশ্য, কেউবা কাটাচ্ছেন আনন্দঘন সময়। বাঁধের দশটি জলকপাট দিয়ে প্রবাহিত পানির গর্জন এবং বিশাল জলরাশির দৃশ্য—মুগ্ধ করে সবার মন।
এখানে এসে অনেকে মনে করছেন যেন তারা সত্যিই সমুদ্রের ধারে আছেন। স্বচ্ছ পানির মধুর শব্দে মুগ্ধ অনেকে। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ এলাকা থেকে এসেছিলেন মো. আবু হুরাইরা নামে এক যুবক। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ আমি ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। এ স্থানে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ। বিশেষ করে এখানকার স্বচ্ছ পানির ঢেউ ও শব্দ মন-প্রাণ জুড়িয়ে দেয়।’
শহরের রোড এলাকার বাসিন্দা মো. মুন্না নামে এক যুবক বলেন, ‘আমি আমার পরিবার নিয়ে এখানে এসেছি। কক্সবাজারে যাওয়ার তো সৌভাগ্য সবার হয় না, তবে এখানে এসে কক্সবাজারের অনুভূতি পাওয়া যায়।’
শুধু কৃষি বা জীবিকা নয়—আজ এটি হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁওবাসীর অন্যতম বিনোদনের স্থান। শিশুদের হাসি এবং তরুণদের উচ্ছ্বাসে ভূল্লী বাঁধ যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
তবে ভূল্লী বাঁধে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। বসার জায়গা, স্যানিটেশন কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায়, এখানে ভ্রমণে আসাটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। তাই দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের দাবি—সরকারি উদ্যোগে যদি এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা যায়, তাহলে ভূল্লী বাঁধ হয়ে উঠতে পারে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি দূরে অবস্থিত এই বাঁধটি ১৯৯৬ সালে সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নে নির্মিত হয়। এটা নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষিকাজে পানির ব্যবহার। এখানে বর্ষার সময় পানি ধরে রাখা হয় আর খরার মৌসুমে সেই পানি সেচের কাজে ব্যবহার করেন কৃষকরা। বাঁধ ঘিরে গড়ে উঠেছে মানুষের জীবিকা। এখানে মাছ শিকার করে সংসার চলে জেলেদের। এছাড়া কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচান এই বাঁধের পানি দিয়ে।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্য সহকারী মো. সফি জামান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘ প্রতি বছর এই বাঁধের মাধ্যমে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পান কৃষকরা। পাশাপাশি এটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয় বর্ষাকালে। দিগন্তজোড়া জলরাশি আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে ভূল্লী বাঁধ এখন বিনোদনপ্রেমীদের একটি জনপ্রিয় ঠিকানা।












