নারায়ণগঞ্জের চনপাড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪
- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের চনপাড়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের আলোচিত চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে চারজনকে ধরে নিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে আজ শুক্রবার ভোর চারটা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও চনপাড়া (সাংগঠনিক ইউনিয়ন) আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শমসের আলী ও পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি মো. শাওন এসব হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেছেন, গত রাতে বিভিন্ন মামলার চার আসামিকে চনপাড়া থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে গ্রেপ্তার চারজনের পরিচয় তিনি জানাননি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার রাজমিস্ত্রি আলী আকবর (৪০), সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. নুরুল হক, ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. জুলহাস ও ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বিএনপি কর্মী মো. হানিফকে আওয়ামী লীগের লোকজন ধরে নিয়ে চনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের হাতে তুলে দেন। এ ছাড়া অন্তত চারজন বিএনপি নেতার বাড়িঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়েছে। আলী আকবর চনপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহিনের বাবা।
চনপাড়ার কয়েক বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে শমসের আলী ও শাওনের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় যান। সেখানে তাঁরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহানের খোঁজ করেন। তাঁকে না পেয়ে তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরে তাঁর বাবা, মা ও ছোট তিন ভাইকে বাড়ি থেকে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। রাতে তাঁর মা–বাবা এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। রাত দেড়টায় তাঁরা পুনর্বাসন কেন্দ্রের পাশে বটতলা এলাকায় শাহজাহানের ভাড়া করা বাসায় হামলা চালান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশ ছিল বলে শাহজাহান অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার এড়াতে ১০ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমাকে না পেয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।’
এদিকে রাতে ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার যুবদল নেতা মো. আল আমিন, ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. লিটন ও আলী আকবরের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আলী আকবরের স্ত্রী মুক্তা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ ভোর চারটার দিকে মেম্বারের লোকজন আমাগো গেইট ভাইঙ্গা ওনারে ধইরা নিয়া গেল। বাধা দেওয়ায় ওরা আমার ননদরে মাইরধর করছে। পরে আমরা পেছন পেছন যাইয়া দেখলাম, রাস্তায় দাঁড়ানো একটা পুলিশের গাড়িতে তুলল।’
এ বিষয়ে কথা বলতে আওয়ামী লীগ নেতা শমসের আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। মো. শাওনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এফ এম সায়েদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের কোনো খবর আমরা পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে চনপাড়ার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’
চনপাড়া বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১৬ অক্টোবর থেকে চনপাড়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিন দিন ধরে কোনো নেতা-কর্মী আর এলাকায় থাকতে পারছেন না। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিতে বাধা দিতে নেতা-কর্মীদের এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।















