ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

পলাশ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন

রিপোর্টার ওয়াজ উদ্দিন 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪ ৮০ বার পড়া হয়েছে

ছেলের ছবি হাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে অঝরে কেঁদে চলেছেন মা বেনু বেগম। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকার মিরপুর থেকে রওনা হয়েছিল ছেলে ফিরোজ তালুকদার পলাশ (৩৮)। তবে বিধিবাম, সেদিন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে পড়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে মারা যান পলাশ।রোববার (২৮ জুলাই) বিকেলে কোটা আন্দোলনে নিহত পলাশের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দি এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পলাশের মা বেনু বেগম ছবি হাতে নিয়ে কান্না করছে। বাড়িতে সুনসান নিরবতা। একটি কাচা টিনের ঘরে পলাশের মা বসবাস করেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে প্রতিবেশীরা। তবে পলাশের স্ত্রীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্বামীর অবর্তমানে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পলাশের মৃত্যুর কয়েকদিন পরই কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে স্ত্রী রেশমা খাতুনকে।জানা গেছে, ৫ বছর আগে নিহত পলাশ ঢাকার মিরপুর ১২ এলাকায় রংপুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে অফিস সহায়ক (পিয়ন) হিসেবে চাকরি করে আসছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) সারাদেশে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুরো দেশ যখন টালমাটাল ঠিক তখনই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পলাশের মন অস্থির হয়ে ওঠে। মায়ের সাথে দেখা করতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হঠাৎ পুলিশের ছোড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পলাশ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মিরপুরের আলোক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পলাশের ব্যবহৃত মোবাইলে থাকা তার মায়ের নম্বরে ফোন করে জানানো হয় তার ছেলে মারা গেছে। পলাশের স্ত্রী খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পায়। ওই দিন গভীররাতেই অ্যাম্বুলেন্সে পলাশের মরদেহ আনা হয় তাদের গ্রামের বাড়িতে। পরেরদিন শনিবার (সকালে) ঘাটান্দির তালুকদার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।পলাশের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ইশরাত জাহান সাবিনা বলেন, পলাশের বুকে একটা গুলি করা হয়েছে। তার পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়েছিল। ৭বছরের ছোট্ট মেয়ে তার বাবাকে হারালো। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তার সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছে। এইভাবে কারোর মৃত্যু হবে এটা ভাবা যায় না। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও বাড়িতে এসেছিল সে। অনেক স্বপ্ন ছিল তার। কে জানতো বাড়ি আসার জন্য তাকে মরতে হবে।নিহত পলাশের মা বেনু বেগম বলেন, আমার বাবাকে গুলি করে মেরেছে পুলিশেরা। একটা গুলি লেগেছে তার বুকে। পায়েও গুলির লাগছে। বাসার থেকে আমার কাছে আসতে চাইছিল আমার বাবা। গাড়ি পায় নাই আসার জন্য। আমার দুই ছেলের একটা চইলা গেল আমাকে ছেড়ে। আমি বিচার চাই। আমার নাতনি ছেলের বউ তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পলাশ মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত হন

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৪৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০২৪

ছেলের ছবি হাতে ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে অঝরে কেঁদে চলেছেন মা বেনু বেগম। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকার মিরপুর থেকে রওনা হয়েছিল ছেলে ফিরোজ তালুকদার পলাশ (৩৮)। তবে বিধিবাম, সেদিন শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনে পড়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে মারা যান পলাশ।রোববার (২৮ জুলাই) বিকেলে কোটা আন্দোলনে নিহত পলাশের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ঘাটান্দি এলাকায় তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পলাশের মা বেনু বেগম ছবি হাতে নিয়ে কান্না করছে। বাড়িতে সুনসান নিরবতা। একটি কাচা টিনের ঘরে পলাশের মা বসবাস করেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে প্রতিবেশীরা। তবে পলাশের স্ত্রীকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। স্বামীর অবর্তমানে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে পলাশের মৃত্যুর কয়েকদিন পরই কর্মস্থলে যোগ দিতে হয়েছে স্ত্রী রেশমা খাতুনকে।জানা গেছে, ৫ বছর আগে নিহত পলাশ ঢাকার মিরপুর ১২ এলাকায় রংপুর কেমিক্যাল কোম্পানিতে অফিস সহায়ক (পিয়ন) হিসেবে চাকরি করে আসছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) সারাদেশে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুরো দেশ যখন টালমাটাল ঠিক তখনই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পলাশের মন অস্থির হয়ে ওঠে। মায়ের সাথে দেখা করতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হঠাৎ পুলিশের ছোড়া গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে পলাশ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মিরপুরের আলোক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পলাশের ব্যবহৃত মোবাইলে থাকা তার মায়ের নম্বরে ফোন করে জানানো হয় তার ছেলে মারা গেছে। পলাশের স্ত্রী খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পায়। ওই দিন গভীররাতেই অ্যাম্বুলেন্সে পলাশের মরদেহ আনা হয় তাদের গ্রামের বাড়িতে। পরেরদিন শনিবার (সকালে) ঘাটান্দির তালুকদার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।পলাশের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ইশরাত জাহান সাবিনা বলেন, পলাশের বুকে একটা গুলি করা হয়েছে। তার পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়েছিল। ৭বছরের ছোট্ট মেয়ে তার বাবাকে হারালো। ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে তার সাথে সর্বশেষ কথা হয়েছে। এইভাবে কারোর মৃত্যু হবে এটা ভাবা যায় না। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও বাড়িতে এসেছিল সে। অনেক স্বপ্ন ছিল তার। কে জানতো বাড়ি আসার জন্য তাকে মরতে হবে।নিহত পলাশের মা বেনু বেগম বলেন, আমার বাবাকে গুলি করে মেরেছে পুলিশেরা। একটা গুলি লেগেছে তার বুকে। পায়েও গুলির লাগছে। বাসার থেকে আমার কাছে আসতে চাইছিল আমার বাবা। গাড়ি পায় নাই আসার জন্য। আমার দুই ছেলের একটা চইলা গেল আমাকে ছেড়ে। আমি বিচার চাই। আমার নাতনি ছেলের বউ তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে।