বহিরাগতদের দিয়ে জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজ থেকে অধ্যক্ষকে জোর করে অপসারণ

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:০৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ৯৬ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষক নির্যাতন ও পদত্যাগে বাধ্য করার ধারাবাহিকতার জের ধরে সম্প্রতি শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ইনস্টিটিউশন কলেজ” থেকে কতিপয় শিক্ষক ও স্থানীয়দের যোগসাজশে অধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ আজিজ কে বল পূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।জানা গেছে অধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ আজিজ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯ বছর অধ্যক্ষ পদে সেবা দিয়ে আসছিলেন। শিক্ষক ও ছাত্র মহলে তার যথেষ্ট সুনাম ও জনপ্রিয়তা ছিল। তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মীও ছিলেন। আবৃত্তি, যন্ত্র সংগীতে দেশে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।জানা যায়, তার এই পদত্যাগের পিছনে নাটের গুরু হয়ে কাজ করছেন এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি যার মধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি ও অভিনেত্রী আসফাহ হক লোপা ও তার স্বামী মাহি বি চৌধুরী (সাবেক এমপি) অন্যতম। সাথে তাদের পোষ্য সাবেক ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির কিছু বিপথগামী সদস্য। গত ৫ আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরে ৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার মধ্যে মাদ্রাসাও রয়েছে মারধর, ভাংচুর ও জোর করে অধ্যক্ষ, শিক্ষকদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে ডিজি থেকে এসব পদত্যাগ বৈধ নয় এবং যার যার কাজে যোগদানের জন্য প্রত্যককে চিঠি ইস্যু করা হয়।চিঠি পেয়ে জগদীশ চন্দ্র বসু কলেজের অধ্যক্ষ, ফরহাদ আজিজ কলেজে যোগদান করতে যান ওই সময় অভিনেত্রী লোপা ও মাহি বি চৌধুরীর কিছু ভাড়াটে লোকজন কলেজে অবস্থান করেন তারা অধ্যক্ষকে দেখতে পেয়ে উছৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা তাদের প্রিয় শিক্ষক অধ্যক্ষকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন কিন্তু বহিরাগত সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত থাকায় তারা তাদের সাথে পেরে ওঠেননি। পরে তাকে ধাওয়া করে তার গাড়ি ভাংচুর, গাড়িতে থাকা ল্যাপটপ, জরুরি কাগজ পত্র ও নগদ টাকা লুটপাট শেষে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে সন্ত্রাসীরা আবার তাকে কলেজে নিয়ে আসেন এবং জোর করে পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর নেন এবং এগুলো স্বেচ্ছায় হাসিমুখে করেছেন এমন নাটক পূর্ণ ভিডিও করাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বাধ্য করেন। উল্লেখ্য, কলেজের বিগত দিনের আয়ের একটা মোটা অংশ এবং বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি সাবেক কমিটির সদস্যরা ভোগ করে আসছিল। যা মামলা মোকদ্দমা করে অধক্ষ ফরহাদ আজিজ কলেজের নামে ফিরিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। যার জন্য এইসব প্রভাবশালীদের শত্রুতে পরিনত হন তিনি। ফলে এই সরকার পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা একজন যোগ্য এবং সাংস্কৃতিক চেতনা সম্পন্ন শিক্ষক কে অপমান অপদস্ত করে কলেজ থেকে অপসারণ করেন। বিশেষ ভাবে লক্ষ্যনীয়, যেখানে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষুব্ধ ছাত্র ছাত্রীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিভিন্ন অনিয়মের কারণে পদত্যাগে বাধ্য করান আর এখানে ঘটেছে তার সম্পুর্ন উল্টোটা।এ ব্যাপারে আশা করি দেশের শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবশ্যই নজর দিবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সচেতন মহল মনে করেন।












