রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: শোকের ছায়া গোটা দেশে

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার : রফিকুল ইসলাম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট-এ গত ২৫ মার্চ ২০২৬ বিকেলে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো দেশে। উদ্ধার অভিযান শেষে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল প্রায় ৫টা ১৫ মিনিটে ৩ নম্বর পন্টুনে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি ফেরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় ৬০ ফুট গভীর পদ্মা নদী-এর পানিতে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ প্রায় ৬ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ডুবে যাওয়া বাসটিকে পানির ওপর তুলতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার কাজ চলাকালে:
ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়
প্রথম দিন ২৩ জন এবং পরদিন আরও ৩ জনের মরদেহ পাওয়া যায়
নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে
বেঁচে ফেরা যাত্রীদের বর্ণনা
বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১১ জন যাত্রী সাঁতরে বা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানান, দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে অধিকাংশ যাত্রী কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানির নিচে তলিয়ে যান।
হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো
এই দুর্ঘটনায় উঠে এসেছে বহু মর্মস্পর্শী কাহিনি—
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থী রায়হানসহ একই পরিবারের ৩ সদস্য নিহত
ঝিনাইদহের শৈলকুপার এক মা ও তার ৭ মাস বয়সী শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার
রাজবাড়ীর নবদম্পতি সাঈফ আহমেদ ও জহুরা অন্তি—যাদের বিয়ে হয়েছিল মাত্র এক বছর আগে—তাদের জানাজা শেষে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে
এসব দৃশ্য উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয়দের চোখে অশ্রু ঝরিয়েছে, তৈরি করেছে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্তে উদ্যোগ নিয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের কথাও জানানো হয়েছে।
উপসংহার
দৌলতদিয়া ঘাটের এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এক মুহূর্তের অসতর্কতা কেড়ে নিয়েছে বহু প্রাণ, ভেঙে দিয়েছে অসংখ্য পরিবার।
দেশবাসী এখন শোকাহত, আর স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।




















