শব্দ দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ছাত্র-যুব সমাবেশ ও র্যালী

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অক্টোবর ২০২৪ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

মাত্রাতিরিক্ত শব্দ শুধুমাত্র মানবজীবনেই নয়, জীববৈচিত্রের জন্যও ক্ষতিকর। শব্দ দূষণ চোখে দেখা যায় না। তাই এর ক্ষতিকর বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করি। অথচ শব্দ দূষণ মাথার চুল থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীবের বিভিন্ন অজের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৬ সম্পর্কে মানুষকে অবগত করতে হবে এবং এই আইনটির ব্যাপক প্রাচাধনার প্রয়োজন রয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলকে সুনাগরিকের পরিচয় দিতে হবে। ২০২২ সালে UNEP এর একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণকারী শহরের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এই সমস্যার প্রধান উৎস বলো যানবাহনের হর্ন। শব্দদূষণ থেকে শুরু করে নির্মাণকাজ, কারখানা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর মাইকের শব্দ শহরের মানুষকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের হর্ন এ সমস্যার মূল কারণ।শব্দদূষণ। এক নিরব ঘাতক।দীর্ঘমেয়াদি শব্দদূষণ মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।উচ্চ মাত্রার শব্দ শিশু, গর্ভবর্তী নারী এবং হৃদরোগীদের অন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।হঠাৎ উচ্চ শব্দ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দেয় এবং পরিপাক ক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে। শ্রবণশক্তি কমে গেলে বিষগৃনতা, স্মৃতিভ্রংশ এবং অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।বিশেষজ্ঞদের মতামত।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসানুল হক বলেছেন, রাজধানীর শব্দদূষণের কারণে মাত্য সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাঁর কাছে আসা রোগীদের ৪০ শতাংশেরও বেশি কানে সমস্যায় ভুগছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের ২০ শতাংশ মারাত্মক শ্রবণশক্তি হ্রাসে আক্রান্ত। অধিক মাত্রায় শব্দ দূষণের ফলে ঘুম কমে যাওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা, বমিভাব হওয়া, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, পড়া লেখা বিঘ্নিত হওয়া, অস্বস্তিবোধসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হতে পারে। প্রতিনিয়ত শব্দদূষণ বাড়াচ্ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। গবেষণা বলছে, প্রায় ৩০টি জটিল রোগের অন্যতম উৎস শব্দ দূষণ। শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামীতে অসুস্থ প্রজন্ম জন্ম নেবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। শব্দ দূষণের ফলে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। যা স্ট্রোক, হার্ট এট্যাক ও হার্ট ফেইলিয়রের সম্ভবা বাড়িয়ে তোলে।আইন আছে, নেই প্রয়োগ:শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ এবং সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, হর্ন বাজানোর জন্য নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। তবে আইন কার্যকর না হওয়ায় এ সমস্যা এখনও সমাধান হয়নি। জরিমানার বিধান থাকলেও তা কার্যকর হয়নি সেভাবে।হর্ন নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ:অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জরিমানা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এবং পরে পুরো শহর জুড়ে হর্নমুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাজ করছে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরের আশেপাশের ৩ কিমি এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুরো ঢাকাকে হর্নমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। শব্দদূষণ রোধে সচেতনতার জন্য পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস কাজ করে যাচ্ছে।ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন, শব্দ দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন।















