ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

শৈশবের নির্ভেজাল ভালোবাসার গ্রাম: 

মোঃআনজার শাহ, স্টাফ রিপোর্টার।
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৫২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

গ্রাম নিয়ে কয়েকটি লেখায় পরিচিত অনেকেই বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন, ফোনে কথা বলেছেন। লেখাগুলোকে হয়তো অনেকে নেতিবাচক ভেবেছেন। কিন্তু লেখাগুলো ইতিবাচক। আমাদের শৈশবের গ্রাম ছিল আনন্দময়। ছেলেবেলায় গ্রামের পরিবেশ ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক। পরস্পরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ দাওয়াত উৎসব অনুষ্ঠানে সবাই মিলেমিশে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিত। কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। গ্রামের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মুরুব্বীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ছিল আদর্শ অনুশাসন। গ্রাম থেকে উঠে আসা সন্তানেরাই সমাজ জাতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হত। বিদেশ থেকে কিংবা শহর থেকে কেউ গ্রামে আসলে ভিন্ন রকম আনন্দের আমেজ বিরাজ করত। ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত থাকতো। কারো বাসায় ভালো কিছু রান্না হলে প্রতিবেশীর সাথে শেয়ার করত। একজনের পারিবারিক কাজে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতো। অনেক ধন সম্পদ অর্থবিত্ত হয়তো ছিল না কিন্তু কারো মাঝে আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ছিল। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা সামাজিক রীতির মধ্যে ছিল। অন্যায় কাজ দেখলে যে কেউ যে কারো সন্তানকে শাসন করতে পারত। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ছিল। খেলাধুলার ক্ষেত্রে গ্রাম ছিল অনন্য অসাধারণ। মেম্বার চেয়ারম্যান কিংবা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আদর্শ মানুষকে সকলে বেছে নিত। দুরন্ত কৈশোরের আদর্শ জায়গা ছিল গ্রাম বাংলা। পরিবারের কাজে সকল সদস্য সহযোগিতা করত। একটি দুটি টেলিভিশন ছিল সকলে মিলেমিশে দেখত। এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে যাতে আমাদের শৈশব কৈশোর সমৃদ্ধ ছিল। শিল্পায়ন ও শহরায়নের প্রভাবে গ্রামের পরিবেশ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ইতিবাচক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে আশা ব্যঞ্জক কিন্তু প্রতিনিয়ত গ্রামীণ পরিবেশ যেভাবে নেতিবাচক ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তার চরম মূল্য দিতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে। যারা শহরে কিংবা বিদেশে থাকে তাদের কাছে গ্রাম অত্যন্ত আবেগের জায়গা। গ্রামের যেকোনো ভালো খবর তাদেরকে যেমন আনন্দিত করে নেতিবাচক খবর তাদেরকে ততধিক দুঃখিত করে। সমাজ এবং ধর্ম এখন বহুধা বিভক্ত। আগে সমাজে ধর্মীয় এবং সামাজিক হানাহানি তেমন একটা ছিল না। এখন গ্রামগুলোতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে অনেক বেশি কিন্তু সেভাবে ভালো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। ধর্মীয় শিক্ষার অন্তরালে দিন দিন অপধর্ম প্রবেশ করছে বিভিন্নভাবে। অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়। গ্রাম প্রকৃতিগতভাবে যতটা স্নিগ্ধ মোহনীয় ঠিক সেভাবেই গ্রামকে রাখা উচিত। সকলের প্রতি সকলের সম্মান বোধ, আদর স্নেহ ভালোবাসা আগের মত যেন অটুট থাকে সেটাই সবাই প্রত্যাশা করে। কিন্তু সর্বত্র রাজনীতির বেড়াজালে বন্দী হয়ে গ্রামের মানুষদের পরস্পরের সাথে পরস্পর ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। মীর মোশারফ হোসেন বলেছেন” বলেছেন এ রাজচক্র এর মর্মবেদ করা কঠিন”আমার ধারণা অতি রাজনীতির বেড়াজালেই মানুষ বেশি দ্বিধা বিভক্ত হচ্ছে, পাশাপাশি এত বেশি সংখ্যক ধর্মীয় মতপার্থক্য এবং গুষ্টি গড়ে উঠেছে তার পরিণতি কোন দিকে যায় ভাবলে হতাশা আসে। ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় বিরোধ মিটমাট করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করা উচিত। জীবন অতি সংক্ষিপ্ত। এক জীবনে এত জটিলতা সৃষ্টি করে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলার কোন মানে হয় না। মাদক সমস্যা সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যা সুস্থ ধারার সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ। পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এ সকল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমা করে দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের স্বস্তি আসে। সুযোগ থাকলে কারো উপকার করা উচিত ক্ষতি নয়। ধর্মীয় শিক্ষিত মানুষদেরকে যথাযথ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হতে হবে। বেকারত্ব হতাশা সৃষ্টি করে। গ্রামে ফিরে আসুক আগের মত স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ। আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর গ্রামীন পরিবেশ পাক সেটাই প্রত্যাশা।। প্রকৃতির কোলেই সবাই ফিরতে চায় তাইতো কেউ কখনোই গ্ৰামকে অস্বীকার করতে পারবে না।।সবাই ভালো থাকুন এই প্রত্যাশা।।লেখাটি সংগ্রহীত মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম( বার)উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)   (অতিরিক্ত ডিআইজি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শৈশবের নির্ভেজাল ভালোবাসার গ্রাম: 

নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:৫২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

গ্রাম নিয়ে কয়েকটি লেখায় পরিচিত অনেকেই বিভিন্ন মতামত দিয়েছেন, ফোনে কথা বলেছেন। লেখাগুলোকে হয়তো অনেকে নেতিবাচক ভেবেছেন। কিন্তু লেখাগুলো ইতিবাচক। আমাদের শৈশবের গ্রাম ছিল আনন্দময়। ছেলেবেলায় গ্রামের পরিবেশ ছিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক। পরস্পরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ দাওয়াত উৎসব অনুষ্ঠানে সবাই মিলেমিশে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নিত। কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। গ্রামের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মুরুব্বীদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। ধর্মীয় ক্ষেত্রে ছিল আদর্শ অনুশাসন। গ্রাম থেকে উঠে আসা সন্তানেরাই সমাজ জাতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হত। বিদেশ থেকে কিংবা শহর থেকে কেউ গ্রামে আসলে ভিন্ন রকম আনন্দের আমেজ বিরাজ করত। ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত থাকতো। কারো বাসায় ভালো কিছু রান্না হলে প্রতিবেশীর সাথে শেয়ার করত। একজনের পারিবারিক কাজে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতো। অনেক ধন সম্পদ অর্থবিত্ত হয়তো ছিল না কিন্তু কারো মাঝে আন্তরিকতার কোন ঘাটতি ছিল না। সামাজিক বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ছিল। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা সামাজিক রীতির মধ্যে ছিল। অন্যায় কাজ দেখলে যে কেউ যে কারো সন্তানকে শাসন করতে পারত। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক প্রতিযোগিতা ছিল। খেলাধুলার ক্ষেত্রে গ্রাম ছিল অনন্য অসাধারণ। মেম্বার চেয়ারম্যান কিংবা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বজন শ্রদ্ধেয় আদর্শ মানুষকে সকলে বেছে নিত। দুরন্ত কৈশোরের আদর্শ জায়গা ছিল গ্রাম বাংলা। পরিবারের কাজে সকল সদস্য সহযোগিতা করত। একটি দুটি টেলিভিশন ছিল সকলে মিলেমিশে দেখত। এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে যাতে আমাদের শৈশব কৈশোর সমৃদ্ধ ছিল। শিল্পায়ন ও শহরায়নের প্রভাবে গ্রামের পরিবেশ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। ইতিবাচক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে আশা ব্যঞ্জক কিন্তু প্রতিনিয়ত গ্রামীণ পরিবেশ যেভাবে নেতিবাচক ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে তার চরম মূল্য দিতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে। যারা শহরে কিংবা বিদেশে থাকে তাদের কাছে গ্রাম অত্যন্ত আবেগের জায়গা। গ্রামের যেকোনো ভালো খবর তাদেরকে যেমন আনন্দিত করে নেতিবাচক খবর তাদেরকে ততধিক দুঃখিত করে। সমাজ এবং ধর্ম এখন বহুধা বিভক্ত। আগে সমাজে ধর্মীয় এবং সামাজিক হানাহানি তেমন একটা ছিল না। এখন গ্রামগুলোতে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে অনেক বেশি কিন্তু সেভাবে ভালো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। ধর্মীয় শিক্ষার অন্তরালে দিন দিন অপধর্ম প্রবেশ করছে বিভিন্নভাবে। অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়। গ্রাম প্রকৃতিগতভাবে যতটা স্নিগ্ধ মোহনীয় ঠিক সেভাবেই গ্রামকে রাখা উচিত। সকলের প্রতি সকলের সম্মান বোধ, আদর স্নেহ ভালোবাসা আগের মত যেন অটুট থাকে সেটাই সবাই প্রত্যাশা করে। কিন্তু সর্বত্র রাজনীতির বেড়াজালে বন্দী হয়ে গ্রামের মানুষদের পরস্পরের সাথে পরস্পর ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। মীর মোশারফ হোসেন বলেছেন” বলেছেন এ রাজচক্র এর মর্মবেদ করা কঠিন”আমার ধারণা অতি রাজনীতির বেড়াজালেই মানুষ বেশি দ্বিধা বিভক্ত হচ্ছে, পাশাপাশি এত বেশি সংখ্যক ধর্মীয় মতপার্থক্য এবং গুষ্টি গড়ে উঠেছে তার পরিণতি কোন দিকে যায় ভাবলে হতাশা আসে। ছোট ছোট অপ্রয়োজনীয় বিরোধ মিটমাট করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করা উচিত। জীবন অতি সংক্ষিপ্ত। এক জীবনে এত জটিলতা সৃষ্টি করে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলার কোন মানে হয় না। মাদক সমস্যা সমাজের প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যা সুস্থ ধারার সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি স্বরূপ। পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের মাধ্যমে এ সকল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমা করে দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের স্বস্তি আসে। সুযোগ থাকলে কারো উপকার করা উচিত ক্ষতি নয়। ধর্মীয় শিক্ষিত মানুষদেরকে যথাযথ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হতে হবে। বেকারত্ব হতাশা সৃষ্টি করে। গ্রামে ফিরে আসুক আগের মত স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ। আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর গ্রামীন পরিবেশ পাক সেটাই প্রত্যাশা।। প্রকৃতির কোলেই সবাই ফিরতে চায় তাইতো কেউ কখনোই গ্ৰামকে অস্বীকার করতে পারবে না।।সবাই ভালো থাকুন এই প্রত্যাশা।।লেখাটি সংগ্রহীত মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম( বার)উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)   (অতিরিক্ত ডিআইজি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।