সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন মানববন্ধন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১২১ বার পড়া হয়েছে

সকল শ্রমিকের জন্য শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবীতে “বিশ্ব শোভন কর্মদিবস-২০২৪” উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও র্যালিঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৪: আজ শুক্রবার, সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা, এর সামনে সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন ও সেইফটি এন্ড রাইটস সোসাইটি’র (এসআরএস) যৌথ আয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিক, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের জন্য শোভন কাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবীতে বিশ্ব শোভন কর্মদিবস-২০২৪ উপলক্ষে মানব বন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান এসআরএস এর নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা বলেন, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিকসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে প্রায় ৭ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার শ্রমিক, যার মধ্যে কৃষি খাতে রয়েছে ৪৫ ভাগ এবং শিল্প ও সেবা খাতে যথাক্রমে ১৭ ও ৩৮ ভাগ। জিডিপির বড় অবদান ও বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগ অর্থের যোগান আসে গার্মেন্টস, অভিবাসী, চামড়াজাত পণ্য, ঔষধ ও কৃষি ইত্যাদি খাতের শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে। শ্রমিকদের এ অবদানের কারণেই দেশের অর্থনীতি এখনও টিকে আছে। তিনি আরো বলেন, শোভন কর্মপরিবেশের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আইএলও “Advancing Decent Work in Bangladesh” কর্মসূচি ঘোষনা করেছে। ইউরোপিয়ান ক্রেভাগোষ্ঠিরও আকাঙ্খা আছে শোভন কর্মপরিবেশের প্রতি। বাস্তবতা হচ্ছে পোশাক খাত ছাড়া অন্য সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক এসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভাই আজকের এই দিনে সকল শ্রমিকের জন্য শোভনকাজ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিভ করার জোর দাবী জানান তিনি। এ লক্ষে সরকার, মালিক, ট্রেড ইউনিয়ন, নাগরিক সমাজ, অধিকার ভিত্তিক সংস্থা ও আর্ন্তজাতিক দাতা সংস্থাসহ সকলকে আরো দৃড়ভাবে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নাহিদুল হাসান নয়ন বলেন, দেশ গড়ার কারিগর ও উন্নয়নের চালিকা শক্তি হচ্ছে ১১৫টি সেক্টরের শ্রমিক। কিন্তু শ্রম আইন মোতাবেক মাত্র ৪৬টি সেক্টরের শ্রমিকদের স্বীকৃতি আছে। দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিককে শ্রম আইনে স্বীকৃতি দিতে হবে। শ্রমিকের মৌলিক ও সামাজিক অধিকার, জাতীয় নিম্নতম মজুরী, আইএলও কনডেনশন মোতাবেক কর্মঘন্টা, শোভনকাজ ও সামাজিক নিরাপত্তা, ছুটি, ৬ মাস প্রসূতিকালীন সুবিধা, ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান এবং ন্যায়বিচারের মত গুরুপূর্ণ বিষয় থেকে শ্রমিক বঞ্চিত। আর্ন্তজাতিক শ্রমমান, বাংলাদেশ শ্রমআইন ও এসডিজি লক্ষমাত্রা অনুযায়ী সকল শ্রমিকের জন্য শোভনকাজ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবী জানান তিনি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় শ্রমিকদেরকে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান, জলবায়ুর প্রভাবের কারণে চাকুরীচ্যুত ও কর্মহীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণবাসন, জাস্ট টানজিশান মোকাবেলায় শ্রমিকদের বিশেষ করে নারীদের অটোমেশন পরিচালনায় উচ্চতর দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতি আহবান জানান।মানব-বন্ধন কর্মসুচিতে বক্তারা সরকারের নিকট নিম্নের দাবীগুলো তুলে ধরেন:১. সকল শ্রমিকের জন্য অভিন্ন শ্রম আইন কার্যকর করতে হবে। ইপিজেড ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরতসকল শ্রমিকদের অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন, যৌথ দরকষাকষির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।২. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিককে শ্রম আইনে স্বীকৃতি দিতে হবে।৩. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিকদেরকে শ্রম ও কর্মস্থান মন্ত্রনালয়ের মাধ্যেমে ডাটাবেস তৈরী করে তাদেরকে ছবিসহ আইডি কার্ড প্রদান হবে।৪. জাতীয় নিম্নতম মজুরী বোর্ড গঠন করে সকল শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ঘোষনা করতে হবে।৫. সকল শ্রমিকের জন্য শোভনকাজ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ৬. সকল শ্রমিকের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।৭. যেকোন মহামারী দেখা দিলে সেই সময় কর্মরত সকল শ্রমিক ও কর্মচারীদেরকে ঝুঁকিভাতা দিতে হবে। ৮.সকল নারী শ্রমিকের জন্য সরকারী কর্মচারীদের ন্যায় ৬ মাস প্রসূতিকালীন ছুটি দিতে হবে। আইএলও কনভেনশন-১০২, ১২১, ১৮৯ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর করতে হবে। ৯.১০. চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নিশ্চিয়তা দিতে হবে।১১. শ্রমঘন অঞ্চলে শ্রমজীবীদের জন্য আধুনিক পরীক্ষাগারসহ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ১২. জলবায়ুর প্রভাবের করণে চাকুরীচ্যুত ও কর্মহীন শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণবাসন করতে হবে।১৩. বেকার, অক্ষম, বয়স্ক এবং অবসরকৃত শ্রমজীবীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো/বলয় গড়ে তুলতে হবে। ১৪. শ্রমজীবীদের জন্য কমমূল্যে বা রেসনিং পদ্ধতীতে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সামগ্রী প্রদান করতে হবে।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত ও সম্প্রতি আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে মাগফেরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থ্যতা ও নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা- সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের আখি, তারেক আহম্মেদ, নাসির উদ্দিন, শিউলি আক্তার, পারভীন আক্তার, সুমি আক্তার, আরিফা আক্তার, আদুরি আক্তার আঁখি, দিদারুল আলম, মাহবুব টিটু, শহিদুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, হনুফা খাতুন, মিজানুর রহমান, জামাল ভালুকদার, তানবির আহম্মেদ, মনির হোসেন, শিপন, নাইম খান, হুমায়ন, সেইফটি এন্ড রাইটস সোসাইটির বি-আম্মা মল্লিকা, প্রকল্প কর্মকর্তা, এডভোকেট ফারুক হোসেন, সহকারী আইন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।















