সীতাকুণ্ডে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫ ৪৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার: জয়নাল আবদিন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে একদল সন্ত্রাসী কর্তৃক সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এ ঘটনাকে স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর নগ্ন আঘাত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নিন্দা ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সংবাদকর্মীরা জনগণের সত্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের উপর হামলা মানে গণমানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার প্রচেষ্টা। দেশের সংবিধান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, অথচ বাস্তবে সাংবাদিকরা নিরন্তর হামলা, মামলা ও হুমকির শিকার হচ্ছেন—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অশনিসংকেত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি কামরুল হাসান, স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিনসহ অনেকে।
বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, “গণমাধ্যমকে যদি দমিয়ে রাখা হয়, তবে সমাজে অন্যায়-দুর্নীতি আরও বৃদ্ধি পাবে। সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রতিবাদ সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে লালদিঘি মোড় প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী এবং শিক্ষাবিদরাও সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, সত্য প্রকাশের অপরাধে কোনো সাংবাদিক যাতে কখনো নির্যাতনের শিকার না হয়, সে জন্য জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতনবিরোধী কমিশন গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
উপসংহার:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাটি গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর এক গুরুতর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।















