সেন্ট মার্টিন, পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিধিমালা সংশোধন ও মূসক প্রত্যাহারের দাবী টোয়াবের।

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:২৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

পর্যটন শিল্পের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সরকারের সেন্ট মার্টিন বিষয়ক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা বাতিল, ট্যুর অপারেটর সেবার উপর ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ট্যুর অপারেটর ও ট্যুরগাইড আইনের বিধিমালায় উল্লেখিত জামানত বাতিল ও বিভিন্ন অসংগতি পূরীকরণ বিষয়ক একটি সংবাদ সম্মেলন আজ ২৪(অক্টোবর)বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেস ক্লাব আব্দুস সালাম হলে আয়োজন করা হয়।
টোয়াবের সভাপতি মোঃরাফিউজ্জামান বলেন, আমাদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন ও পর্যটক যাতায়াত সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নভেম্বর মাসে সেন্টমার্টিনে কোনো পর্যটক রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। আর ফেব্রুয়ারি মাসে সেন্টমার্টিন সরকার পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখলে পরিষ্কার পরিস্বল্পতার জন্য। এতে করে পর্যটন শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং সাধারণ উদ্যোক্তারা সর্বশান্ত হয়ে যাবে। সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাস করে। এরা সধ্যই পর্যটনের উপর নির্ভরশীল। সেন্টমার্টিনে পর্যটন বন্ধ হলে এরা সবাই বেকার হয়ে যাবে। সেই সাথে উদ্যোক্তাদের আর্থিক বিনিয়োগ এখন কুকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞার কারনেও পর্যটন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়ও ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন গেজেটে কিছু নিয়ম ও শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়েছে, যা মেনে চলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। গেজেটে উল্লেখিত বিধিনিষেধ ও নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিধিমালায় দেখা যায় ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) লেইসেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নিবন্ধন সনদ ফি, ১০,০০,০০০.০০ (দশ লক্ষ) টাকা ব্যাংক স্থিতির সার্টিফিকেট ও ৩,০০,০০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা জামানত প্রদান করতে হবে যা ট্যুর অপরেটরদের জন্য সম্ভবপর নয়। এতে করে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে নতুন উদ্দোক্তারা নিরুৎসাহিত হবে। তিনি বিকাশমান পর্যটন শিল্পের স্বার্থে ট্যুর অপারেটরদের সেবার উপর মূসক আরোপ রহিতকরার দাবীও জানান। কারন ট্যুর অপারেটর সেবার উপর ১৫% মূসক ধার্য করার ফলে প্যাকেজ মূল্য তথ্য ট্রাভেল কষ্ট বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে করে গোটা পর্যটন শিল্প বিশেষকরে অন্তর্গানী ও আভ্যন্তরীন পর্যটন সারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেহেতু পর্যটন শিল্প একটি ব্যাপক ও অনেকগুল্যে সেক্টরের সাথে সম্পৃক্ত, মূসক আরোপের ফলে অগ্রসরমান বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়ারের পক্ষ থেকে সেন্ট মার্টিনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার কঠোরভাবে বন্ধ করে রাত্রি যাপনসহ যাবতীয় বিধি-নিষেধ ব্যাতিরেকে পর্যটন চালু রাখা, টেকনাফ থেকে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে বিকল্প পথ তৈরী করা, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) লাইসেন্স ও নবায়ন ফি ও ব্যাংক স্থিতি কমানো ও জামানত বাতিল, ট্যুর অপারেটর সেবার উপর মূসক প্রত্যাহার, সারাবছরব্যাপী সুন্দরবনে পর্যটকবহী জাহাজ চলাচল চালু রাখা, পার্বত্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর ও পর্যটকদের জন্য পারমিশন গ্রহণ সহজীকরণ করা ইত্যাদি দাবী জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর নেতৃবৃন্দ, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের নেতৃবৃন্দ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ ও পর্যটন রক্ষা-উন্নয়ন জোটের নেতৃবৃন্দ, ই-ট্যুরিজম এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ট্যাব) এর নেতৃবৃন্দ, সেন্টমার্টিন দোকান মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বোট মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ, মৎসজীবী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কুয়াব), এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষে টোয়াবের প্রেসিডেন্ট ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিবেশ এবং পর্যটন রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।















