স্বৈরাচারের দোসর থেকে জুলাই যোদ্ধা: জলবায়ু আন্দোলনে ‘ সোহানুর’ বিতর্কে নতুন প্রশ্ন

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:২০:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ মোঃ মাহবুব আলম
বাংলাদেশের জলবায়ু আন্দোলনে তরুণ নেতৃত্বের মুখ বলে পরিচিত “টোকাই সোহানুর” নামে পরিচিত এক ব্যক্তিকে ঘিরে উঠেছে নানা বিতর্ক। ভিকটিমবাদের গল্প, বিদেশি তহবিলের ব্যবহার ও কূটনৈতিক যোগাযোগের নামে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তদন্তে জানা যায়, সোহানুর নামের ওই ব্যক্তি এক সময় ছোট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করতেন। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেকে জলবায়ু ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন শুরু করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বক্তব্য প্রদান, বিদেশ সফর ও প্রকল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের প্রভাববলয়।
অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সোহানুর ও তার ঘনিষ্ঠদের পরিচালিত সংগঠনগুলো নামমাত্র প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনা করে। মাঠ পর্যায়ের কাজের পরিবর্তে পোস্টার, ছবি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়াতেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তহবিলের বড় অংশ ব্যয় হয় সভা, সেমিনার, ভ্রমণ ও তথাকথিত ‘ডকুমেন্টেশন’-এর নামে।
একজন প্রাক্তন কর্মী বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু অফিস বলত ছবি তোলো, রিপোর্ট দাও। বাস্তব কাজের চেয়ে গল্পই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
তরুণ জলবায়ু কর্মীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, সোহানুরের প্রভাববলয়ে এখন ভয় ও অনুগত্যের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কেউ সমালোচনা করলে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক তরুণ কর্মী হতাশ হয়ে খাতটি ছেড়ে যাচ্ছেন।
কূটনৈতিক মহলের এক সূত্র জানায়, কিছু তরুণ কর্মী নিজেদের “বাংলাদেশের প্রতিনিধি” পরিচয়ে আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেন, যদিও এর কোনো সরকারি অনুমোদন থাকে না। তারা দাতা সংস্থাগুলোর কাছে নিজেদের ভিকটিম বা তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থাপন করে তহবিল সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু আন্দোলনের মূল প্রশ্ন—জমি, নদী, কৃষক ও স্থানীয় প্রভাব—এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তার জায়গায় এসেছে ‘সেলফি ও সেশন’-কেন্দ্রিক কর্মসূচি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা এখন এক ধরনের মানসিকতায় পরিণত হয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য ও ভিকটিমবোধকে তহবিলের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অনেকের মতে, এটি আর কেবল ব্যক্তির বিষয় নয়—বরং গোটা খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।












