ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক রাতে বিশ্বজুড়ে হাই কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়: সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার পর এবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা  পটুয়াখালীর উলানিয়া বন্দর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।  টোকেনের নামে অটোরিকশা থেকে অর্থ আদায়: নাঙ্গলকোটে চাঁদাবাজির অভিযোগ মোগরা পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন সাহেবের পক্ষ থেকে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে।

কুরবানির গোশতের সামাজিক বন্টন জায়েজ নেই,

সংবাদ দাতা মোঃসৈয়দ আল ইমরান
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩ ৮৩ বার পড়া হয়েছে

মুফতি ওযায়ের আমিন

কোরবানির গোশতের বাধ্যতামূলক সামাজিক বন্টন জায়েজ নেই। দেখতে সুন্দর ও মানবিক মনে হলেই যায়েজ হয়ে যায় না। যায়েজের জন্য প্রয়োজন শরঈ দলীল। কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা উত্তম ও মুস্তাহাব। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজনে বণ্টনে কমবেশি করাতেও কোনো দোষ নেই (আল-মুগনী ১১/১০৮; মির‘আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)।

বর্তমানে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচলন রয়েছে, কুরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কুরবানি করতে পারেনি তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা ও প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়। কাজটি দেখতে ভালো হলেও এটি জায়েজ নেই। কেননা এই প্রচলনের ফলে কারও দিতে মনে না চাইলেও তাকে সমাজের খাতিরে দিতে হয়। না দিলে সামাজিক চাপ ও বদনামের স্বীকার হতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষ সামাজিক ভাবে মনিটরিং করা হয়, কেহ একতৃতীয়াংশের কম দিলেন কি না।

এধরনের প্রচলন খাইরুল কুরুনে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানে মাল তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়। (মুসনাদে আহমদ : ১৫/২৯৩, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২৭, আলমগিরী/হিন্দিয়া : ৫/৩০০, হেদায়াহ : ৪/৪৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪)

বাধ্যতামূলক সামাজিক বন্টন ও বাস্তবতা-১

আমার একান্ত পরিচিত একটি গ্রামের আপন ৩ ভাই। তারা ঢাকায় ইমামতি করেন। ঈদের নামাজ পড়ানো এবং মাদরাসার বিভিন্ন দায়িত্বের কারণে তাদের কেউ ঈদের দিন গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারেন না। তাই ঈদের পরদিন তিন ভাই মিলে বাড়িতে গিয়ে কোরবানি করেন। তারা সামর্থের সর্বোচ্চ পরিমাণে কুরবানির গোশত সমাজের গরিবদের মাঝে নিজেদের পক্ষ থেকে বিতরণ করেন। এরপরেও সমাজের পক্ষ থেকে তাদের বিপক্ষে অপপ্রচার করা হয়েছে যে, “সমাজে গোস্ত দিতে হবে এই কারণে তারা ঈদের দিন কোরবানি করে না।”

পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ যেন তাদের গোস্ত গ্রহণ না করে এমন অলিখিত নোটিশ জারি করা হয়। এ বছর তারা মনের কষ্টে ঢাকায় কোরবানি দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কি বাধ্যতামূলক নয়? এ বিষয়ে কি বিশ্লেষণ করা হবে?

মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন মোমেনশাহী

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুরবানির গোশতের সামাজিক বন্টন জায়েজ নেই,

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩

মুফতি ওযায়ের আমিন

কোরবানির গোশতের বাধ্যতামূলক সামাজিক বন্টন জায়েজ নেই। দেখতে সুন্দর ও মানবিক মনে হলেই যায়েজ হয়ে যায় না। যায়েজের জন্য প্রয়োজন শরঈ দলীল। কুরবানির গোশত তিন ভাগ করা উত্তম ও মুস্তাহাব। অবশ্য পুরো গোশত যদি নিজে রেখে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজনে বণ্টনে কমবেশি করাতেও কোনো দোষ নেই (আল-মুগনী ১১/১০৮; মির‘আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)।

বর্তমানে বিভিন্ন মহল্লায় প্রচলন রয়েছে, কুরবানির গোশতের এক-তৃতীয়াংশ একস্থানে জমা করে মহল্লায় যারা কুরবানি করতে পারেনি তাদের তালিকা করে সুশৃংখলভাবে তাদের মধ্যে বিতরণ করা ও প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়। কাজটি দেখতে ভালো হলেও এটি জায়েজ নেই। কেননা এই প্রচলনের ফলে কারও দিতে মনে না চাইলেও তাকে সমাজের খাতিরে দিতে হয়। না দিলে সামাজিক চাপ ও বদনামের স্বীকার হতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষ সামাজিক ভাবে মনিটরিং করা হয়, কেহ একতৃতীয়াংশের কম দিলেন কি না।

এধরনের প্রচলন খাইরুল কুরুনে পাওয়া যায় না। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানে মাল তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়। (মুসনাদে আহমদ : ১৫/২৯৩, রদ্দুল মুহতার : ৬/৪২৭, আলমগিরী/হিন্দিয়া : ৫/৩০০, হেদায়াহ : ৪/৪৪৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪)

বাধ্যতামূলক সামাজিক বন্টন ও বাস্তবতা-১

আমার একান্ত পরিচিত একটি গ্রামের আপন ৩ ভাই। তারা ঢাকায় ইমামতি করেন। ঈদের নামাজ পড়ানো এবং মাদরাসার বিভিন্ন দায়িত্বের কারণে তাদের কেউ ঈদের দিন গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারেন না। তাই ঈদের পরদিন তিন ভাই মিলে বাড়িতে গিয়ে কোরবানি করেন। তারা সামর্থের সর্বোচ্চ পরিমাণে কুরবানির গোশত সমাজের গরিবদের মাঝে নিজেদের পক্ষ থেকে বিতরণ করেন। এরপরেও সমাজের পক্ষ থেকে তাদের বিপক্ষে অপপ্রচার করা হয়েছে যে, “সমাজে গোস্ত দিতে হবে এই কারণে তারা ঈদের দিন কোরবানি করে না।”

পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ যেন তাদের গোস্ত গ্রহণ না করে এমন অলিখিত নোটিশ জারি করা হয়। এ বছর তারা মনের কষ্টে ঢাকায় কোরবানি দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কি বাধ্যতামূলক নয়? এ বিষয়ে কি বিশ্লেষণ করা হবে?

মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন মোমেনশাহী