ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া। 

বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Screenshot

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

ঢাকা, গুলিস্তান থেকে:

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য—রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে বসে হকাররা খোলাখুলিভাবে নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রি করছেন। ঈদ, পূজা বা বিশেষ উপলক্ষ এলেই এই ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নতুন নোট সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সেই নতুন নোটই সহজে পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের হকারদের কাছে।

প্রশ্ন উঠেছে—এই নতুন টাকা কোথা থেকে আসছে? কারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক? এবং কেন ব্যাংকের পরিবর্তে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে টাকার বাজার?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিস্তানের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নোট কেনাবেচার এই ব্যবসা চলছে। হকাররা সাধারণত ১০০, ৫০, ২০ কিংবা ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করেন। যেমন ১০০ টাকার নতুন নোটের ১০ হাজার টাকার বান্ডিল কিনতে গেলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

একাধিক ক্রেতা জানান, ব্যাংকে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা হকারদের কাছ থেকে কিনছেন। গুলিস্তানে টাকা কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “ব্যাংকে গেলে বলে টাকা নেই বা সীমিত। কিন্তু এখানে চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়।”

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোটের এই অনিয়ন্ত্রিত বাজার দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে আনে। যদি ব্যাংকের নতুন নোট ফুটপাতে বিক্রি হয়, তাহলে অবশ্যই কোথাও না কোথাও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অসাধু চক্র কাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নতুন নোটের বান্ডিল সরাসরি এই হকারদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে সেগুলো কমিশন নিয়ে বিক্রি করা হয় সাধারণ মানুষের কাছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ এর পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে বের করুক—কারা এই নতুন টাকার ব্যবসার মূল হোতা। ব্যাংক থেকে বের হওয়া নতুন নোট কীভাবে ফুটপাতের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নতুন নোটের কালোবাজার অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

ঢাকা, গুলিস্তান থেকে:

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য—রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে বসে হকাররা খোলাখুলিভাবে নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রি করছেন। ঈদ, পূজা বা বিশেষ উপলক্ষ এলেই এই ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নতুন নোট সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সেই নতুন নোটই সহজে পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের হকারদের কাছে।

প্রশ্ন উঠেছে—এই নতুন টাকা কোথা থেকে আসছে? কারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক? এবং কেন ব্যাংকের পরিবর্তে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে টাকার বাজার?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিস্তানের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নোট কেনাবেচার এই ব্যবসা চলছে। হকাররা সাধারণত ১০০, ৫০, ২০ কিংবা ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করেন। যেমন ১০০ টাকার নতুন নোটের ১০ হাজার টাকার বান্ডিল কিনতে গেলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

একাধিক ক্রেতা জানান, ব্যাংকে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা হকারদের কাছ থেকে কিনছেন। গুলিস্তানে টাকা কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “ব্যাংকে গেলে বলে টাকা নেই বা সীমিত। কিন্তু এখানে চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়।”

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোটের এই অনিয়ন্ত্রিত বাজার দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে আনে। যদি ব্যাংকের নতুন নোট ফুটপাতে বিক্রি হয়, তাহলে অবশ্যই কোথাও না কোথাও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অসাধু চক্র কাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নতুন নোটের বান্ডিল সরাসরি এই হকারদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে সেগুলো কমিশন নিয়ে বিক্রি করা হয় সাধারণ মানুষের কাছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ এর পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে বের করুক—কারা এই নতুন টাকার ব্যবসার মূল হোতা। ব্যাংক থেকে বের হওয়া নতুন নোট কীভাবে ফুটপাতের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নতুন নোটের কালোবাজার অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।