ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুন্সিগঞ্জের মোল্লা কান্দি ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর সহ অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।  জাতীয় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী উদ্যোগ সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা বাংলাদেশ নারকোটিকস কন্ট্রোল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন রাজিউর রহমান রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা: শোকের ছায়া গোটা দেশে সিলেটে মহান স্বাধীনতা দিবসে জেলা ও মহানগর যুবদলের শ্রদ্ধা নিবেদন তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নুরুল হক নুর।  জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ

বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

Screenshot

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

ঢাকা, গুলিস্তান থেকে:

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য—রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে বসে হকাররা খোলাখুলিভাবে নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রি করছেন। ঈদ, পূজা বা বিশেষ উপলক্ষ এলেই এই ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নতুন নোট সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সেই নতুন নোটই সহজে পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের হকারদের কাছে।

প্রশ্ন উঠেছে—এই নতুন টাকা কোথা থেকে আসছে? কারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক? এবং কেন ব্যাংকের পরিবর্তে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে টাকার বাজার?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিস্তানের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নোট কেনাবেচার এই ব্যবসা চলছে। হকাররা সাধারণত ১০০, ৫০, ২০ কিংবা ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করেন। যেমন ১০০ টাকার নতুন নোটের ১০ হাজার টাকার বান্ডিল কিনতে গেলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

একাধিক ক্রেতা জানান, ব্যাংকে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা হকারদের কাছ থেকে কিনছেন। গুলিস্তানে টাকা কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “ব্যাংকে গেলে বলে টাকা নেই বা সীমিত। কিন্তু এখানে চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়।”

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোটের এই অনিয়ন্ত্রিত বাজার দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে আনে। যদি ব্যাংকের নতুন নোট ফুটপাতে বিক্রি হয়, তাহলে অবশ্যই কোথাও না কোথাও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অসাধু চক্র কাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নতুন নোটের বান্ডিল সরাসরি এই হকারদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে সেগুলো কমিশন নিয়ে বিক্রি করা হয় সাধারণ মানুষের কাছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ এর পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে বের করুক—কারা এই নতুন টাকার ব্যবসার মূল হোতা। ব্যাংক থেকে বের হওয়া নতুন নোট কীভাবে ফুটপাতের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নতুন নোটের কালোবাজার অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

রিপোর্টার: রফিকুল ইসলাম

ঢাকা, গুলিস্তান থেকে:

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় প্রতিদিনই দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য—রাস্তার পাশে বা ফুটপাতে বসে হকাররা খোলাখুলিভাবে নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রি করছেন। ঈদ, পূজা বা বিশেষ উপলক্ষ এলেই এই ব্যবসা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। নতুন নোট সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সেই নতুন নোটই সহজে পাওয়া যাচ্ছে গুলিস্তানের হকারদের কাছে।

প্রশ্ন উঠেছে—এই নতুন টাকা কোথা থেকে আসছে? কারা এই ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক? এবং কেন ব্যাংকের পরিবর্তে ফুটপাতে তৈরি হয়েছে টাকার বাজার?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিস্তানের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন নোট কেনাবেচার এই ব্যবসা চলছে। হকাররা সাধারণত ১০০, ৫০, ২০ কিংবা ১০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে বিক্রি করেন। যেমন ১০০ টাকার নতুন নোটের ১০ হাজার টাকার বান্ডিল কিনতে গেলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

একাধিক ক্রেতা জানান, ব্যাংকে নতুন টাকা পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা হকারদের কাছ থেকে কিনছেন। গুলিস্তানে টাকা কিনতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, “ব্যাংকে গেলে বলে টাকা নেই বা সীমিত। কিন্তু এখানে চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়।”

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নোটের এই অনিয়ন্ত্রিত বাজার দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে আনে। যদি ব্যাংকের নতুন নোট ফুটপাতে বিক্রি হয়, তাহলে অবশ্যই কোথাও না কোথাও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম বা অসাধু চক্র কাজ করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে নতুন নোটের বান্ডিল সরাসরি এই হকারদের হাতে পৌঁছে যায়। পরে সেগুলো কমিশন নিয়ে বিক্রি করা হয় সাধারণ মানুষের কাছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কারণ এর পেছনে একটি বড় সিন্ডিকেট থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে বের করুক—কারা এই নতুন টাকার ব্যবসার মূল হোতা। ব্যাংক থেকে বের হওয়া নতুন নোট কীভাবে ফুটপাতের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চান তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে নতুন নোটের কালোবাজার অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।