ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নুরুল হক নুর।  জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

হাজারো পরিবার বন্যায় পানিবন্দি খাগড়াছড়িতে

তোফাজ্জল হোসেন ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম জেলা :
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

বন্যায় পানিবন্দি খাগড়াছড়ির কয়েক হাজার পরিবার।একটানা চারদিনের বৃষ্টিতে ১৮দিনের ব্যবধানে আবারও বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়িবাসী। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ জেলায় দীঘিনালাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যায় প্লাবিত অঞ্চলের পানিবন্দিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ১০০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।খাগড়াছড়ি পৌর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পৌর এলাকায় প্রায় ৬-৭হাজার পরিবার পানিবন্ধী।এছাড়াও চেঙ্গী নদী ও মাইনি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর দু-কুল উপচে পৌর এলাকার মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, বাঙ্গালকাটি, খবংপুড়িয়া,রাজ্যমনিপাড়া,ফুটবিল, বটতলীসহ কয়েকটি এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। শহরের পৌর বাস টার্মিনাল, নিচের বাজার ও আশপাশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায়যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার কমলছড়ি ও গোলাবাড়ি ইউনিয়নের গঞ্জপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে কয়েকশত ঘরবাড়িতে বন্যার পানিতে ডুবেছে। রাস্তায় কোমড় ও গলা সমান পানি থাকায় নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্ধী হয়ে পড়েছেন। ভয়াবহ বন্যার পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। জেলা সদরের শালবন এলাকায় পাহাড় ধসে বাড়ির ভিতরে চাপা পড়ে আবু হানিফ(৬০) নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে।পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কয়েকশত পরিবারের সদস্যদের মাঝে পাহাড় ধসের আতংক বিরাজ করছে। এছাড়া জেলা সদরের কলাবাগান,হরিনাথ পাড়া,শালবাগান, রসুলপুর এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। মূলত:পাহাড় কেটে যেসব ঘরবাড়ি তোলা হয়েছে,সেই সব স্থানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেশি। খাগড়াছড়ি পৌরসভার হিসেবে মতে পৌর এলাকায় প্রায় দুইশত পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে।অপরদিকে দুপুরে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গঞ্জপাড়া, অপর্ণা চৌধুরীপাড়া,রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, ফুটবিল এলাকার নিচু এলাকায় পানি উঠেছে এবং অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জেলা সদরের নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এদিকে বন্যার কারণে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়াও জেলা শহরের মুসলিম পাড়ার একাংশ, মিলনপুর, কল্যাণপুর, মেহেদিবাগ, উত্তর ও দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর ও বাঙ্গালকাটির একাংশ এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে।মঙ্গলবার (২০ আগস্ট ) দুপুরের পর থেকে নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। পরে যতই সন্ধ্যা আসে,ততই বন্যার পানি বিপদসীমার উপরে প্লাবিত হতে থাকে। পানি বৃদ্ধি সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি বাস স্টেশন পর্যন্ত বন্যার পানি উঠেছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুজ্জামান জানান,প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত ও পাহাড়ের ঝুঁকিতে মাইকিং করে বসবাসকারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গতকাল থেকে। যেকোন ধরণের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।এবারের বন্যায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাজারো পরিবার বন্যায় পানিবন্দি খাগড়াছড়িতে

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪

বন্যায় পানিবন্দি খাগড়াছড়ির কয়েক হাজার পরিবার।একটানা চারদিনের বৃষ্টিতে ১৮দিনের ব্যবধানে আবারও বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়িবাসী। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ জেলায় দীঘিনালাসহ বিভিন্ন স্থানে বন্যায় প্লাবিত অঞ্চলের পানিবন্দিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ১০০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।খাগড়াছড়ি পৌর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্রেগুলোতে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। পৌর এলাকায় প্রায় ৬-৭হাজার পরিবার পানিবন্ধী।এছাড়াও চেঙ্গী নদী ও মাইনি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চেঙ্গী নদীর দু-কুল উপচে পৌর এলাকার মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, বাঙ্গালকাটি, খবংপুড়িয়া,রাজ্যমনিপাড়া,ফুটবিল, বটতলীসহ কয়েকটি এলাকার হাজারো পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। শহরের পৌর বাস টার্মিনাল, নিচের বাজার ও আশপাশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায়যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও সদর উপজেলার কমলছড়ি ও গোলাবাড়ি ইউনিয়নের গঞ্জপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে কয়েকশত ঘরবাড়িতে বন্যার পানিতে ডুবেছে। রাস্তায় কোমড় ও গলা সমান পানি থাকায় নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্ধী হয়ে পড়েছেন। ভয়াবহ বন্যার পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। জেলা সদরের শালবন এলাকায় পাহাড় ধসে বাড়ির ভিতরে চাপা পড়ে আবু হানিফ(৬০) নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে।পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী কয়েকশত পরিবারের সদস্যদের মাঝে পাহাড় ধসের আতংক বিরাজ করছে। এছাড়া জেলা সদরের কলাবাগান,হরিনাথ পাড়া,শালবাগান, রসুলপুর এলাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি রয়েছে। মূলত:পাহাড় কেটে যেসব ঘরবাড়ি তোলা হয়েছে,সেই সব স্থানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেশি। খাগড়াছড়ি পৌরসভার হিসেবে মতে পৌর এলাকায় প্রায় দুইশত পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে।অপরদিকে দুপুরে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে গঞ্জপাড়া, অপর্ণা চৌধুরীপাড়া,রাজ্যমনি পাড়া, কালাডেবা, বটতলী, ফুটবিল এলাকার নিচু এলাকায় পানি উঠেছে এবং অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জেলা সদরের নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পরিবার বন্যার কবলে পড়েছে। এদিকে বন্যার কারণে জেলার চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।দীঘিনালার কবাখালী ও মেরুং এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়াও জেলা শহরের মুসলিম পাড়ার একাংশ, মিলনপুর, কল্যাণপুর, মেহেদিবাগ, উত্তর ও দক্ষিণ গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর ও বাঙ্গালকাটির একাংশ এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে।মঙ্গলবার (২০ আগস্ট ) দুপুরের পর থেকে নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। পরে যতই সন্ধ্যা আসে,ততই বন্যার পানি বিপদসীমার উপরে প্লাবিত হতে থাকে। পানি বৃদ্ধি সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি বাস স্টেশন পর্যন্ত বন্যার পানি উঠেছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুজ্জামান জানান,প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত ও পাহাড়ের ঝুঁকিতে মাইকিং করে বসবাসকারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গতকাল থেকে। যেকোন ধরণের দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।এবারের বন্যায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।