ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক রাতে বিশ্বজুড়ে হাই কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়: সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার পর এবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা  পটুয়াখালীর উলানিয়া বন্দর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।  টোকেনের নামে অটোরিকশা থেকে অর্থ আদায়: নাঙ্গলকোটে চাঁদাবাজির অভিযোগ মোগরা পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন সাহেবের পক্ষ থেকে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে।

আশুগঞ্জে সিএনজি স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষের আশঙ্কা।

এম কে খোকন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৩ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

আশুগঞ্জে সিএনজি স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষের আশঙ্কা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলার মহাসড়কের পাশে অটোরিক্সা (সিএনজি) স্ট্যান্ডের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে যে কোন সময় দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বর সিএনজি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি (শ্রম দফতরের রেজি নং ১৮৭১) আশুগঞ্জ উপজেলা শাখা অনুমোদন দিয়ে স্ট্যান্ডটির নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বিগত সাত মাস আগে মোক্তার হোসেনকে সভাপতি ও ফখরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় সংগঠনটি। কিন্তু গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় শ্রম দফতর, শ্রীমঙ্গল থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি নামে আরেকটি সংগঠন রেজিস্ট্রশন লাভ করে। যার রেজি. নং মৌল : ০৫৩। নতুন রেজিস্ট্রশন প্রাপ্ত সংগঠনটির সভাপতি হলেন মো. খোরশেদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হলেন মো. রুবের মিয়া।

শ্রম দফতরের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির পর নতুন সংগঠনটি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত একমাস যাবৎ পরিচালনা করে আসছিল। এতে জেলা সংগঠনের অনুমোদিত শাখা সংগঠনের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার সংগঠিত হয়ে বুধবার সকালে স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রচেষ্টা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উক্ত স্ট্যান্ডের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিশ্বরোড, লালপুর ও তালশহর সড়কে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চলে। প্রতি সিএনজি চালককে  প্রতি টিপে সমিতির নিয়োগকৃত সুপারভাইজারকে দিতে হয় ২০ টাকা করে । এতে প্রতিমাসে দুই লক্ষ টাকা জমা হয় সুপারভাইজারের কাছে। এর একটি অংশ সমিতি পায়। বাকী টাকা নেতাদের হাতে যায়।  মুলত সেই টাকার ভাগ পেতেই এই দ্বন্দ্ব।
এ ব্যাপারে জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমরা আশুগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শাখা সংগঠনের মাধ্যমে স্ট্যান্ড পরিচালনা করে আসছি। আমাদের সাথে সমন্বয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষে না জানিয়ে শ্রম দফতর উপজেলা সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ায় এ বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দরখাস্ত করেছি। পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন লোকজনকে দিয়ে গঠিত সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।
তবে বিভাগীয় শ্রম দফতর, শ্রীমঙ্গলের উপ পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম জানান, যথাযথ বিধি মোতাবেক আশুগঞ্জ উপজেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। কোনো শাখা সংগঠনের রেকর্ড তাদের দফতরে নেই বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া  বিধি অনুযায়ী পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন শতকরা ২০ জন সমিতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।

তবে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামল চন্দ্র বসাক ও আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নাহিদ আহাম্মেদ জানান, তারা উভয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত দু’পক্ষকেই স্ট্যান্ডের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় এ দুই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির সুরাহা দেওয়ার জন্য আহবান করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আশুগঞ্জে সিএনজি স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষের আশঙ্কা।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৩

আশুগঞ্জে সিএনজি স্ট্যান্ডের আধিপত্য বিস্তার, সংঘর্ষের আশঙ্কা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলার মহাসড়কের পাশে অটোরিক্সা (সিএনজি) স্ট্যান্ডের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে যে কোন সময় দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোল চত্ত্বর সিএনজি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি (শ্রম দফতরের রেজি নং ১৮৭১) আশুগঞ্জ উপজেলা শাখা অনুমোদন দিয়ে স্ট্যান্ডটির নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বিগত সাত মাস আগে মোক্তার হোসেনকে সভাপতি ও ফখরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় সংগঠনটি। কিন্তু গত ২৫ জুলাই বিভাগীয় শ্রম দফতর, শ্রীমঙ্গল থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি নামে আরেকটি সংগঠন রেজিস্ট্রশন লাভ করে। যার রেজি. নং মৌল : ০৫৩। নতুন রেজিস্ট্রশন প্রাপ্ত সংগঠনটির সভাপতি হলেন মো. খোরশেদ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক হলেন মো. রুবের মিয়া।

শ্রম দফতরের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির পর নতুন সংগঠনটি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত একমাস যাবৎ পরিচালনা করে আসছিল। এতে জেলা সংগঠনের অনুমোদিত শাখা সংগঠনের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার সংগঠিত হয়ে বুধবার সকালে স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রচেষ্টা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এসময় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উক্ত স্ট্যান্ডের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিশ্বরোড, লালপুর ও তালশহর সড়কে প্রায় পাঁচ শতাধিক সিএনজি চলে। প্রতি সিএনজি চালককে  প্রতি টিপে সমিতির নিয়োগকৃত সুপারভাইজারকে দিতে হয় ২০ টাকা করে । এতে প্রতিমাসে দুই লক্ষ টাকা জমা হয় সুপারভাইজারের কাছে। এর একটি অংশ সমিতি পায়। বাকী টাকা নেতাদের হাতে যায়।  মুলত সেই টাকার ভাগ পেতেই এই দ্বন্দ্ব।
এ ব্যাপারে জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, আমরা আশুগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শাখা সংগঠনের মাধ্যমে স্ট্যান্ড পরিচালনা করে আসছি। আমাদের সাথে সমন্বয় কিংবা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষে না জানিয়ে শ্রম দফতর উপজেলা সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ায় এ বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে দরখাস্ত করেছি। পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন লোকজনকে দিয়ে গঠিত সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ।
তবে বিভাগীয় শ্রম দফতর, শ্রীমঙ্গলের উপ পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম জানান, যথাযথ বিধি মোতাবেক আশুগঞ্জ উপজেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছে। কোনো শাখা সংগঠনের রেকর্ড তাদের দফতরে নেই বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া  বিধি অনুযায়ী পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন শতকরা ২০ জন সমিতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে তিনি জানান।

তবে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামল চন্দ্র বসাক ও আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ নাহিদ আহাম্মেদ জানান, তারা উভয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত দু’পক্ষকেই স্ট্যান্ডের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় এ দুই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির সুরাহা দেওয়ার জন্য আহবান করেছেন।