গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের সব অপকর্মের বিচার করা হবে: প্রধান উপদেষ্টা

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৫:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের তিনদিন পর দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১০০ দিন পূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শুধু জুলাই-অগাস্টের হত্যাকাণ্ড নয়, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের সব অপকর্মের বিচার করা হবে।সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ মিনিট ব্যাপী ওই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষেই দ্রুতই নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে।তিনি বলেন, “নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত দেশবাসী নির্বাচনের রোডম্যাপ পেয়ে যাবেন”।অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গত ১৫ই নভেম্বর। ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা।জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।তিনি এসময় বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য, এবং রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাঙ্ক্ষা থেকে”।জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা থেকে জাতিকে বঞ্চিত করবেন না”।ভাষণে রাষ্ট্র সংস্কারের সংস্কার কমিশনগুলোর নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি গত ১০০ দিনে দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এ সময়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।বিগত শেখ হাসিনা সরকারের শাসন আমলের সময়ের গুম খুনের ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় ১,৬০০ গুমের তথ্য পেয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন। তাদের ধারণা এই সংখ্যা ৩,৫০০ ছাড়িয়ে যাবে।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে অনেকে ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আবার আক্রান্ত হতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীন চিত্তে কমিশনকে আপনাদের অভিযোগ জানান।”তিনি বলেন, কেবল জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, আমরা গত ১৫ বছরে সব অপকর্মের বিচার করবো।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই গুম খুনে যারা অভিযুক্ত তারা যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক তাকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।তিনি জানান, কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সরকার প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য অত্যন্ত যত্নের সাথে জোগাড় করছে। এই বিপ্লবে আহত হয়েছে ১৯,৯৩১ জন। আহতদের জন্য ঢাকার ১৩টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে”।”প্রতিদিনই তালিকায় আরো নতুন নতুন শহিদের তথ্য যোগ হচ্ছে যারা স্বৈরাচারের আক্রোশের শিকার হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবোই” যোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের কাজ বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ভারত থেকে ফেরত চাইবো আমরা”।জাতির উদ্দেশে দেয়া এই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।তিনি বলেছেন, “নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে, এটা আর থামবে না।”“আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি”।সংস্কার কমিশনগুলো আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশমালা সরকারের কাছে জমা দিবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি জানান, সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে সংস্কার রুপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “নির্বাচন কবে হবে, সবার মনে সেই প্রশ্ন আছে। আমরা নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সব দায়িত্ব তাদের উপর বর্তাবে।”তিনি জানান, আইন ও বিধি সংস্কার হলে প্রথম বারের মত প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে।প্রধান উপদেষ্টা বলেন এসময় রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত কমিশনগুলোর কাজে সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরতে দেশের নাগরিকদের কাছে অনুরোধ জানান।নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হলেই খুব দ্রুত নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা।ইতোমধ্যে অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে আলাপ চলতে থাকবে।তবে সংস্কারের জন্য নির্বাচন আয়োজনে কয়েক মাস বিলম্বিতও করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।তিনি বলেছেন, নির্বাচন ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার ব্যাপারে ঐক্যমত্য গঠনের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আমরা ক্রমাগতভাবে প্রশ্ন তুলতে থাকতে থাকবো কী কী সংস্কার নির্বাচনের আগে আপনারা করে নিতে চান।নির্বাচনের আয়োজন চলাকালীন কিছু সংস্কার হতে পারে। সংস্কারের জন্য নির্বাচনকে কয়েক মাস বিলম্বিতও করা যেতে পারে।”
















