ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সিরাজগঞ্জের নদী ভাঙ্গনে আতঙ্কিত কয়েক গ্রামের মানুষ

সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি::
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:: ষাটোর্ধ্ব সুফিয়া খাতুন স্বামী মৃত সোবাহান সরকার, তার ৫টি ছেলে সন্তান রয়েছে।
সবাই ঢাকা কর্ম করে। ১১ বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। ৫ সন্তানের কেউ ১০ বছর দেখতে আসেন না। শাহজাদপুরের ব্রাহ্মণ গ্রামে তার বসবাস। নদী ভাঙ্গনের একমাত্র সম্বল ভিটে  চোখে মুখে ভাঙন আতঙ্ক বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, গত ১৫ দিনে ব্রাহ্মণ গ্রামের প্রায় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে যা সহায়সম্বল ছিল তাই নিয়ে নদীর পাড়ে ছাপরি ঘর তুলে রয়েছি। স্বামী সন্তান না থাকায় তিন বেলা খাবার জোটে না, আল্লাহ যা মাপায় তাই খেয়ে দেয়ে বেঁচে আছি।
প্রতিনিয়ত যমুনার সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে যে জায়গাটিতে বসবাস করেন সেখানেও আবার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার। সুফিয়া খাতুনের মত এই গ্রামে বহু পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক।
যমুনা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি গাছপালা ফসলি জমিন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।এতে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এনায়েতপুর স্পার বাঁধ এলাকা থেকে দক্ষিণে পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় গত প্রায় দেড় যুগ ধরে ভাঙন চলছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মনগ্রামের হারুন বেপারী বলেন, ঠিকাদার ও পাউবো কর্মকর্তাদের উদাসিনতায় ব্রাহ্মনগ্রাম সহ আড়কান্দির বহু ঘরবাড়ি চোখের সামনে বিলীন হয়েছে। সমৃদ্ধ পরিবার গুলো এখন পথে বসেছে। সাড়ে ৬ শ কোটি টাকার কাজ চলছে, অথচ কোন বস্তা ডাম্পিং কিংবা প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, নদী পাড়ে বস্তা ভর্তি করে রেখেছে ঠিকাদার, এটা লোক দেখানো। পাউবো কর্মকর্তারা অনুমতি না দিলে ডাম্পিং করা যাবে না। এরমধ্যে আমাদের বাড়ি ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে। পরে বস্তা দিয়ে কি করবো। সাড়ে ৬ শ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। কাজের কাজ হচ্ছে না। এটা লুটপাটের পায়তারা বলে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই পাশে জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। এবং জিও টিউব সংযোজন করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙ্গন রোধের সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি চৌহালীতে আমাদের একটা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এবং সেই প্রকল্পের কাজ অতি শীঘ্রই শুরু হবে।
এবং ভাঙ্গন রোধ করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিরাজগঞ্জের নদী ভাঙ্গনে আতঙ্কিত কয়েক গ্রামের মানুষ

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৪১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০২৩
সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:: ষাটোর্ধ্ব সুফিয়া খাতুন স্বামী মৃত সোবাহান সরকার, তার ৫টি ছেলে সন্তান রয়েছে।
সবাই ঢাকা কর্ম করে। ১১ বছর আগে স্বামী মারা গিয়েছেন। ৫ সন্তানের কেউ ১০ বছর দেখতে আসেন না। শাহজাদপুরের ব্রাহ্মণ গ্রামে তার বসবাস। নদী ভাঙ্গনের একমাত্র সম্বল ভিটে  চোখে মুখে ভাঙন আতঙ্ক বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি জানান, গত ১৫ দিনে ব্রাহ্মণ গ্রামের প্রায় বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে যা সহায়সম্বল ছিল তাই নিয়ে নদীর পাড়ে ছাপরি ঘর তুলে রয়েছি। স্বামী সন্তান না থাকায় তিন বেলা খাবার জোটে না, আল্লাহ যা মাপায় তাই খেয়ে দেয়ে বেঁচে আছি।
প্রতিনিয়ত যমুনার সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে যে জায়গাটিতে বসবাস করেন সেখানেও আবার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বসতবাড়ি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার। সুফিয়া খাতুনের মত এই গ্রামে বহু পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক।
যমুনা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন গত ১৫ দিনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি গাছপালা ফসলি জমিন নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে।এতে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
এনায়েতপুর স্পার বাঁধ এলাকা থেকে দক্ষিণে পাঁচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় গত প্রায় দেড় যুগ ধরে ভাঙন চলছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মনগ্রামের হারুন বেপারী বলেন, ঠিকাদার ও পাউবো কর্মকর্তাদের উদাসিনতায় ব্রাহ্মনগ্রাম সহ আড়কান্দির বহু ঘরবাড়ি চোখের সামনে বিলীন হয়েছে। সমৃদ্ধ পরিবার গুলো এখন পথে বসেছে। সাড়ে ৬ শ কোটি টাকার কাজ চলছে, অথচ কোন বস্তা ডাম্পিং কিংবা প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
এদিকে এলাকাবাসী জানান, নদী পাড়ে বস্তা ভর্তি করে রেখেছে ঠিকাদার, এটা লোক দেখানো। পাউবো কর্মকর্তারা অনুমতি না দিলে ডাম্পিং করা যাবে না। এরমধ্যে আমাদের বাড়ি ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে। পরে বস্তা দিয়ে কি করবো। সাড়ে ৬ শ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। কাজের কাজ হচ্ছে না। এটা লুটপাটের পায়তারা বলে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এবিষয়ে বক্তব্য নিতে বারবার চেষ্টা করেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই পাশে জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। এবং জিও টিউব সংযোজন করা হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙ্গন রোধের সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি চৌহালীতে আমাদের একটা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এবং সেই প্রকল্পের কাজ অতি শীঘ্রই শুরু হবে।
এবং ভাঙ্গন রোধ করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।