ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান

বার বার অনুরোধ করার পরও বাসের গতি কমায়নি চালক

রিপোর্টার শান্ত হোসেন 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪ ৮০ বার পড়া হয়েছে

বার বার অনুরোধ করার পরও বাসের গতি কমায়নি চালক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি একজনের পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের টেকনাফের মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৩০), চট্টগ্রামের বাশখালীর বাহারছড়া গ্রামের নুরুল আবছারের ছেলে বদরুল হাসান রিয়াদ (২৬), নোয়াখালীর চাটখিলের নাসির উদ্দিন (৩২) ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মাসুক মিয়া (৪০)।বাসটিতে থাকা যাত্রী ও বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ঘুমো ঘুমো চোখে বেশ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক। যাত্রীদের বেশিরভাগ ওই সময় ঘুমিয়ে থাকলেও সজাগ যাত্রীদের সবাই কম গতিতে চালাতে অনুরোধ করেছিলেন বারবার। কিন্তু চালক কথা শোনেননি।মো. সুমন নামের এক যাত্রী বলেন, সায়েদাবাদ থেকে গাড়িতে ওঠেছি। ২৮ জন যাত্রী নিয়ে গাড়িটি রাত ২টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ছাড়ার পর থেকেই বেশ বেপরোয়া গতিতে বাসটি চলছিল। দোতলা বাসটির উপরের তলা এবং নীচ তলায় থাকা যাত্রীরা সবাই কম গতিতে বাসটি চালানোর জন্য চিৎকার করছিল। কিন্তু চালক তা শোনেননি।ভোররাতে কুমিল্লার একটি হোটেলে যাত্রাবিরতি দেয়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন চালকমো. নাবিল নামের এক যাত্রী বলেন, বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলাম। চোখ মেলে দেখি কাত হয়ে পড়ে থাকা বাসে আটকে আছি। কাঁচের গ্লাসে মোড়ানো থাকায় কোন দিকে দিয়ে বের হবো বুঝতে পারছিলাম না। পরে কয়েকজন মিলে কাঁচের গ্লাস ভেঙে বের হয়ে আহতদের বের করে আনার চেষ্টা করি। এটা একটা দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। আমার জীবনে প্রথম এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী হলাম।এদিকে ঘটনার পর থেকেই বাসের চালক এবং সহকারী পলাতক রয়েছেন। বাসটিকে উদ্ধার করে মিয়া বাজার হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।মিয়া বাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, চালকের চোখে অনেক ঘুম ছিল। ঘুমের চোখ নিয়েই বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন তিনি।ওসি আরও বলেন, নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাসের চালক এবং সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। তবে এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বাসের মালিক পক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৭ মে) ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিল্যাক্স পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বার বার অনুরোধ করার পরও বাসের গতি কমায়নি চালক

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৬:০৯:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

বার বার অনুরোধ করার পরও বাসের গতি কমায়নি চালক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি একজনের পরিচয় সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, কক্সবাজারের টেকনাফের মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (৩০), চট্টগ্রামের বাশখালীর বাহারছড়া গ্রামের নুরুল আবছারের ছেলে বদরুল হাসান রিয়াদ (২৬), নোয়াখালীর চাটখিলের নাসির উদ্দিন (৩২) ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মাসুক মিয়া (৪০)।বাসটিতে থাকা যাত্রী ও বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ঘুমো ঘুমো চোখে বেশ বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক। যাত্রীদের বেশিরভাগ ওই সময় ঘুমিয়ে থাকলেও সজাগ যাত্রীদের সবাই কম গতিতে চালাতে অনুরোধ করেছিলেন বারবার। কিন্তু চালক কথা শোনেননি।মো. সুমন নামের এক যাত্রী বলেন, সায়েদাবাদ থেকে গাড়িতে ওঠেছি। ২৮ জন যাত্রী নিয়ে গাড়িটি রাত ২টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ছাড়ার পর থেকেই বেশ বেপরোয়া গতিতে বাসটি চলছিল। দোতলা বাসটির উপরের তলা এবং নীচ তলায় থাকা যাত্রীরা সবাই কম গতিতে বাসটি চালানোর জন্য চিৎকার করছিল। কিন্তু চালক তা শোনেননি।ভোররাতে কুমিল্লার একটি হোটেলে যাত্রাবিরতি দেয়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে থাকেন চালকমো. নাবিল নামের এক যাত্রী বলেন, বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলাম। চোখ মেলে দেখি কাত হয়ে পড়ে থাকা বাসে আটকে আছি। কাঁচের গ্লাসে মোড়ানো থাকায় কোন দিকে দিয়ে বের হবো বুঝতে পারছিলাম না। পরে কয়েকজন মিলে কাঁচের গ্লাস ভেঙে বের হয়ে আহতদের বের করে আনার চেষ্টা করি। এটা একটা দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। আমার জীবনে প্রথম এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী হলাম।এদিকে ঘটনার পর থেকেই বাসের চালক এবং সহকারী পলাতক রয়েছেন। বাসটিকে উদ্ধার করে মিয়া বাজার হাইওয়ে থানায় আনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।মিয়া বাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, চালকের চোখে অনেক ঘুম ছিল। ঘুমের চোখ নিয়েই বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালাচ্ছিলেন তিনি।ওসি আরও বলেন, নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বাসের চালক এবং সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি। তবে এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বাসের মালিক পক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৭ মে) ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রিল্যাক্স পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে গুরুতর কয়েকজনকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে