ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত

কেরু এন্ড কোম্পানির পরিচালকমহোদয় ও কর্মকর্তাবৃন্দের হেয়ালিপনা ও দালালদের দুর্নিতির খেশারত একটি তাজা প্রাণ। 

শাকিল আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যুরো চীফ 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৬:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

দর্শনার কেরু চিনিকল কারখানা বিভাগের মৌসুমি শ্রমিক ইউসুফ রানা (৫০) চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ঋণ করে মোটা অংকের ঘুষ দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। আবার ঘুষ দেওয়া টাকা ফেরৎ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে কেরুর মৌসুমি শ্রমিক ইউসুপ রানা। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইউসুফ রানা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার হিজলগাড়ি গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।এলাকাবাসী জানান, ধার দেনা করে নেওয়া টাকা পাওনাদারদের ফেরত দিতে না পারায় পারিবারিক অশান্তিসহ বিভিন্ন ঝামেলা হওয়ায় ঘাসমারা ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা হিজলগাড়ি বাজারের সংগ্রাম হোটেল এর মালিক কেরু চিনিকলের কারখানা বিভাগের (ম্যাংগাপ্যান হেলফার) শ্রমিক ইউসুফ রানা। সে দীর্ঘদিন কেরুর মৌসুমি কর্মচারি হিসেবে কারখানায় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এ বছর মিল কর্তৃপক্ষ মৌসুমি থেকে স্থায়ীকরনের সার্কুলার দিলে অন্যান্যদের সাথে তিনিও স্থায়ীকরনের আবেদন করেন ও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরিক্ষা দেন। ওই পরীক্ষায় ১০৪ জন কৃতকার্য হওয়ার মধ্যে ইউসুফ রানার নাম থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানতে পারে লিস্টে তার নাম নেই।স্বজনদের অভিযোগ, চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য এনজিও থেকে ঋণ, নিজস্ব হোটেল ও পরিবার থেকে বেশ কিছু টাকা দেয়া হয়েছিল। ১০৪ জনের কৃতকার্য তালিকায় ইউসুফের নাম না থাকলেও ওয়েটিং লিস্টে তার নাম আছে বলে টাকার নেওয়া জনৈক ব্যক্তিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এভাবে গত দেড়মাস অতিবাহিত হলেও চাকরি তো দূরের কথা আসল টাকাও ইউসুপফ রানা ফেরত পায়নি বলেও পরিবারের লোকজন জানান। দিনে দিনে ঋনের বোঝা বাড়তেই থাকে। ফলে নানা মুখি ঝামেলার বিষয় নিয়ে গত দু তিন দিন ধরে তার বাড়িতে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি, অশান্তি সহ বড় রকমের ঝামেলা হয়। ঘুষের টাকা ফেরত না পাওয়ায় পারিবারিক অশান্তি ও নানান মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ইউসুফ রানা গত শনিবার সকালের দিকে সবার অজান্তে বাড়ির পাশে মাঠে গিয়ে ঘাসমারা বিষ পান করে।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা টেরপেয়ে দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রবিবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সে মারা যায়।এ বিষয় বেগমপুর ইউপি সদস্য আলিকদর ও প্রতিবেশী জসিম বলেন, মৃত ইউসুফ রানা কেরু চিনি কলে মৌসুমীর কর্মচারী ছিলেন চাকরী স্থায়ীকরণের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে মোটা অংকের টাকা দেয়। এসব টাকা উদ্ধার করতে না পেরে বাড়িতে অশান্তির কারণে সে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।কেরুর মহা ব্যাবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার জানান, ইউসুফ রানা বলে আমি কাউকে চিনিনা। চাকরির বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব।দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, কেরুর কর্মচারি ইউসুফ রানার বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল থেকে আমাদের একটি ম্যাসেজ দিয়েছিল, মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয়। প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহী থানা পুলিশকে বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কেরু এন্ড কোম্পানির পরিচালকমহোদয় ও কর্মকর্তাবৃন্দের হেয়ালিপনা ও দালালদের দুর্নিতির খেশারত একটি তাজা প্রাণ। 

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৬:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

দর্শনার কেরু চিনিকল কারখানা বিভাগের মৌসুমি শ্রমিক ইউসুফ রানা (৫০) চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য ঋণ করে মোটা অংকের ঘুষ দিয়েছিল। কিন্তু তাতেও চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। আবার ঘুষ দেওয়া টাকা ফেরৎ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে কেরুর মৌসুমি শ্রমিক ইউসুপ রানা। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইউসুফ রানা চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানার হিজলগাড়ি গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।এলাকাবাসী জানান, ধার দেনা করে নেওয়া টাকা পাওনাদারদের ফেরত দিতে না পারায় পারিবারিক অশান্তিসহ বিভিন্ন ঝামেলা হওয়ায় ঘাসমারা ওষুধ খেয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা হিজলগাড়ি বাজারের সংগ্রাম হোটেল এর মালিক কেরু চিনিকলের কারখানা বিভাগের (ম্যাংগাপ্যান হেলফার) শ্রমিক ইউসুফ রানা। সে দীর্ঘদিন কেরুর মৌসুমি কর্মচারি হিসেবে কারখানায় নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। এ বছর মিল কর্তৃপক্ষ মৌসুমি থেকে স্থায়ীকরনের সার্কুলার দিলে অন্যান্যদের সাথে তিনিও স্থায়ীকরনের আবেদন করেন ও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরিক্ষা দেন। ওই পরীক্ষায় ১০৪ জন কৃতকার্য হওয়ার মধ্যে ইউসুফ রানার নাম থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে জানতে পারে লিস্টে তার নাম নেই।স্বজনদের অভিযোগ, চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য এনজিও থেকে ঋণ, নিজস্ব হোটেল ও পরিবার থেকে বেশ কিছু টাকা দেয়া হয়েছিল। ১০৪ জনের কৃতকার্য তালিকায় ইউসুফের নাম না থাকলেও ওয়েটিং লিস্টে তার নাম আছে বলে টাকার নেওয়া জনৈক ব্যক্তিরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল। এভাবে গত দেড়মাস অতিবাহিত হলেও চাকরি তো দূরের কথা আসল টাকাও ইউসুপফ রানা ফেরত পায়নি বলেও পরিবারের লোকজন জানান। দিনে দিনে ঋনের বোঝা বাড়তেই থাকে। ফলে নানা মুখি ঝামেলার বিষয় নিয়ে গত দু তিন দিন ধরে তার বাড়িতে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি, অশান্তি সহ বড় রকমের ঝামেলা হয়। ঘুষের টাকা ফেরত না পাওয়ায় পারিবারিক অশান্তি ও নানান মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ইউসুফ রানা গত শনিবার সকালের দিকে সবার অজান্তে বাড়ির পাশে মাঠে গিয়ে ঘাসমারা বিষ পান করে।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা টেরপেয়ে দ্রুত তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গতকাল রবিবার ভোরে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সে মারা যায়।এ বিষয় বেগমপুর ইউপি সদস্য আলিকদর ও প্রতিবেশী জসিম বলেন, মৃত ইউসুফ রানা কেরু চিনি কলে মৌসুমীর কর্মচারী ছিলেন চাকরী স্থায়ীকরণের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে মোটা অংকের টাকা দেয়। এসব টাকা উদ্ধার করতে না পেরে বাড়িতে অশান্তির কারণে সে বিষ পানে আত্মহত্যা করে।কেরুর মহা ব্যাবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার জানান, ইউসুফ রানা বলে আমি কাউকে চিনিনা। চাকরির বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব।দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা জানান, কেরুর কর্মচারি ইউসুফ রানার বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল থেকে আমাদের একটি ম্যাসেজ দিয়েছিল, মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয়। প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার জন্য রাজশাহী থানা পুলিশকে বলা হয়েছে।