জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক গেজেট থেকে বাদপড়া প্রধান শিক্ষকদের “প্রধান শিক্ষক” পদে গেজেট বাস্তবায়নের দাবীতে-

- নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৪০:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪ ৬৩৮ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করছি। নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য কামনা করে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করছি।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড” আর শিক্ষার প্রথম স্তর হলো প্রাথমিক শিক্ষা। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। বিগত সরকার প্রধান ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারী ঐতিহাসিক শিক্ষক সমাবেশের মাধ্যমে দেশের ২৬,১৯৩টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত ১,০৮,৭৭২ জন শিক্ষকের চাকুরী জাতীয়করণ করেন। জাতীয়করণকৃত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষনা দেওয়া হয়। সেই ঘোষনা অনুসারে ২৬,১৯৩ টি বিদ্যালয়ের জন্য ২৬,১৯৩ টি প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১ম ধাপের-২২,৯৮১ জন শিক্ষকদের মধ্যে কিছু সংখ্যক প্রধান শিক্ষক-কে গেজেটে অর্ন্তভুক্ত করা হয় কিন্তু ১ম যাপের বাকী শিক্ষকসহ ২য় ধাপের-২২৫২টি এবং ৩য় ধাপের-৯৬০টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও “প্রধান শিক্ষক” পদে অদৃশ্য ইশারার কারনে শিক্ষক গেজেট থেকে “প্রধান শিক্ষক” পদটি স্থগিত রেখে সহকারী শিক্ষক হিসাবে গেজেট প্রকাশ করেন তাই বাদপড়া প্রধান শিক্ষকগণ বৈষম্যর শিকার হনপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরামহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত ১২/০৮/২০১৩ তারিখের ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০৩,০০.২০১৩-৩০০ নম্বর গেজেটে উল্লেখ আছে যে, “(ঘ) জাতীয়করণকৃত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হইবে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের এইভাবে সৃজিত পদের বিপরীতে আত্তীকরণের পর অবশিষ্ট পদ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে।” অর্থাৎ ‘জাতীয়করণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক যে যে পদে কর্মরত ছিলেন, সেই শিক্ষককে সেই পদেই আত্তীকরণের পর অবশিষ্ট সৃষ্ট শূন্যপদ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করিতে হইবে।”প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,প্রথম ধাপ অবশিষ্ট কমিউনিটি বিদ্যালয়, প্রথম ধাপ অবশিষ্ট রেজিষ্টার্ড বিদ্যালয়, দ্বিতীয় ধাপ- ১৭১৯টি বিদ্যালয়, তৃতীয় ধাপ-৯৬০টি বিদ্যালয় শিক্ষক গেজেটের প্রাক্কালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ চেয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপজেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিসে প্রধান শিক্ষক চেয়ে তথ্য প্রেরণ করেন যাহার স্মারক নং-৩৮.০৭.০১৫.০০০.১৬০০.২০১৩/১১৪৩ তারিখ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৪ তার ফলশ্রুতিতে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কর্মরত প্রধান শিক্ষকের নাম উল্লেখ পূর্বক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়- ১ শাখায় প্রেরণ করেন। কিন্তু দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় সেই প্রধান শিক্ষকের পদ মনগড়াভাবে বাতিল করে সহকারি শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ৪ জনের নাম সহকারি শিক্ষক কর্মরত হিসেবে প্রেরণ করায় আমাদেরকে সহকারি হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে। বিগত সরকার প্রধান ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা এবং পরিপত্র থাকা সত্ত্বেও উক্ত বিদ্যালয় যোগ্যতা সম্পূর্ণ কর্মরত “প্রধান শিক্ষক” যারা ছিলেন তাদেরকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ-কে উপেক্ষা করে সহকারী শিক্ষক হিসাবে গেজেট প্রকাশ করেন এবং কর্মরত প্রধান শিক্ষকগণ বৈষম্যর শিকার হন।প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আমরা জাতীয়করণের পূর্বে তৎকালীন সময় সময় জারিকৃত গেজেট ও পরিপত্রের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসএমসি কর্তৃক প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে মেধা, শ্রম ও দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেছি। উক্ত বিষয়টি অদৃশ্য ইশারার কারনে প্রধান শিক্ষক পদে গেজেট করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রধান শিক্ষকগণ বৈষম্য শিকার হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে গেজেট ভুক্ত না হওয়ায় সংক্ষুব্দ প্রধান শিক্ষকগণ আদালতে দ্বারস্থ হয় এবং মাননীয় আদালত ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষকদের পক্ষে মামলার রায় প্রদান করেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা এবং পরিপত্রের আলোকে “প্রধান শিক্ষক” পদে গেজেট পাওয়া আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৫ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কোনো পদে কর্মরত কোনো ব্যক্তিকে কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে না এ মর্মে কারণ দর্শানোর যথাযথ সুযোগ না দিয়েচাকুরিচ্যুত বা অপসারণ করা বা তার পদাবনতি ঘটানো যাবে না।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জারিকৃত শিক্ষক গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা এবং পরিপত্র আপনাদের সামনে তুলে ধরছি:১. বেসরকারী উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, পরিচালনা ও নিবন্ধনের শর্ত ও নীতিমালা। স্মারক নং-প্রাগম/বিদ্যা-১/বিবিধ (পাঃ ভাতা)-৪০/০৮/০১ তাং-০১/০১/২০০৯অনুচ্ছেদের (ঘ) দফা:-বিদ্যালয় কমপক্ষে ৪ জন শিক্ষক থাকতে হবে, যাদের মধ্যে অন্তত ২(দুই) জন শিক্ষিকা হবেন। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য অনুসৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে, দুর্গম এলাকা যেমন প্রত্যন্ত চরাঞ্চল, হাওড় অঞ্চল, চা-বাগান, আদিবাসী অধ্যাষিত এলাকা বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, রাঙ্গামাটি, পার্বত্য জেলার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষক ও মহিলা শিক্ষিকার পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টি শিথিলযোগ্য। তবে, স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের পূর্বেই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন ও প্রয়োজনীয় সকল প্রশিক্ষন গ্রহন করতে হবে; অন্যথায় স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন ও এমপিওভুক্ত করা হবে না।২. প্রজ্ঞাপন উপজেলা/থানা ও জেলা যাচাই-বাছাই কমিটি (ক,খ,গ,ঘ) ছক স্মারক নং-৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০১.০০.২০১১-৪৪ তাং-২০/০১/২০১৩৪.২ শিক্ষক সংক্রান্ত: (ঘ) বিদ্যালয়ে সাধারণভাবে ১ জন প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষকের পদ থাকিবে। তবে ৪০০ জনের অধিক ছাত্র-ছাত্রী এমন বিদ্যালয়ে ৫ম শিক্ষকের পদ সৃজিত থাকিলে তাহা বিবেচনা করা যাইবে।৩. বিগত ২৯/০৯/২০১৩ তারিখে বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত ২৩/০৯/২০১৩ তারিখের এস.আর, ও নং-৩১৫ আইন/২০১৩। -যেহেতু Primary Schools (Taking Over) Act, 1974 অধিগ্রহণকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ) বিধিমালা-২০১৩ অনুচ্ছেদের ও দফাঃ-শিক্ষক” অর্থ কোন অধিগ্রহনকৃত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক পদে নিযুক্ত ব্যক্তি যিনি সরকার বা ক্ষেত্রমত, যথাযথ কর্তপক্ষ কর্তৃক, সময় সময় নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত হইয়া অব্যাহতভাবে উক্ত বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।৪. মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারিকৃত বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রকাশিত ১২-০৮- ২০১৩ তারিখের স্মারক নং-৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০৩.০০.২০১৩-৩০০৪.২ অনুচ্ছেদের (ঘ) দফাঃ-জাতীয়করণকৃত প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের জন্য ১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪ জন সহকারী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হইবে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের এইভাবে সৃজিত পদের বিপরীতে আত্তীকরণের পর অবশিষ্ট পদ নতুন নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হইবে।৫. ৫ম শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখার ২৪ জুলাই ২০১৩ তারিখের ৩৮.০০৭.০১৫.০০০.০৩.০০.২০১৩.৩০০ নং স্মারকমূলে জারীকৃত সংশোধনী প্রজ্ঞাপন স্পষ্টীকরণ। জনাব ফরিদ আহাম্মদ, সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাং-১৫/০৪/২০২৪ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪ জন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পরিচালিত হতো বিধায় উল্লিখিত প্রজ্ঞাপনে প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন শিক্ষকের পদের উল্লেখ করা হয়। জাতীয়করণকৃত এসকল বিদ্যালয়ে শিক্ষক আত্মীকরণের পর এসব বিদ্যালয়ের সেট আপ অন্যান্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুরুপ হবে এটিই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১ জন প্রধান শিক্ষক এবং ৪ জন সহকারী শিক্ষকসহ মোট ৫ জন সৃজন করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয়করনকৃত বিদ্যালয় সমূহের পদ সৃজনের ক্ষেত্রে যাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রমিত সেট আপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পদ সৃজন করতে পারে সে- লক্ষে ২০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখের প্রজ্ঞাপনের ৪.২ অনুচ্ছেদের (ঘ) দফা সংশোধন করা হয়।প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, এমতাবস্থায় বছরের পর বছর পদ বঞ্চিত শিক্ষকরা যেমন প্রাপ্য বেতন স্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ঠিক একইভাবে সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধিকতার সম্মুখিন হতে হচ্ছে তাই জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জারিকৃত শিক্ষক গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালা এবং পরিপত্র থাকা সত্তেও “প্রধান শিক্ষক” হিসেবে “প্রধান শিক্ষক” পদে গেজেটে অর্ন্তভুক্তিকরণ আমাদের সাংবিধানিক অধিকার তাই অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে “প্রধান শিক্ষক” হিসেবে গেজেট করার জোর দাবী জানাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।















