ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

বাবা 

ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

লিখক

শাহ কামাল সবুজ

বাবা, খুব একটা কাব্য নেই

তোমাকে নিয়ে

যতটা আমরা মাকে নিয়ে লিখি

কারণ, অযথা তুমি হা-পিত্যেস

করতে পারোনা, কেঁদে কেটে বুক

ভাসাতে পারোনা।

ক্ষয়িষ্ণু পাথরের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে

নুড়ি কণা হয়ে গেলেও

তোমাকে পাথরই থাকতে হয়।

বাবা, কারো কাছে আব্দার করার মতো

তোমার কেউ থাকেনা

কারো কাছে অভিযোগ দেয়ার মতো

তোমার কেউ থাকেনা।

বাবা, তোমার বিসর্জনের কথাগুলো কেউ জানেনা

তুমি কতকিছুই না ত্যাগ করো যখন “বাবা” হও,

এক সময়ে তোমার পোশাকে কখনো

ময়লা পড়তে দিতে না

সেই তুমি ধুলোবালি মাখা সন্তানকে

পরম আদরে কোলে তুলে নাও।

যে মানুষটি কখনো হাতে সামান্য বোঝা টুকুও

বহন করতে চাইতো না

সেই তুমি একসময় নিজের ভারী সন্তানকেও

কাধে নিয়ে ঘুরে বেড়াও!

সত্যিই বাবা, সন্তানের জন্য তুমি কি না করো

তোমার দূরন্ত যৌবন বিসর্জন দাও

সন্তানের জন্য তোমার সব সাধ, আহ্লাদ বিসর্জন দাও

এক সময় তুমি দারুণ আড্ডা দিতে বাবা

বন্ধু, বান্ধব হৈ হুল্লোড় এসবই ছিল তোমার জীবন

সেই তুমি, তোমার সন্তানদের জন্য একে একে

সব ছেড়ে দাও

হয়ে যাও ঘরকুনো এক বোবা পুরুষ

যে নিজেকে উজার করে সংসারে

সবকিছু দিয়ে যেতে শুরু করে।

বাবা, তোমার শার্টগুলো কখনো দামী হয়না

মায়েদের আলমারি ভর্তি শাড়ী, ওড়নার চেয়ে

কখনোই তা বেশি হয়না?

তোমার জুতো জোড়া চলে বছরের পর বছর

অকেঁজো মোবাইলটায় তুমি কথা বলো

চাপড়িয়ে, থাপড়িয়ে, ঝাকিঁয়ে

আর অচল কাটাওয়ালা ঘড়িটা হাতে পরো দিনের পর দিন-

তবু তা পাল্টাও না।

একা খেতে হলে সবচেয়ে সস্তা হোটেল খোঁজো

খুব অল্প কিছু খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করো।

কোথাও যেতে হলে লোকাল বাসে চড়ো

রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফুটপাতে হাটো

দু’পয়সা সঞ্চয় করো

স্ত্রী, সন্তানদের জন্য।

সামান্য অসুখেও তুমি উতাল হয়ে যাও বাবা,

তোমার জমানো যা আছে অকাতরে তা ব্যয় করো

সন্তানকে একটু সুস্থ দেখবে বলে।

বাবা, তুমি যতটুকু পড়েছো

তার চেয়ে উচ্চতর পড়াতে চাও

তোমার সন্তানদের

তুমি যতটুকু সুখ পেয়েছো তার চেয়েও অধিক সুখ দিতে চাও

তোমার সন্তানদের

তুমি নিজে মরেও এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ জীবন দিয়ে যাও তোমার সন্তানদের-

আর প্রাণাধিক মেয়েটাকে যখন তুলে দাও অন্যের হাতে

অঝোরে কেঁদে-কেটে,,,,,

তখন আকাশ বাতাস ভারী হয়-

তোমার বোবা কান্নায়।

তোমার এই অর্ন্তদহন

কেউ দেখে না বাবা!

বাবা! তুমি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

ভিতরে দুখের আগুনে জ্বলেপুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেলেও

চিরদিন তুমি সুখ চাও তোমার সন্তানদের।

তুমি যেখানেই থাকো

যতো দূরেই থাকো,,,

তুমি সুখে থাকো বাবা! তুমি সুখে থাকো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবা 

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:১৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

লিখক

শাহ কামাল সবুজ

বাবা, খুব একটা কাব্য নেই

তোমাকে নিয়ে

যতটা আমরা মাকে নিয়ে লিখি

কারণ, অযথা তুমি হা-পিত্যেস

করতে পারোনা, কেঁদে কেটে বুক

ভাসাতে পারোনা।

ক্ষয়িষ্ণু পাথরের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে

নুড়ি কণা হয়ে গেলেও

তোমাকে পাথরই থাকতে হয়।

বাবা, কারো কাছে আব্দার করার মতো

তোমার কেউ থাকেনা

কারো কাছে অভিযোগ দেয়ার মতো

তোমার কেউ থাকেনা।

বাবা, তোমার বিসর্জনের কথাগুলো কেউ জানেনা

তুমি কতকিছুই না ত্যাগ করো যখন “বাবা” হও,

এক সময়ে তোমার পোশাকে কখনো

ময়লা পড়তে দিতে না

সেই তুমি ধুলোবালি মাখা সন্তানকে

পরম আদরে কোলে তুলে নাও।

যে মানুষটি কখনো হাতে সামান্য বোঝা টুকুও

বহন করতে চাইতো না

সেই তুমি একসময় নিজের ভারী সন্তানকেও

কাধে নিয়ে ঘুরে বেড়াও!

সত্যিই বাবা, সন্তানের জন্য তুমি কি না করো

তোমার দূরন্ত যৌবন বিসর্জন দাও

সন্তানের জন্য তোমার সব সাধ, আহ্লাদ বিসর্জন দাও

এক সময় তুমি দারুণ আড্ডা দিতে বাবা

বন্ধু, বান্ধব হৈ হুল্লোড় এসবই ছিল তোমার জীবন

সেই তুমি, তোমার সন্তানদের জন্য একে একে

সব ছেড়ে দাও

হয়ে যাও ঘরকুনো এক বোবা পুরুষ

যে নিজেকে উজার করে সংসারে

সবকিছু দিয়ে যেতে শুরু করে।

বাবা, তোমার শার্টগুলো কখনো দামী হয়না

মায়েদের আলমারি ভর্তি শাড়ী, ওড়নার চেয়ে

কখনোই তা বেশি হয়না?

তোমার জুতো জোড়া চলে বছরের পর বছর

অকেঁজো মোবাইলটায় তুমি কথা বলো

চাপড়িয়ে, থাপড়িয়ে, ঝাকিঁয়ে

আর অচল কাটাওয়ালা ঘড়িটা হাতে পরো দিনের পর দিন-

তবু তা পাল্টাও না।

একা খেতে হলে সবচেয়ে সস্তা হোটেল খোঁজো

খুব অল্প কিছু খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করো।

কোথাও যেতে হলে লোকাল বাসে চড়ো

রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফুটপাতে হাটো

দু’পয়সা সঞ্চয় করো

স্ত্রী, সন্তানদের জন্য।

সামান্য অসুখেও তুমি উতাল হয়ে যাও বাবা,

তোমার জমানো যা আছে অকাতরে তা ব্যয় করো

সন্তানকে একটু সুস্থ দেখবে বলে।

বাবা, তুমি যতটুকু পড়েছো

তার চেয়ে উচ্চতর পড়াতে চাও

তোমার সন্তানদের

তুমি যতটুকু সুখ পেয়েছো তার চেয়েও অধিক সুখ দিতে চাও

তোমার সন্তানদের

তুমি নিজে মরেও এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ জীবন দিয়ে যাও তোমার সন্তানদের-

আর প্রাণাধিক মেয়েটাকে যখন তুলে দাও অন্যের হাতে

অঝোরে কেঁদে-কেটে,,,,,

তখন আকাশ বাতাস ভারী হয়-

তোমার বোবা কান্নায়।

তোমার এই অর্ন্তদহন

কেউ দেখে না বাবা!

বাবা! তুমি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি

ভিতরে দুখের আগুনে জ্বলেপুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেলেও

চিরদিন তুমি সুখ চাও তোমার সন্তানদের।

তুমি যেখানেই থাকো

যতো দূরেই থাকো,,,

তুমি সুখে থাকো বাবা! তুমি সুখে থাকো।