ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়

রিপোর্টার রোজিনা বেগম 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪ ৯১ বার পড়া হয়েছে

খাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জনগণের খাদ্য, ভূমি এ পানির অধিকারের দাবীতে এক সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীন শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, সহ-সভাপতি রেহেনা বেগম, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সহ-সভাপতি ডাঃ সামসুল আলম, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান নয়ন, ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম আজার, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালমা আক্তার, ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা মিশুক চালক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, বাংলাদেশ ছাত্র সভা গঠন প্রক্রিয়ার আহবায়ক লিডিয়া আহমেদ সিলভা প্রমূখ। সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সভার সভাপতি কমরেড বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতি সংঘের প্রতিষ্ঠান যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে লক্ষ্য আজও পূরণ হয় নি। বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তোলার ভুলে খাদ্যহীনতা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। আজও সারা বিশ্বে ৭৫ কোটি মতান্তরে ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে। বিশ্বের ৪৫০ কোটি মানুষ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পায় না। এ মানুষের ৫০% অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ তরফে খুধা ও দারিদ্র্য নিবারণ কল্পে ২০০০ সালে ১৫ বছর মেয়াদী ‘সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য’ ঘোষণা করা হয়েছিল। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ২০১৫ আবার ১৫ বছর মেয়াদী অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ‘স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য’ ঘোষণা করা হয়। আজ ২০২৪ সালের শেষ পর্যায়। বাকী ৫ বছরে লক্ষ্য পূরণ হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই। এ সব কিছু নির্দেশ করে বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা সমাধানের সঠিক রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না অথবা সচেনভাবে বিশ্বের জনগণকে ধোকা দিচ্ছে। অথবা ক্ষুধা ও দারিদ্যর প্রশ্ন নিয়ে জনগণের সাথে নিছক তামশা করছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এ মূহুর্তে এক কঠিন সময় পার করছে। প্রায় আড়াই মাস আগে একটি সরকারের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও জনজীবনে স্বস্তি আসেনি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনজীবনে নাভিশ্বাস এনেছে। বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে না। খাদ্য ক্রয়ের সক্ষমতা না থাকার কারনে মানুষ অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে স্বাস্থ্যহানী ঘটাচ্ছে। অতিমূল্যে খাদ্য কিনতে গিয়ে চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছে না। অথচ খাদ্য ও চিকিৎসা দুটোই জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, প্রায় ২২% লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে তাদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা মারাত্মক পর্যায়ের। তাদের জন্য যে সামাজিক সুরক্ষাজাল রয়েছে তা এ অবস্থা হতে উত্তরণে মোটেই যথেষ্ট নয়। কমরেড বদরুল আলম ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য টেকসই কৃষি ব্যবস্থা তথা পরিবেশ-বান্ধব চাষাবাদ (আযগ্রোইকোলজি) প্রবর্তন ও জমি এবং পানির উপর জনগণের অধিকা- প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আযগ্রোইকোলজি অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবে বলেও তিি অভিমত ব্যক্ত করেন। বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র কৃষক ও পারিবারিক কৃষককে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে খাদ সার্বভৌমত্বের নীতি-কৌশল দেশে দেশে উন্নয়ননীতিমালায় সংযুক্ত ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে তিনি মতামত ব্য করেন। বিশ্বের খুধা সূচক-২০২৪ অনুযায়ী এ বছর ক্ষুধা নিবারণের সক্ষমতায় ১২৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩ ধর পিছিয়ে ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকমতে বাংলাদেশ এখন মাঝারী মাত্রার খুধা মোকাবেলা করছে। এক কথায় দেল

নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে বলা যায়। তিনি এ অবস্থা হতে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের সরকারকে দেশের সক্রিয় কৃষক সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পথনকশা বের করা আহবান জানান।

সমাবেশ অনুষ্ঠানে বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের জীবনযাত্রার মানের কোন পরিবর্তন হয় নাই বরং অধোগতি হয়েছে। মানুষ খাদ্যদ্রব্য কিনতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। পরিবারের বাজেট কাটছাঁট করেও রক্ষা হচ্ছে না। এর উপর জলবায়ুজনিত কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বণ্যা এ অবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলছে। তারা খাদ্য সংকট ও দ্রব্যমূল্য প্রতিরোধে আশু ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান অন্তর্বর্তি সরকারের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা আরো বলেন, সরকারকে শুধু খাদ্যদিবস পালন করলে চলবে না, খাদ্য উৎপাদন, স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।সভায় প্রস্তাবিত দাবিসমূহঃ

১। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফঃ আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা হতে হাত গুটাও

২। আমাদের খাদ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য বিশ্বের ধনি দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩। খোদ কৃষি জমি অন্য কাজের জন্য রূপান্তর বন্ধ কর

৪। জমি ও পানির অধিকার জনগণকে এখনই ফিরিয়ে দাও

৫। আমদানি নির্ভরতা কমাও, স্থানীয় উৎপাদনকে সহায়তা কর

৬। রপ্তানির উদ্দেশ্যে এক ফসলি চাষাবাদ বন্ধ কর

৭। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ কর

৮। পরিবেশ-প্রতিবেশ বান্ধব চাষাবাদের ধরণ চালু কর

৯। খুধা-দারিদ্র্য নিরসনে খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা কর

উল্লেখ্য বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রতিবছর অক্টোবরের ১৬ তারিখ আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘উন্নত জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য অধিকার’। দিবসটি ১৯৮১ সাল হতে নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে। ১৯৪৫ সালে ‘খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)’-র প্রতিষ্ঠাকে স্মরণ করে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা যথা-বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলও দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। এ বছর দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব এজন্য যে, ২১-২৫ অক্টোবর জাতিসংঘের অধিনে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক অধিবেশনে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ক নীতি সুপারিশ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে (২০০৪ সালে গৃহীত) আলোচনা ও অনুসমর্থন করবে। একই সময়ে বিশ্ব ব্যাংক- আইএমএফের বাৎসরিক সভা হতে যাচ্ছে অ্যামেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখানেও বিশ্বের খাদ্য ও কৃষি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়

নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০২৪

খাদ্য দিবসের প্রেক্ষাপটে ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জনগণের খাদ্য, ভূমি এ পানির অধিকারের দাবীতে এক সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি কমরেড বদরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীন শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, সহ-সভাপতি রেহেনা বেগম, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী লাভলী ইয়াসমিন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সহ-সভাপতি ডাঃ সামসুল আলম, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান নয়ন, ন্যাশনাল লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মরিয়ম আজার, মাদারল্যান্ড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভানেত্রী সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সালমা আক্তার, ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা মিশুক চালক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন দুলাল, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, বাংলাদেশ ছাত্র সভা গঠন প্রক্রিয়ার আহবায়ক লিডিয়া আহমেদ সিলভা প্রমূখ। সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সভার সভাপতি কমরেড বদরুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতি সংঘের প্রতিষ্ঠান যে লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে লক্ষ্য আজও পূরণ হয় নি। বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা গড়ে তোলার ভুলে খাদ্যহীনতা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। আজও সারা বিশ্বে ৭৫ কোটি মতান্তরে ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকে। বিশ্বের ৪৫০ কোটি মানুষ পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পায় না। এ মানুষের ৫০% অবস্থান করছে এশিয়া মহাদেশে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ তরফে খুধা ও দারিদ্র্য নিবারণ কল্পে ২০০০ সালে ১৫ বছর মেয়াদী ‘সহাস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য’ ঘোষণা করা হয়েছিল। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় ২০১৫ আবার ১৫ বছর মেয়াদী অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত ‘স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্য’ ঘোষণা করা হয়। আজ ২০২৪ সালের শেষ পর্যায়। বাকী ৫ বছরে লক্ষ্য পূরণ হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই। এ সব কিছু নির্দেশ করে বিশ্বের নীতিনির্ধারকরা সমাধানের সঠিক রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না অথবা সচেনভাবে বিশ্বের জনগণকে ধোকা দিচ্ছে। অথবা ক্ষুধা ও দারিদ্যর প্রশ্ন নিয়ে জনগণের সাথে নিছক তামশা করছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এ মূহুর্তে এক কঠিন সময় পার করছে। প্রায় আড়াই মাস আগে একটি সরকারের পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও জনজীবনে স্বস্তি আসেনি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি জনজীবনে নাভিশ্বাস এনেছে। বেশির ভাগ মানুষ প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করতে পারছে না। খাদ্য ক্রয়ের সক্ষমতা না থাকার কারনে মানুষ অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে স্বাস্থ্যহানী ঘটাচ্ছে। অতিমূল্যে খাদ্য কিনতে গিয়ে চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছে না। অথচ খাদ্য ও চিকিৎসা দুটোই জনগণের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। তিনি বলেন, প্রায় ২২% লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে তাদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা মারাত্মক পর্যায়ের। তাদের জন্য যে সামাজিক সুরক্ষাজাল রয়েছে তা এ অবস্থা হতে উত্তরণে মোটেই যথেষ্ট নয়। কমরেড বদরুল আলম ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য টেকসই কৃষি ব্যবস্থা তথা পরিবেশ-বান্ধব চাষাবাদ (আযগ্রোইকোলজি) প্রবর্তন ও জমি এবং পানির উপর জনগণের অধিকা- প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আযগ্রোইকোলজি অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবে বলেও তিি অভিমত ব্যক্ত করেন। বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র কৃষক ও পারিবারিক কৃষককে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে খাদ সার্বভৌমত্বের নীতি-কৌশল দেশে দেশে উন্নয়ননীতিমালায় সংযুক্ত ও বাস্তবায়ন করা উচিত বলে তিনি মতামত ব্য করেন। বিশ্বের খুধা সূচক-২০২৪ অনুযায়ী এ বছর ক্ষুধা নিবারণের সক্ষমতায় ১২৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩ ধর পিছিয়ে ৮৪তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকমতে বাংলাদেশ এখন মাঝারী মাত্রার খুধা মোকাবেলা করছে। এক কথায় দেল

নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে বলা যায়। তিনি এ অবস্থা হতে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের সরকারকে দেশের সক্রিয় কৃষক সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট পথনকশা বের করা আহবান জানান।

সমাবেশ অনুষ্ঠানে বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের জীবনযাত্রার মানের কোন পরিবর্তন হয় নাই বরং অধোগতি হয়েছে। মানুষ খাদ্যদ্রব্য কিনতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। পরিবারের বাজেট কাটছাঁট করেও রক্ষা হচ্ছে না। এর উপর জলবায়ুজনিত কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বণ্যা এ অবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলছে। তারা খাদ্য সংকট ও দ্রব্যমূল্য প্রতিরোধে আশু ও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান অন্তর্বর্তি সরকারের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা আরো বলেন, সরকারকে শুধু খাদ্যদিবস পালন করলে চলবে না, খাদ্য উৎপাদন, স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।সভায় প্রস্তাবিত দাবিসমূহঃ

১। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফঃ আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা হতে হাত গুটাও

২। আমাদের খাদ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য বিশ্বের ধনি দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩। খোদ কৃষি জমি অন্য কাজের জন্য রূপান্তর বন্ধ কর

৪। জমি ও পানির অধিকার জনগণকে এখনই ফিরিয়ে দাও

৫। আমদানি নির্ভরতা কমাও, স্থানীয় উৎপাদনকে সহায়তা কর

৬। রপ্তানির উদ্দেশ্যে এক ফসলি চাষাবাদ বন্ধ কর

৭। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ কর

৮। পরিবেশ-প্রতিবেশ বান্ধব চাষাবাদের ধরণ চালু কর

৯। খুধা-দারিদ্র্য নিরসনে খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা কর

উল্লেখ্য বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রতিবছর অক্টোবরের ১৬ তারিখ আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘উন্নত জীবন ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য অধিকার’। দিবসটি ১৯৮১ সাল হতে নিয়মিত পালিত হয়ে আসছে। ১৯৪৫ সালে ‘খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)’-র প্রতিষ্ঠাকে স্মরণ করে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খাদ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট সংস্থা যথা-বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, কৃষি উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলও দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালন করে থাকে। এ বছর দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব এজন্য যে, ২১-২৫ অক্টোবর জাতিসংঘের অধিনে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক অধিবেশনে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিষয়ক নীতি সুপারিশ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে (২০০৪ সালে গৃহীত) আলোচনা ও অনুসমর্থন করবে। একই সময়ে বিশ্ব ব্যাংক- আইএমএফের বাৎসরিক সভা হতে যাচ্ছে অ্যামেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে। সেখানেও বিশ্বের খাদ্য ও কৃষি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়