ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ব্যক্তি আমানত ফোরাম এর আলোচনা।

রিপোর্টার শান্ত হোসেন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১৫০ বার পড়া হয়েছে

২০১৫ সালে পি.কে. হালদার সিন্ডিকেট যখন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর নিয়ন্ত্রন নেয় তখন এই কোম্পানী ১৯ বছরে পুরানো এবং তুলনামূলকভাবে ভাল একটা এন.বি.এফ.আই (NBFI) ছিল। আমানতকারীরা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বহিরাগত অংশীদার (External Stakeholder) তাই তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিণ গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তনের ব্যাপারে জানা সম্ভব হয় না যা কিনা পরবর্তীতে তাদের আমানতকৃত অর্থের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

আমাদের বক্তব্যসমূহ:

১। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স প্রাপ্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে জনসাধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎসহ হতে আমানত নিতে বৈধতা দিয়েছে।

২। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং- এর বর্তমান দুরবস্থা ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির জন্য না বরঞ্চ সরাসরি লুটপাটের জন্য হয়েছে। এই লুটপাট পি.কে. হালদার সিন্ডিকেট করতে পেরেছে বি.এস.ই.সি (BSEC) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক- এই দুটি রেগুলেটরী সংস্থার কারণে।

৩। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভণর এস. কে.সুর এবং জেনারেল ম্যানেজার শাহ আলম সরাসরি জনসাধারণের আমানত লুটপাটে এই সিন্ডিকেটকে সহায়তা করেছেন। তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন করা দরকার।

৪। ২০২০ সালে মহামান্য হাটকোর্ট কর্তৃক অবসরপ্রাপ্ত আমলা এন.আই.খান-কে চেয়ারম্যান করে নতুন একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। কিন্তু, দীর্ঘ ৪ বছর অতিক্রম করার পর, আমরা আমানতকারীরা বলছি, একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ আমাদের স্বার্থ রক্ষায় একেবারেই অক্ষম। ৫। এই কোম্পানী না পারছে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে, না পারছে ব্যবসা করতে অথচ তারা চেয়ারম্যান, এমডি, উপ-এমডি সহ একটি বিরাট কর্মীবাহিনী এবং ব্যয় বহুল একটি অফিস স্পেস ভাড়া নিয়ে চলছে, যা অনৈতিক।

৬। অবসরপ্রাপ্ত আমলা এন.আই. খান এর নেতৃত্বে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর এই জটিল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান লাভ একদমই অসম্ভব। তিনি এই ডুবন্ত প্রতিষ্ঠানে তার পরিবার ও পরিজন থেকে ৭/১০ জনকে চাকুরি দিয়েছেন। এই কেম্পানীর চেয়ারম্যান থেকে এই কোম্পানীর কুমিরের খামার (ময়মনসিংহে অবস্থিত) উদ্দীপন নামে একটি এন.জি.ও.কে দিয়েছেন- যার চেয়ারম্যান ও তিনি। এখানে আমানতকারীদের স্বার্থ বেশ ভালভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এন, আই, খান-কে অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে তার এই সমস্ত কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান করে দোষ পাওয়া গেলে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৭। ভারতে আটক পি.কে. হালদার এবং বাংলাদেশে আটক নাহিদা রুনাই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং- এর ব্যাপারে অনেক জানেন। তাই তার (পি.কে.) সাথে এখনই যোগাযোগ স্থাপন করা দরকার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করা হোক যাতে পি.কে. হালদারকে বাংলাদেশের অনুসন্ধানকারীদের সাথে নিয়মিতভাবে কথা বলতে ও দেখা করতে দেওয়া হয়। কারণ পি.কে. হালদার বাংলাদেশ থেকেই অর্থ লুটপাট এবং পাচার করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পি.কে. হালদার এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সমূহের তালিকা করা উচিত যা বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা এবং অন্য আরোও দেশ / দেশসমূহে ছড়িয়ে আছে এবং সেই সমস্ত সম্পদের সঠিক

বাজারমূল্য বের করতে হবে।

৮। আমাদের অর্থাৎ ব্যক্তি আমানতকারীদের আজীবনের সঞ্চয় গত ৬ বছর ধরে (২০১৮ হতে) আটকে আছে। এই সময় ১৪০০ ব্যক্তি আমানতকারী বাংলাদেশী নাগরিকের সঞ্চয় তার অন্তত ৭০% মূল্য হারিয়েছে। মানুষ মরণশীল এবং আমাদের জীবন খুবই সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জন্য আমাদের আমানত গত ৬ বছর ধরে আমরা ফেরত পাচ্ছি না। এর দায়িত্ব অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উচিত। কিন্তু তা তারা না নিয়ে টাকা উদ্ধারের পুরো দায়িত্ব আমাদের উপর ছেড়ে দিয়েছে এবং বলেছে যে যখন যে টাকা উদ্ধার হবে তা আনুপাতিকভাবে আমাদের দেয়া হবে। অর্থাৎ টাকা করে ফেরত পাওয়া যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যা খুবই অন্যায়।

৯। শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর খেলাপীঋণ ৩,৯১২ কোটি টাকা যা এনবিএফআই (NBFI) খাতের মোট খেলাপীঋণ ২৪,৭১১ কোটি টাকার ১৫.৮৩% (সূত্র: প্রথম আলো, ১৩ অক্টোবর ২০২৪)।

১০। পি.কে. হালদার মূলত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ফাস ফাইনান্স হতে অর্থ লুটপাট করেছেন। বি.আই.এফ.সি (BIFC) তে পি.কে. সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই তাদের আমানত গ্রহনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। পিপলসে মূলত ২০১৫ তে পি.কে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগের পরিচালনা পর্ষদ লুটপাট করে। এই ব্যাপারে পিপলসে আগে হওয়া (HODA VASI এর) স্পেশাল অডিট এবং দরকার হলে নতুন করে আবার অডিট এবং পি.কে ও রুনাই এর বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

১১। আমরা চাই সরকার, জনাব আরিফ খান (প্রাক্তন এমডি, আই.ডি.এল.সি) / তার সমমানের অন্যকোন সুনামধন্য কেরিয়ার ব্যাংকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করুক। এই কমিটির মূল কাজ হবে:

ক) স্বল্প মেয়াদে (আগামী ৪/৬ মাসের মধ্যে) ব্যক্তি আমানতকারীদের ২০১৯ হতে আটকে পরা মূল টাকা (Principal Amount) এবং তার সাথে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি কন্টিনজেন্ট একাউন্ট খুলে দিয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের এই প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সশীট হতে বাদ দিয়ে দেওয়া। এবং

খ) মধ্যম মেয়াদে (আগামী ৫ বছরের মধ্যে) লুট হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা (Detailed Action Plan) করা।

১২। গত ৪ বছর ধরে গড়ে ৯০% এর বেশী খেলাপীঋণ (NPL) থাকার পরেও চেয়ারম্যান এন.আই. খান এর নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চাইতে নতুন ঋণ (Fresh Loan) দিতে অধিক অগ্রহী। এটা ব্যাংকিং নীতির (Banking Norms) লংঘন এবং আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের খেলাপীঋণ হার (NPL) ৯০% এর অনেক নিচে থাকার পরেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের উপর নতুন ঋণ বিতরণে

নিষেধাজ্ঞা দেয়।

১৩। বাংলাদেশ ব্যাংক তার দেওয়া লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে তার পেশাদার নজরদারী না করা এবং তার উচ্চপদে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের পি,কে. হালদার সিন্ডিকেটের সাথে সংযোগ এবং দুর্নীতির কারণেই আমাদের আমানত সরাসরি লুট হয়ে গেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের একটি রেগুলেটরী প্রতিষ্ঠান তার নাগরিকদের সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অন্যায় / জালিয়াতি করেছে। এখন লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের সাথে ব্যাক্তি আমানতকারীদের আমানত ফেরতকে সম্পর্কিত করলে তা হবে আমাদের সাথে রাষ্ট্রের আবারও একটি চরম অন্যায়। ব্যক্তি আমানতকারীরা মরণশীল, অনেকেই ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা ৬ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের আমানত ফেরত পাচ্ছি না। কাজেই লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ব্যক্তি আমানতকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের অর্থ ফেরত দেওয়া এই দুই মূল কাজকে পৃথক হিসাবে ধরে আমাদের এগুতে হবে।

আমরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ব্যক্তি আমানতকারী ফোরাম (International Leasing Individual Depositors’ Forum) আমাদের বিস্তারিত বক্তব্য এবং তথ্য আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা (অধ্যাপক ডঃ ইউনুস), মাননীয় অর্থ উপদেষ্টা (ডঃ সালেহউদ্দিন আহমেদ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গর্ভণর (ডঃ আহসান এইচ মনসুর) মহোদয়কে দিতে চাই। আমাদের বিনীত অনুরোধ যাতে উনারা আমাদেরকে ডেকে আমাদের বক্তব্য শুনেন। আপনাদেরকে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা। অশেষ ধন্যবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ব্যক্তি আমানত ফোরাম এর আলোচনা।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ নভেম্বর ২০২৪

২০১৫ সালে পি.কে. হালদার সিন্ডিকেট যখন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর নিয়ন্ত্রন নেয় তখন এই কোম্পানী ১৯ বছরে পুরানো এবং তুলনামূলকভাবে ভাল একটা এন.বি.এফ.আই (NBFI) ছিল। আমানতকারীরা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বহিরাগত অংশীদার (External Stakeholder) তাই তাদের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরিণ গুরুত্বপূর্ন পরিবর্তনের ব্যাপারে জানা সম্ভব হয় না যা কিনা পরবর্তীতে তাদের আমানতকৃত অর্থের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

আমাদের বক্তব্যসমূহ:

১। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক লাইসেন্স প্রাপ্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে জনসাধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎসহ হতে আমানত নিতে বৈধতা দিয়েছে।

২। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং- এর বর্তমান দুরবস্থা ব্যবসায়িক লাভ-ক্ষতির জন্য না বরঞ্চ সরাসরি লুটপাটের জন্য হয়েছে। এই লুটপাট পি.কে. হালদার সিন্ডিকেট করতে পেরেছে বি.এস.ই.সি (BSEC) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক- এই দুটি রেগুলেটরী সংস্থার কারণে।

৩। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভণর এস. কে.সুর এবং জেনারেল ম্যানেজার শাহ আলম সরাসরি জনসাধারণের আমানত লুটপাটে এই সিন্ডিকেটকে সহায়তা করেছেন। তাদেরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন করা দরকার।

৪। ২০২০ সালে মহামান্য হাটকোর্ট কর্তৃক অবসরপ্রাপ্ত আমলা এন.আই.খান-কে চেয়ারম্যান করে নতুন একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। কিন্তু, দীর্ঘ ৪ বছর অতিক্রম করার পর, আমরা আমানতকারীরা বলছি, একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ আমাদের স্বার্থ রক্ষায় একেবারেই অক্ষম। ৫। এই কোম্পানী না পারছে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে, না পারছে ব্যবসা করতে অথচ তারা চেয়ারম্যান, এমডি, উপ-এমডি সহ একটি বিরাট কর্মীবাহিনী এবং ব্যয় বহুল একটি অফিস স্পেস ভাড়া নিয়ে চলছে, যা অনৈতিক।

৬। অবসরপ্রাপ্ত আমলা এন.আই. খান এর নেতৃত্বে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর এই জটিল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রান লাভ একদমই অসম্ভব। তিনি এই ডুবন্ত প্রতিষ্ঠানে তার পরিবার ও পরিজন থেকে ৭/১০ জনকে চাকুরি দিয়েছেন। এই কেম্পানীর চেয়ারম্যান থেকে এই কোম্পানীর কুমিরের খামার (ময়মনসিংহে অবস্থিত) উদ্দীপন নামে একটি এন.জি.ও.কে দিয়েছেন- যার চেয়ারম্যান ও তিনি। এখানে আমানতকারীদের স্বার্থ বেশ ভালভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এন, আই, খান-কে অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে তার এই সমস্ত কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান করে দোষ পাওয়া গেলে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৭। ভারতে আটক পি.কে. হালদার এবং বাংলাদেশে আটক নাহিদা রুনাই ইন্টারন্যাশনাল লিজিং- এর ব্যাপারে অনেক জানেন। তাই তার (পি.কে.) সাথে এখনই যোগাযোগ স্থাপন করা দরকার। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করা হোক যাতে পি.কে. হালদারকে বাংলাদেশের অনুসন্ধানকারীদের সাথে নিয়মিতভাবে কথা বলতে ও দেখা করতে দেওয়া হয়। কারণ পি.কে. হালদার বাংলাদেশ থেকেই অর্থ লুটপাট এবং পাচার করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পি.কে. হালদার এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের নামে বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সমূহের তালিকা করা উচিত যা বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা এবং অন্য আরোও দেশ / দেশসমূহে ছড়িয়ে আছে এবং সেই সমস্ত সম্পদের সঠিক

বাজারমূল্য বের করতে হবে।

৮। আমাদের অর্থাৎ ব্যক্তি আমানতকারীদের আজীবনের সঞ্চয় গত ৬ বছর ধরে (২০১৮ হতে) আটকে আছে। এই সময় ১৪০০ ব্যক্তি আমানতকারী বাংলাদেশী নাগরিকের সঞ্চয় তার অন্তত ৭০% মূল্য হারিয়েছে। মানুষ মরণশীল এবং আমাদের জীবন খুবই সীমিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের জন্য আমাদের আমানত গত ৬ বছর ধরে আমরা ফেরত পাচ্ছি না। এর দায়িত্ব অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উচিত। কিন্তু তা তারা না নিয়ে টাকা উদ্ধারের পুরো দায়িত্ব আমাদের উপর ছেড়ে দিয়েছে এবং বলেছে যে যখন যে টাকা উদ্ধার হবে তা আনুপাতিকভাবে আমাদের দেয়া হবে। অর্থাৎ টাকা করে ফেরত পাওয়া যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যা খুবই অন্যায়।

৯। শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর খেলাপীঋণ ৩,৯১২ কোটি টাকা যা এনবিএফআই (NBFI) খাতের মোট খেলাপীঋণ ২৪,৭১১ কোটি টাকার ১৫.৮৩% (সূত্র: প্রথম আলো, ১৩ অক্টোবর ২০২৪)।

১০। পি.কে. হালদার মূলত ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ফাস ফাইনান্স হতে অর্থ লুটপাট করেছেন। বি.আই.এফ.সি (BIFC) তে পি.কে. সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই তাদের আমানত গ্রহনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। পিপলসে মূলত ২০১৫ তে পি.কে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগের পরিচালনা পর্ষদ লুটপাট করে। এই ব্যাপারে পিপলসে আগে হওয়া (HODA VASI এর) স্পেশাল অডিট এবং দরকার হলে নতুন করে আবার অডিট এবং পি.কে ও রুনাই এর বক্তব্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে।

১১। আমরা চাই সরকার, জনাব আরিফ খান (প্রাক্তন এমডি, আই.ডি.এল.সি) / তার সমমানের অন্যকোন সুনামধন্য কেরিয়ার ব্যাংকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করুক। এই কমিটির মূল কাজ হবে:

ক) স্বল্প মেয়াদে (আগামী ৪/৬ মাসের মধ্যে) ব্যক্তি আমানতকারীদের ২০১৯ হতে আটকে পরা মূল টাকা (Principal Amount) এবং তার সাথে যৌক্তিক ক্ষতিপূরণ মূল্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি কন্টিনজেন্ট একাউন্ট খুলে দিয়ে দেওয়া এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তি আমানতকারীদের এই প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সশীট হতে বাদ দিয়ে দেওয়া। এবং

খ) মধ্যম মেয়াদে (আগামী ৫ বছরের মধ্যে) লুট হয়ে যাওয়া অর্থ ফেরত আনার একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা (Detailed Action Plan) করা।

১২। গত ৪ বছর ধরে গড়ে ৯০% এর বেশী খেলাপীঋণ (NPL) থাকার পরেও চেয়ারম্যান এন.আই. খান এর নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল লিজিং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার চাইতে নতুন ঋণ (Fresh Loan) দিতে অধিক অগ্রহী। এটা ব্যাংকিং নীতির (Banking Norms) লংঘন এবং আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের খেলাপীঋণ হার (NPL) ৯০% এর অনেক নিচে থাকার পরেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের উপর নতুন ঋণ বিতরণে

নিষেধাজ্ঞা দেয়।

১৩। বাংলাদেশ ব্যাংক তার দেওয়া লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে তার পেশাদার নজরদারী না করা এবং তার উচ্চপদে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের পি,কে. হালদার সিন্ডিকেটের সাথে সংযোগ এবং দুর্নীতির কারণেই আমাদের আমানত সরাসরি লুট হয়ে গেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের একটি রেগুলেটরী প্রতিষ্ঠান তার নাগরিকদের সাথে সর্বোচ্চ পর্যায়ের অন্যায় / জালিয়াতি করেছে। এখন লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের সাথে ব্যাক্তি আমানতকারীদের আমানত ফেরতকে সম্পর্কিত করলে তা হবে আমাদের সাথে রাষ্ট্রের আবারও একটি চরম অন্যায়। ব্যক্তি আমানতকারীরা মরণশীল, অনেকেই ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা ৬ বছরের অধিক সময় ধরে আমাদের আমানত ফেরত পাচ্ছি না। কাজেই লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং ব্যক্তি আমানতকারী বাংলাদেশী নাগরিকদের অর্থ ফেরত দেওয়া এই দুই মূল কাজকে পৃথক হিসাবে ধরে আমাদের এগুতে হবে।

আমরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ব্যক্তি আমানতকারী ফোরাম (International Leasing Individual Depositors’ Forum) আমাদের বিস্তারিত বক্তব্য এবং তথ্য আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা (অধ্যাপক ডঃ ইউনুস), মাননীয় অর্থ উপদেষ্টা (ডঃ সালেহউদ্দিন আহমেদ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গর্ভণর (ডঃ আহসান এইচ মনসুর) মহোদয়কে দিতে চাই। আমাদের বিনীত অনুরোধ যাতে উনারা আমাদেরকে ডেকে আমাদের বক্তব্য শুনেন। আপনাদেরকে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা। অশেষ ধন্যবাদ।