ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান

মৃ*ত্যু পূর্ববর্তী কবি হেলাল হাফিজের এক বিশেষ সাক্ষাৎকার

রিপোর্টার বিশেষ প্রতিনিধি
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার বিশেষ প্রতিনিধি

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও সাংবাদিকঃ শাহ কামাল সবুজ
একজন, হেলাল হাফিজ। যার জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর। যিনি বাংলা সাহিত্যে একজন আধুনিক কবি হিসেবে সমাধিক পরিচিত। যিনি বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে বেশ পরিচিতি পান। “যে জলে আগুন জ্বলে” ১৯৮৬ সালে তার প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে বেশ আলোড়ন তুলে।
খুব কাছ থেকে এই পিতৃসম মানুষটিকে আমি দেখি ২০১৫ সালের বইমেলায় মুক্তপ্রকাশ স্টলে। আমার ভাললাগার সন্মানিত কবিদের মধ্যে তিনি একজন। তারপর সেই শুরু এরপর প্রতিবছর বইমেলায় তার স্নেহ সান্নিধ্য আমি বহুবার পেয়েছি। আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি তার জীবনের কিছু কথা। যা এতদিন ছিল গোপনীয়, অপ্রকাশিত আজ তার মৃত্যুতে আমি হতবিহ্বল শোকাভিভূত, মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি শাহ কামাল সবুজ শাকাসঃ স্যার, আপনার জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন। যা আপনার জীবনে খুব রেখাপাত করেছে। অথবা যা এখনো প্রকাশ করেননি,,, এমন কিছু।কবি, হেলাল হাফিজঃ তিনটি ঘটনা আমাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসারবিমুখ করেছিল।৭২ বছরের জীবন পেলাম। সময়টা নেহাত কম নয়। দীর্ঘই বলা যায়। এই দীর্ঘ জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে তিনটি ঘটনার কথা আমার খুব মনে পড়ে। যা আমার জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। আমি সফল নাকি ব্যর্থ, সে হিসাব কষতে বসলেও ওই তিনটি ঘটনা অবধারিতভাবে সামনে চলে আসে। আজ আমার যতটুকু সফলতা, সেই তিনটি ঘটনা তার পেছনে দায়ী। আবার আমার যতটা ব্যর্থতা, তার পেছনেও আছে ওই তিন ঘটনা।প্রথম ঘটনা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) থাকি। ওই দিন সন্ধ্যায় নিউমার্কেটের দিকে আড্ডা দিয়ে রাতে হলে ফিরেছি। ক্যানটিন বন্ধ। খেতে গেলাম মেডিকেল গেটের কাছে পপুলার নামের একটা রেস্টুরেন্টে। খাওয়া শেষে মনে হলো, ফজলুল হক হলে বন্ধু হাবিবুল্লাহ থাকে, ওর সঙ্গে একটু দেখা করে আসি। গেলাম ফজলুল হক হলে। হাবিবুল্লাহর কক্ষে গিয়ে আমি আড্ডা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর, রাত তখন পৌনে ১০টা হবে, হঠাৎ গোলাগুলির বিকট আওয়াজ। আমরা হলের ছাদে উঠে দেখলাম, নীলক্ষেত, নিউমার্কেটের দিকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।২৭ মার্চ সকালে ইকবাল হলে গিয়ে দেখি, মাঠের মাঝখানে, এখানে-ওখানে শুধু লাশ আর লাশ। নিজের কক্ষে গিয়ে স্যুটকেস গুছিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। এখান থেকে পালাতে হবে, না হলে বাঁচা সম্ভব নয়। হলের গেটে এসে দেখি নির্মলেন্দু গুণ দাঁড়িয়ে আছে। সে বলল, ‘আমি ভেবেছি তুমি মারা গেছো, তোমার লাশ নিতে এসেছি।’ বলেই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আমিও সজোরে কাঁদতে লাগলাম। তারপর সেখান থেকে আমার বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়ে উঠলাম।এই ঘটনা আমার হৃদয়ে ব্যাপকভাবে ছাপ ফেলল। আমার তখন কেবলই মনে হতো, ওই রাতে যদি আমি ফজলুল হক হলে না গিয়ে নিজের হলে ফিরতাম, তাহলে তো বাঁচতাম না। একটা বোনাস জীবন পেয়েছি—এই উপলব্ধি আমার ভেতর বিরাট বৈরাগ্য এনে দিল। এক ধরনের সন্ন্যাস জীবনযাপন শুরু করলাম আমি।শাকাসঃ স্যার, আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে আল্লাহ যে কোনো উপায়ে হোক সেদিন আপনাকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। নইলে বাংলা সাহিত্যের এমন দিকপালকে আমরা কখনোই আর পেতাম না,,,, ফিরে আসি দ্বিতীয় ঘটনায়।কবি, হেলাল হাফিজঃ এর পরের ঘটনা ’৭৩ সালের জুনের। ১৯ জুন আমার পিতার মৃত্যু হলো। তিন বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর আব্বাই ছিলেন আমার সবকিছু। তাঁর মৃত্যু প্রবলভাবে ধাক্কা দিল আমাকে। মনে হলো, জগৎসংসার তুচ্ছ। সব অর্থহীন। আমার বৈরাগ্য আরও প্রগাঢ় হলো।শাকাসঃ স্যার, তিন বছর বয়সে যে সন্তান মাকে হারায় নিশ্চয়ই বাবা তার সব অবলম্বনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। আমরা উপলব্ধি করতে পারছি, আপনার শেষ অবলম্বন পিতা হারানোর কষ্ট।মা-বাবাকে আল্লাহ বেহেশত নসীব করুন।পাঠক আপনার তৃতীয় ঘটনা জানতে উদগ্রীব।কবি, হেলাল হাফিজঃ আব্বার মৃত্যুর মাসখানেক পরই ঘটল তৃতীয় ঘটনা। আর ঘটনাটি ঘটাল হেলেন, আমার প্রেমিকা। হেলেন হঠাৎ ডেকে বলল, ‘কবি, তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে।’ আমরা গিয়ে বসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে। সে অবলীলায় বলে চলল, ‘আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। বাবা-মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।’ছোটবেলা থেকে আমি খুব সহনশীল ছিলাম। প্রচণ্ড সহ্যশক্তি আমার। তাই ভেতরের ঝড় বুঝতে দিলাম না হেলেনকে। ওখান থেকে উঠে রিকশা নিয়ে সোজা হলে চলে গেলাম। ওটাই হেলেনের সঙ্গে আমার শেষ দেখা ও শেষ কথা।এই তিনটি ঘটনা আমাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসারবিমুখ করে ফেলল। আমার আর ঘর হলো না, সংসার হলো না, অর্থকড়ি হলো না, প্রতিষ্ঠা হলো না।এখন জীবনের প্রায় শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এখন কেবলই আমার মনে হয়, জীবনের সময়গুলো বৃথাই অপচয় করেছি। কত সুন্দর সুন্দর কবিতার পঙ্​ক্তি এসেছে মাথায়, আমি টেবিলে বসিনি, লিখিনি। জীবনটা অপচয়ই করেছি বলা যায়। এ জন্য আমি এখন ভীষণভাবে লজ্জিত, অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। এই দীর্ঘ জীবনে যাঁরা আমাকে ভালোবেসেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আর যাঁরা আমাকে ভালোবাসেননি, তাঁদের প্রতি আরও বেশি কৃতজ্ঞতা। কারণ তাঁদের অবহেলা, অনাদর, প্রত্যাখ্যান আর ঘৃণাই আমাকে কবি বানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মৃ*ত্যু পূর্ববর্তী কবি হেলাল হাফিজের এক বিশেষ সাক্ষাৎকার

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

রিপোর্টার বিশেষ প্রতিনিধি

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কবি ও সাংবাদিকঃ শাহ কামাল সবুজ
একজন, হেলাল হাফিজ। যার জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর। যিনি বাংলা সাহিত্যে একজন আধুনিক কবি হিসেবে সমাধিক পরিচিত। যিনি বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে বেশ পরিচিতি পান। “যে জলে আগুন জ্বলে” ১৯৮৬ সালে তার প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে বেশ আলোড়ন তুলে।
খুব কাছ থেকে এই পিতৃসম মানুষটিকে আমি দেখি ২০১৫ সালের বইমেলায় মুক্তপ্রকাশ স্টলে। আমার ভাললাগার সন্মানিত কবিদের মধ্যে তিনি একজন। তারপর সেই শুরু এরপর প্রতিবছর বইমেলায় তার স্নেহ সান্নিধ্য আমি বহুবার পেয়েছি। আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি তার জীবনের কিছু কথা। যা এতদিন ছিল গোপনীয়, অপ্রকাশিত আজ তার মৃত্যুতে আমি হতবিহ্বল শোকাভিভূত, মহান আল্লাহর কাছে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি শাহ কামাল সবুজ শাকাসঃ স্যার, আপনার জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন। যা আপনার জীবনে খুব রেখাপাত করেছে। অথবা যা এখনো প্রকাশ করেননি,,, এমন কিছু।কবি, হেলাল হাফিজঃ তিনটি ঘটনা আমাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসারবিমুখ করেছিল।৭২ বছরের জীবন পেলাম। সময়টা নেহাত কম নয়। দীর্ঘই বলা যায়। এই দীর্ঘ জীবনের পেছনে ফিরে তাকালে তিনটি ঘটনার কথা আমার খুব মনে পড়ে। যা আমার জীবনকে ওলটপালট করে দিয়েছে। আমি সফল নাকি ব্যর্থ, সে হিসাব কষতে বসলেও ওই তিনটি ঘটনা অবধারিতভাবে সামনে চলে আসে। আজ আমার যতটুকু সফলতা, সেই তিনটি ঘটনা তার পেছনে দায়ী। আবার আমার যতটা ব্যর্থতা, তার পেছনেও আছে ওই তিন ঘটনা।প্রথম ঘটনা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) থাকি। ওই দিন সন্ধ্যায় নিউমার্কেটের দিকে আড্ডা দিয়ে রাতে হলে ফিরেছি। ক্যানটিন বন্ধ। খেতে গেলাম মেডিকেল গেটের কাছে পপুলার নামের একটা রেস্টুরেন্টে। খাওয়া শেষে মনে হলো, ফজলুল হক হলে বন্ধু হাবিবুল্লাহ থাকে, ওর সঙ্গে একটু দেখা করে আসি। গেলাম ফজলুল হক হলে। হাবিবুল্লাহর কক্ষে গিয়ে আমি আড্ডা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর, রাত তখন পৌনে ১০টা হবে, হঠাৎ গোলাগুলির বিকট আওয়াজ। আমরা হলের ছাদে উঠে দেখলাম, নীলক্ষেত, নিউমার্কেটের দিকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।২৭ মার্চ সকালে ইকবাল হলে গিয়ে দেখি, মাঠের মাঝখানে, এখানে-ওখানে শুধু লাশ আর লাশ। নিজের কক্ষে গিয়ে স্যুটকেস গুছিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়লাম। এখান থেকে পালাতে হবে, না হলে বাঁচা সম্ভব নয়। হলের গেটে এসে দেখি নির্মলেন্দু গুণ দাঁড়িয়ে আছে। সে বলল, ‘আমি ভেবেছি তুমি মারা গেছো, তোমার লাশ নিতে এসেছি।’ বলেই সে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আমিও সজোরে কাঁদতে লাগলাম। তারপর সেখান থেকে আমার বড় ভাইয়ের বাসায় গিয়ে উঠলাম।এই ঘটনা আমার হৃদয়ে ব্যাপকভাবে ছাপ ফেলল। আমার তখন কেবলই মনে হতো, ওই রাতে যদি আমি ফজলুল হক হলে না গিয়ে নিজের হলে ফিরতাম, তাহলে তো বাঁচতাম না। একটা বোনাস জীবন পেয়েছি—এই উপলব্ধি আমার ভেতর বিরাট বৈরাগ্য এনে দিল। এক ধরনের সন্ন্যাস জীবনযাপন শুরু করলাম আমি।শাকাসঃ স্যার, আমাদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন যে আল্লাহ যে কোনো উপায়ে হোক সেদিন আপনাকে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। নইলে বাংলা সাহিত্যের এমন দিকপালকে আমরা কখনোই আর পেতাম না,,,, ফিরে আসি দ্বিতীয় ঘটনায়।কবি, হেলাল হাফিজঃ এর পরের ঘটনা ’৭৩ সালের জুনের। ১৯ জুন আমার পিতার মৃত্যু হলো। তিন বছর বয়সে মা মারা যাওয়ার পর আব্বাই ছিলেন আমার সবকিছু। তাঁর মৃত্যু প্রবলভাবে ধাক্কা দিল আমাকে। মনে হলো, জগৎসংসার তুচ্ছ। সব অর্থহীন। আমার বৈরাগ্য আরও প্রগাঢ় হলো।শাকাসঃ স্যার, তিন বছর বয়সে যে সন্তান মাকে হারায় নিশ্চয়ই বাবা তার সব অবলম্বনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। আমরা উপলব্ধি করতে পারছি, আপনার শেষ অবলম্বন পিতা হারানোর কষ্ট।মা-বাবাকে আল্লাহ বেহেশত নসীব করুন।পাঠক আপনার তৃতীয় ঘটনা জানতে উদগ্রীব।কবি, হেলাল হাফিজঃ আব্বার মৃত্যুর মাসখানেক পরই ঘটল তৃতীয় ঘটনা। আর ঘটনাটি ঘটাল হেলেন, আমার প্রেমিকা। হেলেন হঠাৎ ডেকে বলল, ‘কবি, তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে।’ আমরা গিয়ে বসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে। সে অবলীলায় বলে চলল, ‘আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি। বাবা-মা আমার বিয়ে ঠিক করেছে।’ছোটবেলা থেকে আমি খুব সহনশীল ছিলাম। প্রচণ্ড সহ্যশক্তি আমার। তাই ভেতরের ঝড় বুঝতে দিলাম না হেলেনকে। ওখান থেকে উঠে রিকশা নিয়ে সোজা হলে চলে গেলাম। ওটাই হেলেনের সঙ্গে আমার শেষ দেখা ও শেষ কথা।এই তিনটি ঘটনা আমাকে চিরস্থায়ীভাবে সংসারবিমুখ করে ফেলল। আমার আর ঘর হলো না, সংসার হলো না, অর্থকড়ি হলো না, প্রতিষ্ঠা হলো না।এখন জীবনের প্রায় শেষপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। এখন কেবলই আমার মনে হয়, জীবনের সময়গুলো বৃথাই অপচয় করেছি। কত সুন্দর সুন্দর কবিতার পঙ্​ক্তি এসেছে মাথায়, আমি টেবিলে বসিনি, লিখিনি। জীবনটা অপচয়ই করেছি বলা যায়। এ জন্য আমি এখন ভীষণভাবে লজ্জিত, অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। এই দীর্ঘ জীবনে যাঁরা আমাকে ভালোবেসেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আর যাঁরা আমাকে ভালোবাসেননি, তাঁদের প্রতি আরও বেশি কৃতজ্ঞতা। কারণ তাঁদের অবহেলা, অনাদর, প্রত্যাখ্যান আর ঘৃণাই আমাকে কবি বানিয়েছে।