ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিকের উপর অমানবিক শাস্তি, রাষ্ট্রপতির কঠোর প্রতিক্রিয়া

ফয়সাল হোসেন
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ইট তৈরির কারখানায় সম্প্রতি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিকের উপর বর্বর আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শ্রমিককে একটি ফর্কলিফ্টের সঙ্গে বেঁধে মাল রাখার শেলফের উপর তুলে রেখে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত, লজ্জাজনক এবং সম্পূর্ণরূপে অমানবিক।এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি এক বিবৃতিতে বলেন:“এটা অবিশ্বাস্য যে, একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি সংখ্যালঘু ও দুর্বলদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”তিনি আরও বলেন,“ক্ষমতাহীন ও সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সমাজের মনোভাবই আসল সামাজিক মানদণ্ড প্রকাশ করে।”রাষ্ট্রপতি লি জানিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শ্রম শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তিনি বলেন:“কোরিয়ান শ্রমিকরাও এক সময় জীবিকার জন্য বিদেশে গিয়ে নানা কষ্ট সহ্য করেছেন। সেই ত্যাগেই আজকের কোরিয়া গড়ে উঠেছে। অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”ঘটনাটি এখন রাষ্ট্রপতির নজরে আসায় অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার নতুন করে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন নির্যাতনের ঘটনা নয়; বরং এটি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবজ্ঞা ও অবমাননার বহিঃপ্রকাশ। এটি কোরিয়ান সমাজের জন্য একটি সতর্ক সংকেত, এবং এটি পরিবর্তনের সুযোগও হতে পারে।

 

উপসংহার:
এই ঘটনায় কেবল মানবাধিকার নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আশা করা যায়, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অমানবিকতা কঠোরভাবে রোধ করা হবে — ইনশাআল্লাহ।

দেশপ্রিয় অনলাইন | কোরিয়া ডেস্ক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিকের উপর অমানবিক শাস্তি, রাষ্ট্রপতির কঠোর প্রতিক্রিয়া

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:২৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ইট তৈরির কারখানায় সম্প্রতি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিকের উপর বর্বর আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শ্রমিককে একটি ফর্কলিফ্টের সঙ্গে বেঁধে মাল রাখার শেলফের উপর তুলে রেখে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত, লজ্জাজনক এবং সম্পূর্ণরূপে অমানবিক।এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি এক বিবৃতিতে বলেন:“এটা অবিশ্বাস্য যে, একটি বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক শক্তি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। এটি সংখ্যালঘু ও দুর্বলদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।”তিনি আরও বলেন,“ক্ষমতাহীন ও সংকটে থাকা মানুষের প্রতি সমাজের মনোভাবই আসল সামাজিক মানদণ্ড প্রকাশ করে।”রাষ্ট্রপতি লি জানিয়েছেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ এই ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও শ্রম শোষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তিনি বলেন:“কোরিয়ান শ্রমিকরাও এক সময় জীবিকার জন্য বিদেশে গিয়ে নানা কষ্ট সহ্য করেছেন। সেই ত্যাগেই আজকের কোরিয়া গড়ে উঠেছে। অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”ঘটনাটি এখন রাষ্ট্রপতির নজরে আসায় অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার রক্ষায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার নতুন করে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
এই ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন নির্যাতনের ঘটনা নয়; বরং এটি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবজ্ঞা ও অবমাননার বহিঃপ্রকাশ। এটি কোরিয়ান সমাজের জন্য একটি সতর্ক সংকেত, এবং এটি পরিবর্তনের সুযোগও হতে পারে।

 

উপসংহার:
এই ঘটনায় কেবল মানবাধিকার নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আশা করা যায়, সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অমানবিকতা কঠোরভাবে রোধ করা হবে — ইনশাআল্লাহ।

দেশপ্রিয় অনলাইন | কোরিয়া ডেস্ক