ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তেলের দাম বাড়লে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে : প্রতিমন্ত্রী জনাব মোঃ নুরুল হক নুর।  জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে ঐক্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত জরুরি নিখোঁজ সংবাদ প্রতিবেদন জৈন্তাপুরে প্রশাসক পদে আলোচনায় তরুণ ছাত্রনেতা কয়েস আহমদ ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল সৌদি আরব খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। ” —প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।  বাংলাদেশে টাকার অদ্ভুত বাজার: গুলিস্তানের হকারদের কাছে নতুন নোট—কার হাতে নিয়ন্ত্রণ কোন্ডা ইউনিকন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের ঈদ সামগ্রী বিতরণ , ইফতার ও দোয়া মাহফিল  খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভোগান্তিতে যাত্রীরা রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন 

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, গ্রামীণ ট্রাভেলস ও শ্যামলী ট্রাভেলসের কর্মীরা বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বরের পর এটি একই দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাস বন্ধের ঘটনা। তবে একতা পরিবহন ও কয়েকটি লোকাল বাস চলাচল করছে।
রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন রহিদুর রহমান। তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় বাস ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু এসে শুনি বাস বন্ধ। অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনের টিকিটও কাটা সম্ভব না। কয়েকটি কোম্পানির বাস চলছে, কিন্তু সেগুলোর টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে ঢাকাগামী বাসে আপ-ডাউন একটি ট্রিপে চালক পান মাত্র ১,২০০ টাকা, হেলপার পান ৬০০ টাকা এবং সুপারভাইজার পান আরও কম। এই সামান্য আয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মূল দাবিগুলো হলো, আপ-ডাউন একটি ট্রিপে চালকের বেতন ২ হাজার টাকা, সুপারভাইজারের বেতন ১ হাজার ১০০ টাকা এবং হেলপারের বেতন ১ হাজার টাকা করতে হবে। হোটেল ভাড়া বাবদ ২০০ টাকা এবং প্রতিবার খাবারের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হবে। প্রতি বছর বোনাস দিতে হবে।
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের হেলপার রেজা বলেন, আমরা এক ট্রিপে ৬০০ টাকা পাই। খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ৪০০ টাকা। মাসে ১৪টি ট্রিপ করলে আয় হয় ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর।

ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালক আলী হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমাদের ১ হাজার ১০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট বাস বন্ধ করলে মালিকপক্ষ বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা আবারও মালিকদের সঙ্গে বসব। একতার চালক পায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা, আর অন্য বাসের চালক পায় ১ হাজার ২৫০ টাকা। মালিকরা বারবার বেতন বাড়াতে চেয়েও বাড়াচ্ছেন না। তাই চালকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছে।
মালিকপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভোগান্তিতে যাত্রীরা রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ

নিউজ প্রকাশের সময় : ০২:২৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রিপোর্টার ফয়সাল হোসেন 

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

আজ সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ন্যাশনাল ট্রাভেলস, দেশ ট্রাভেলস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, গ্রামীণ ট্রাভেলস ও শ্যামলী ট্রাভেলসের কর্মীরা বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করছেন। গত ৭ সেপ্টেম্বরের পর এটি একই দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো বাস বন্ধের ঘটনা। তবে একতা পরিবহন ও কয়েকটি লোকাল বাস চলাচল করছে।
রাজশাহী থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন রহিদুর রহমান। তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় বাস ছাড়ার কথা ছিল, কিন্তু এসে শুনি বাস বন্ধ। অল্প সময়ের মধ্যে ট্রেনের টিকিটও কাটা সম্ভব না। কয়েকটি কোম্পানির বাস চলছে, কিন্তু সেগুলোর টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে ঢাকাগামী বাসে আপ-ডাউন একটি ট্রিপে চালক পান মাত্র ১,২০০ টাকা, হেলপার পান ৬০০ টাকা এবং সুপারভাইজার পান আরও কম। এই সামান্য আয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মূল দাবিগুলো হলো, আপ-ডাউন একটি ট্রিপে চালকের বেতন ২ হাজার টাকা, সুপারভাইজারের বেতন ১ হাজার ১০০ টাকা এবং হেলপারের বেতন ১ হাজার টাকা করতে হবে। হোটেল ভাড়া বাবদ ২০০ টাকা এবং প্রতিবার খাবারের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হবে। প্রতি বছর বোনাস দিতে হবে।
ন্যাশনাল ট্রাভেলসের হেলপার রেজা বলেন, আমরা এক ট্রিপে ৬০০ টাকা পাই। খরচ বাদ দিলে হাতে থাকে মাত্র ৪০০ টাকা। মাসে ১৪টি ট্রিপ করলে আয় হয় ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এই টাকায় সংসার চালানো কষ্টকর।

ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালক আলী হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমাদের ১ হাজার ১০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। গত ২৩ আগস্ট বাস বন্ধ করলে মালিকপক্ষ বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা আবারও মালিকদের সঙ্গে বসব। একতার চালক পায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা, আর অন্য বাসের চালক পায় ১ হাজার ২৫০ টাকা। মালিকরা বারবার বেতন বাড়াতে চেয়েও বাড়াচ্ছেন না। তাই চালকরা বাস বন্ধ করে দিয়েছে।
মালিকপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।