ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২০২টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি — দায় নেবে কে, শিক্ষক না শিক্ষার্থী?

রিপোর্টার হৃদয় চৌধুরী
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার হৃদয় চৌধুরী

০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের মোট ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফলাফলের এই ভয়াবহ চিত্র শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় কার—শিক্ষক, শিক্ষার্থী নাকি শিক্ষা প্রশাসন—তা নিয়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন প্রায় ১৩ লাখ। এর মধ্যে গড় পাসের হার ৭৮.৩২ শতাংশ। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত বছরের তুলনায় এবার অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০টি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যবস্থার ঘাটতি, শিক্ষকদের অদক্ষতা, এবং শিক্ষার্থীদের অনীহাই মূল কারণ। অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন,

“যে প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ফলাফল শূন্য, সেখানে শুধু শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে দায় এড়ানো যায় না। শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

অন্যদিকে কিছু শিক্ষক মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব, মোবাইল আসক্তি ও নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“শিক্ষক হিসেবে আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু এখনকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশি সময় দেয়। পরিবার থেকেও তেমন তদারকি নেই।”

অভিভাবক সমাজের অনেকে মনে করেন, সরকারের উচিত এসব ‘শূন্য ফলাফলের’ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসকেও এসব প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (অব.) ফলাফল ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,

“যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেউ পাস করতে পারেনি, সেখানে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা মানোন্নয়নে আমাদের কঠোর হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পরীক্ষার সময় নয়, বছরজুড়ে পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পাঠদানের মানোন্নয়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক—সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

উপসংহার:
দেশের ২০২টি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাস হার শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। দায় শুধু শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর নয়—এটি একটি সম্মিলিত ব্যর্থতা। এখন সময় এসেছে দায় না চাপিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে হাঁটার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ২০২টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি — দায় নেবে কে, শিক্ষক না শিক্ষার্থী?

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রিপোর্টার হৃদয় চৌধুরী

০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের মোট ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ফলাফলের এই ভয়াবহ চিত্র শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় কার—শিক্ষক, শিক্ষার্থী নাকি শিক্ষা প্রশাসন—তা নিয়ে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন প্রায় ১৩ লাখ। এর মধ্যে গড় পাসের হার ৭৮.৩২ শতাংশ। কিন্তু উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত বছরের তুলনায় এবার অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩০টি।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যবস্থার ঘাটতি, শিক্ষকদের অদক্ষতা, এবং শিক্ষার্থীদের অনীহাই মূল কারণ। অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন,

“যে প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ফলাফল শূন্য, সেখানে শুধু শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে দায় এড়ানো যায় না। শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

অন্যদিকে কিছু শিক্ষক মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগের অভাব, মোবাইল আসক্তি ও নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,

“শিক্ষক হিসেবে আমরা চেষ্টা করি, কিন্তু এখনকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশি সময় দেয়। পরিবার থেকেও তেমন তদারকি নেই।”

অভিভাবক সমাজের অনেকে মনে করেন, সরকারের উচিত এসব ‘শূন্য ফলাফলের’ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসকেও এসব প্রতিষ্ঠানের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (অব.) ফলাফল ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন,

“যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেউ পাস করতে পারেনি, সেখানে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষা মানোন্নয়নে আমাদের কঠোর হতে হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পরীক্ষার সময় নয়, বছরজুড়ে পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ ও পাঠদানের মানোন্নয়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক—সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

উপসংহার:
দেশের ২০২টি প্রতিষ্ঠানের শূন্য পাস হার শুধু পরিসংখ্যান নয়, এটি শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। দায় শুধু শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর নয়—এটি একটি সম্মিলিত ব্যর্থতা। এখন সময় এসেছে দায় না চাপিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথে হাঁটার।