কোটালীপাড়ায় জামায়তের হিন্দু শাখার ৯ নেতা-কর্মীর পদত্যাগ

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ), ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ — গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে কোটালীপাড়ায় জামায়তের হিন্দু শাখার ৯ নেতা-কর্মীর পদত্যাগনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পিড়ারবাড়ি বাজারে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ৯ জন নেতাকর্মী ঘোষণা করেছেন যে তারা ঊর্ধ্বতন সংগঠন তথা জামায়াত-হিন্দু শাখার সব পদ ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।
পদত্যাগীরা হলেন:
সভাপতি: বিপ্লব মল্লিক (ঝন্টু)
সহ-সভাপতি: বিমল বালা
উপদেষ্টা: নারায়ণ হালদার
এবং সদস্য: দুলাল মল্লিক, সবুজ মল্লিক, সুভাষ মধু, প্রকাশ সরকার, প্রদীপ ঢালী ও শিশির মল্লিক.
তারা লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “পারিবারিক ও সামাজিক কারণে” তারা পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন।
তবে, জিলাবাড়ি কমিটি গঠনের মাত্র ৬ দিনের মাথায় এই পদত্যাগ বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেন, “কিছুদিন আগে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু তারা পদত্যাগ করেছেন কি–না আমার কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।”
পদত্যাগের পেছনে অনুগত কারণ: দাবি ও পর্যবেক্ষণ
যা এখন পর্যন্ত জানা যায়:
পদত্যাগের প্রাথমিক কারণ হিসেবে নিন্দনীয় কোনও রাজনৈতিক বা দলীয় মতবিরোধ নয়, বরং তারা “পারিবারিক ও সামাজিক” কারণ উল্লেখ করেছেন।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে মন্তব্যকারীদের একাংশ মন্তব্য করেছেন, এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে কারণ তারা মনে করেন — কিছু গোষ্ঠা তাদের ধর্মীয় পরিচয় ভোটের জন্য ব্যবহার করছে। (এমন অভিযোগ শোনা গেছে, যদিও সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগকারীরা ওই অভিযোগের কথা লিখিতভাবে উল্লেখ করেনি।)
এটি মাত্র নতুন গঠিত শাখার কমিটি — মাত্র ৬ দিন পরই ৯ জনের পদত্যাগ — যা নির্দেশ করছে: একদিকে কমিটিতে সংশয়; অন্যদিকে, স্থানীয় স্তরে ভেতরের দ্বন্দ্ব বা চাপ থাকতে পারে।
প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
ওই এলাকায় (কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ) সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি গঠিত শাখা ও কমিটিই ভেঙে পড়ায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও জামায়াত-হিন্দু শাখার কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরী হয়েছে।
স্থানীয় নেতারা এবং সাধারণ মানুষও এখন প্রশ্ন তুলছেন — এ কমিটি গঠন ছিল কিসের জন্য এবং এত দ্রুত পদত্যাগ কেন।
যদিও পদত্যাগীরা “পারিবারিক ও সামাজিক” কারণ জানিয়েছেন, কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনেও থাকতে পারে ভোটভিত্তিক ধর্মীয় ব্যবহার ও দলীয় রাজনৈতিক পরিচয়-বাণিজ্য।
মন্তব্য: অব্যাহত আশঙ্কা এবং ভবিষ্যত ঝুঁকি
এই পদত্যাগ শুধু একটি শাখার — বরং ধামড়ি করে গড়ার চেষ্টা করা উদ্যোগের — ভঙ্গুরতা ও অসমর্থন নির্দেশ করে।
যদি সত্যিই, যেমন দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করার প্রয়াস ছিল — তাহলে এমন পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনীতিকভাবে ভাড়া নেওয়ার প্রবণতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
এ ক্ষেত্রে, হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস হারানো, সামাজিক বিভাজন ও ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।
উপসংহার
নিশ্চত যে — ৬ দিনের মধ্যে ৯ নেতার একসঙ্গে পদত্যাগ — কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ছিল স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ঘটনা।
এই ঘটনা শুধু গোপালগঞ্জ নয়, দেশের অন্য অঞ্চলেও হিন্দু সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক, সাংগঠনিক বাস্তবতা ও ভোট-রাজনীতির ধর্মীয় দিক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলবে।














