ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান

কসবার সুমা হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

এম কে খোকন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৫১ বার পড়া হয়েছে

কসবার সুমা হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সুমা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাসেলকে ঢাকার পল্লবী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-৯ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানান হয়, নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে সুমা হত্যা মামলার ঘটনার বিবরণে গত ২০১৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন মো. রাসেল মিয়া (৩২) এর সাথে ভিকটিম সুমা আক্তারের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ১টি অটোরিকশাসহ প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মালামাল ও ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার দেয়া হয়। এরপরেও ভিকটিমের স্বামী বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকত।

চাহিত টাকা না পেয়ে ভিকটিমের স্বামী মো. রাসেল মিয়া ভিকটিমের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে ভিকটিম সুমা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যায় এবং গত ৩১ মে ২০১৫ সালে ভিকটিম তার স্বামী মো. রাসেল মিয়াকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী মো. রাসেল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৪ অক্টোবর ২০১৫ সালে সন্ধ্যার পর বাবার বাড়িতে থাকা ভিকটিম সুমা আক্তারকে একঘর থেকে অন্য ঘরে যাবার সময় এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে, পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৫ অক্টোবর ২০১৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং- ০৭, তারিখ- ৫ অক্টোবর ২০১৫, ধারা- ৩০২ পেনাল কোড। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক মো. রাসেল মিয়া পলাতক ছিলেন।

গত ৭ আগস্ট ২০২৩ সালে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উক্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামী মো. রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদানসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ডিএমপির পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. রাসেল মিয়াকে (৩২) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. রাসেল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার খিরনাল এলাকার বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কসবার সুমা হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।

নিউজ প্রকাশের সময় : ১২:৩৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কসবার সুমা হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত সুমা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাসেলকে ঢাকার পল্লবী এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-৯ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জানান হয়, নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে সুমা হত্যা মামলার ঘটনার বিবরণে গত ২০১৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন মো. রাসেল মিয়া (৩২) এর সাথে ভিকটিম সুমা আক্তারের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে ১টি অটোরিকশাসহ প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার মালামাল ও ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার দেয়া হয়। এরপরেও ভিকটিমের স্বামী বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে তাদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া লেগেই থাকত।

চাহিত টাকা না পেয়ে ভিকটিমের স্বামী মো. রাসেল মিয়া ভিকটিমের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে ভিকটিম সুমা আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যায় এবং গত ৩১ মে ২০১৫ সালে ভিকটিম তার স্বামী মো. রাসেল মিয়াকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী মো. রাসেল মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৪ অক্টোবর ২০১৫ সালে সন্ধ্যার পর বাবার বাড়িতে থাকা ভিকটিম সুমা আক্তারকে একঘর থেকে অন্য ঘরে যাবার সময় এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে, পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৫ অক্টোবর ২০১৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং- ০৭, তারিখ- ৫ অক্টোবর ২০১৫, ধারা- ৩০২ পেনাল কোড। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক মো. রাসেল মিয়া পলাতক ছিলেন।

গত ৭ আগস্ট ২০২৩ সালে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উক্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামী মো. রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদানসহ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল ৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ডিএমপির পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. রাসেল মিয়াকে (৩২) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মো. রাসেল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার খিরনাল এলাকার বাসিন্দা আবু তাহেরের ছেলে।

পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানায় হস্তান্তর করা হয়।