এক মাসের সংসদ সদস্য হতে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে।
- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৩:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

এক মাসের সংসদ সদস্য হতে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে।
আগামী ৫ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচন। প্রার্থীরা এখন প্রচার কাজে ব্যস্ত। ছুটছেন ভোটারদের কাছে। এক মাসের জন্য সংসদ সদস্য হতে জমে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়( আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনের উপ-নির্বাচন। তবে নিজেদের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ভোটারদেরা রয়েছে শংকা। উপ-নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় মুখর নদী বন্দর ও বাংলার ইশা খা এর জনপদ আশুগঞ্জ ও সরাইল ।
দিন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠ ততই সরগরম হচ্ছে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, ন্যাশনাল প্রিপলর্স পার্টি ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে দ্বিমুখী। ভোটারদের শঙ্কা, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন তো! সকলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে, প্রার্থীরাও চান এমনটাই। আর প্রত্যেকই নিজেদের জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. শাজাহন আলম সাজু প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, ইউনিয়ন কর্মীসভা করে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। তিনি সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন। তিনি নির্বাচিত হতে পারলে নানা উন্নয়নের প্রদক্ষেপ গ্রহন করবেন এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এড.জিয়াউল হক মৃধা বলেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে কোন প্রকার কারচুপি করলে।এর ফলাফল সরকারকে বুক করতে হবে। এই নির্বাচন অগ্নিপরীক্ষা। কোন প্রকার বাধা দিলে উল্টাপাল্টা করলে বাঁধবে লড়াই। তিনি আরও বলেন, এ সময় যদি এই ধরনের পরিস্থিতি হয়। তখন আপনাদেরকে নিয়ে রাজপথে নামবো। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
অপর দিকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মো. আব্দুল হামিদ ভাসানী, জাকের পার্টির মনোনীত প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জুয়েল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। তারা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার আহবান জানান। নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার নানা উন্নয়নের দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা ও আশুগঞ্জ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন গঠিত। এর মধ্যে সরাইল উপজেলায় নয়টি ইউনিয়ন ও আশুগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ছেচল্লিশ হাজার ১৯৮ জন। এর মধ্যে সরাইল উপজেলায় দুই লাখ ৮৩ হাজার ৭৯ জন এবং আশুগঞ্জ উপজেলার মোট ভোটার এক লাখ ৬৩ হাজার ১১৯ জন। উপ-নির্বাচনে মোট কেন্দ্র ১৩২টি। এর মধ্যে সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ৮৪টি ও আশুগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৪৮টি ভোট কেন্দ্র করা হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো শাহগীর আলম বলেন, আমরা একটি সুন্দর উপ নির্বাচন এলাকাবাসিকে উপহার দবতে পারব। নির্বাচন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ হতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মাঠ পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। যদি কোন প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধী ভঙ্গ করেন তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।
এদিকে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, নির্বাচন আসলেই একটা অন্যরকম আমেজ কাজ করে এলাকায়। আমরা ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহী কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনে কারচুপি ও দলীয় প্রভাব বিস্তার করার কারনে ভোট দিতে পারি না। তবে সরাইল- আশুগঞ্জ এলাকা ভিন্ন। আশা করি এই এলাকায় প্রার্থীদের প্রভাব বিস্তার কাজ করবে না। যার যার পছন্দের প্রার্থিকে ভোট দাবতে পারব।
আশুগঞ্জ ও সরাইলে উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছেন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত রয়েছেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে ভোটাররা পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবেন, প্রত্যাশা সকলের।















