ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026

ঢাবিতে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের মারামারি, বহিষ্কার ৪

রিপোর্টারের শ্রাবন সাহা বিদু্ৎ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাবিতে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের মারামারি, বহিষ্কার

রিপোর্টারের শ্রাবন সাহা বিদু্

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে সালাম দিতে এসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে ইনানসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান করার সময় বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে, ঘটনায় জড়িত চারজনকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, মারামারিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া, একই হলের সাইদুর রহমান শান্ত নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মী এবং তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের এক কর্মী আহত হলে তাদেরও ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান মধুর ক্যান্টিনে এসে বসার পর বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মীরা তাকে সালাম দিতে আসেন। এসময় তার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের জন্য আগে-পরে যাওয়া নিয়ে সূর্যসেন হল ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে একাত্তর হল ছাত্রলীগ সেখান থেকে বের হয়ে লাঠি, স্ট্যাম্প, পাইপ ও হকিস্টিক নিয়ে বাইরে অবস্থান নেয় এবং এরপর ভেতর থেকে সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা বের হলে একাত্তর হল ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি উপসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ, প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক ফিরোজ আলম অপি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপসম্পাদক মাশফিউর রহমান, কর্মী ফজলে নাভিদ অনন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিঝুম ইফতারসহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে, দুপক্ষই আক্রমণাত্মক হয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে মারামারি বন্ধ হয়।

এ বিষয়ে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক বন্ধু কামরুলের ওপর রড, লাঠি দিয়ে অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিচার দাবি করছি। কামরুল এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছে। মাথায় সেলাই লেগেছে এবং ঠোঁট কেটে গেছে। অবিলম্বে এই হামলার বিচার করতে হবে।

অন্যদিকে, একাত্তর হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক হাসান মিয়া বলেন, আমরা যখন ইনান ভাইকে সালাম দিতে যাই তখন সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীদের সাথে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রোগ্রামগুলোতে সাধারণত এমন হয়ই। কিন্তু, ধাক্কাধাক্কি চলাকালে তারা আমাদের হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসফিউরকে আহত করে। তারপরও আমরা ইনান ভাইয়ের নির্দেশে বাইরে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা বাইরে এসে এই বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা করার একপর্যায়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে যায়। এটা পূর্বপরিকল্পিত কোনো কিছু নয়। আমরা নিজেরাই কামরুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি এবং এতক্ষণ সেখানেই ছিলাম। এটা আকস্মিকভাবে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর বিকেলেই অভিযুক্ত কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মাশফিউর রহমান (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ফিরোজ আলম অপি (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আব্দুল্লাহ আল মারুফ (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও নিঝুম ইফতারকে (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঢাবিতে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের মারামারি, বহিষ্কার ৪

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৪

ঢাবিতে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের মারামারি, বহিষ্কার

রিপোর্টারের শ্রাবন সাহা বিদু্

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে সালাম দিতে এসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে ইনানসহ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান করার সময় বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে, ঘটনায় জড়িত চারজনকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, মারামারিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ঢাবির মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া, একই হলের সাইদুর রহমান শান্ত নামে আরেক ছাত্রলীগ কর্মী এবং তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের এক কর্মী আহত হলে তাদেরও ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান মধুর ক্যান্টিনে এসে বসার পর বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মীরা তাকে সালাম দিতে আসেন। এসময় তার সঙ্গে কুশলাদি বিনিময়ের জন্য আগে-পরে যাওয়া নিয়ে সূর্যসেন হল ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে একাত্তর হল ছাত্রলীগ সেখান থেকে বের হয়ে লাঠি, স্ট্যাম্প, পাইপ ও হকিস্টিক নিয়ে বাইরে অবস্থান নেয় এবং এরপর ভেতর থেকে সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা বের হলে একাত্তর হল ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি উপসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মারুফ, প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক ফিরোজ আলম অপি, কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপসম্পাদক মাশফিউর রহমান, কর্মী ফজলে নাভিদ অনন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিঝুম ইফতারসহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে, দুপক্ষই আক্রমণাত্মক হয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে মারামারি বন্ধ হয়।

এ বিষয়ে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপপ্রচার সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক প্রিন্স বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক বন্ধু কামরুলের ওপর রড, লাঠি দিয়ে অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর বিচার দাবি করছি। কামরুল এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি আছে। মাথায় সেলাই লেগেছে এবং ঠোঁট কেটে গেছে। অবিলম্বে এই হামলার বিচার করতে হবে।

অন্যদিকে, একাত্তর হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিক হাসান মিয়া বলেন, আমরা যখন ইনান ভাইকে সালাম দিতে যাই তখন সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীদের সাথে একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। প্রোগ্রামগুলোতে সাধারণত এমন হয়ই। কিন্তু, ধাক্কাধাক্কি চলাকালে তারা আমাদের হলের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসফিউরকে আহত করে। তারপরও আমরা ইনান ভাইয়ের নির্দেশে বাইরে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর সূর্যসেন হলের নেতাকর্মীরা বাইরে এসে এই বিষয় নিয়ে হাসি-তামাশা করার একপর্যায়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে যায়। এটা পূর্বপরিকল্পিত কোনো কিছু নয়। আমরা নিজেরাই কামরুলকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি এবং এতক্ষণ সেখানেই ছিলাম। এটা আকস্মিকভাবে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ঘটনার পর বিকেলেই অভিযুক্ত কয়েকজনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মর্যাদা পরিপন্থি কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে মাশফিউর রহমান (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ফিরোজ আলম অপি (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আব্দুল্লাহ আল মারুফ (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও নিঝুম ইফতারকে (কর্মী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বিজয় একাত্তর হল শাখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলো।