ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে, বাবা ও তিন ভাইসহ একই পরিবারের ১২ জনের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জনগণের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ২ ডিএমডিসহ ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ২ ডিএমডিসহ ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করে সাজার মুখে পড়লেন অগ্রণী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা। অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল কবির, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১ ওয়াহিদা বেগম, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক-২ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা এবং জেনারেল ম্যানেজার ফজলুল করিমসহ ৫ জনকে তিনমাস করে দেওয়ানি কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর কর্মকর্তা হলেন প্রিন্সিপ্যাল শাখার বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার এ কে এম ফজলুল হক।

বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ সাজা দিয়েছেন। মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মিজানুর রহমানের আবেদনে এ নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমীন। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ আহমেদ। উভয় আইনজীবী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাজার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশায় ২২তলা মুন টাওয়ার নামে একটি ভবন নির্মান করা হয় অগ্রণী ব্যাংক থেকে ২৩১ কোট ৪৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে। এক পর্যায়ে ওই ভবনের ৯৮ হাজার ২৩৫ বর্গফুট(১২, ১৩ ও ১৪ তলা এবং ৬ষ্ট তলার ৫ হাজার বর্গফুট) কিনে নেয় অগ্রণী ব্যাংক। ঋণের বিপরিতে এই টাকা সমন্বয় করে ব্যাংকটি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হলে নতুন কর্মকর্তা এসেই মুন টাওয়ারের মালিকের কাছে ঋণের বিপরিতে ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দাবি করে বসেন। এই টাকা পরিশোধ করতে ২০২১ সালে মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিঠি দেন। এই চিঠির বৈধতা নিয়ে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। কিন্তু ওই আদালত মামলাটি ৭ দিনের কারণ দর্শানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন মিজানুর রহমান। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে ওই চিঠির জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে আদেশ দেন। এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই চিঠির কার্যকারিতার ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং ওই চিঠি কেন বাতিল করা হবে না এবং এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়া হয়। এর পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথা বিবাদীপক্ষ টাকার জন্য মিজানুর রহমানকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে মিজানুর রহমানের কাছে দাবি করা টাকাকে খেলাপী ঋণ হিসেবে দেখানো হয়। এরপর মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক দুটি আবেদন দেন। ওই আবেদনে আগের আদেশ লংঘণের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে আরজি জানানো হয়। এরইমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলে আসে। এই নির্বাচনে মিজানুর রহমান জাতীয় পার্টির(জাপা) মনোনয়নে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হন। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরগুনার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে মিজানুর রহমানকে ঋণ খেলাপী হিসেবে উল্লেখ করেন। এই চিঠি পাবার পর মিজানুর রহমানের প্রার্থীতা বাতিল করে দেন জেলা প্রশাসক। অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার ওই চিঠির বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে আবেদন করেন মিজানুর রহমান। ওই তিন আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট ৫ ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাজা দিয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেন হাইকোর্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ২ ডিএমডিসহ ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করায় অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ২ ডিএমডিসহ ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাইকোর্টের আদেশ লংঘণ করে সাজার মুখে পড়লেন অগ্রণী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা। অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল কবির, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক-১ ওয়াহিদা বেগম, উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক-২ শ্যামল কৃষ্ণ সাহা এবং জেনারেল ম্যানেজার ফজলুল করিমসহ ৫ জনকে তিনমাস করে দেওয়ানি কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর কর্মকর্তা হলেন প্রিন্সিপ্যাল শাখার বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার এ কে এম ফজলুল হক।

বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ সাজা দিয়েছেন। মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মিজানুর রহমানের আবেদনে এ নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমীন। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীম খালেদ আহমেদ। উভয় আইনজীবী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাজার কথা স্বীকার করেছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশায় ২২তলা মুন টাওয়ার নামে একটি ভবন নির্মান করা হয় অগ্রণী ব্যাংক থেকে ২৩১ কোট ৪৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে। এক পর্যায়ে ওই ভবনের ৯৮ হাজার ২৩৫ বর্গফুট(১২, ১৩ ও ১৪ তলা এবং ৬ষ্ট তলার ৫ হাজার বর্গফুট) কিনে নেয় অগ্রণী ব্যাংক। ঋণের বিপরিতে এই টাকা সমন্বয় করে ব্যাংকটি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হলে নতুন কর্মকর্তা এসেই মুন টাওয়ারের মালিকের কাছে ঋণের বিপরিতে ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দাবি করে বসেন। এই টাকা পরিশোধ করতে ২০২১ সালে মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিঠি দেন। এই চিঠির বৈধতা নিয়ে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান। কিন্তু ওই আদালত মামলাটি ৭ দিনের কারণ দর্শানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন মিজানুর রহমান। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে ওই চিঠির জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে আদেশ দেন। এক পর্যায়ে ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই চিঠির কার্যকারিতার ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং ওই চিঠি কেন বাতিল করা হবে না এবং এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়া হয়। এর পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথা বিবাদীপক্ষ টাকার জন্য মিজানুর রহমানকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে মিজানুর রহমানের কাছে দাবি করা টাকাকে খেলাপী ঋণ হিসেবে দেখানো হয়। এরপর মিজানুর রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক দুটি আবেদন দেন। ওই আবেদনে আগের আদেশ লংঘণের অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নিতে আরজি জানানো হয়। এরইমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলে আসে। এই নির্বাচনে মিজানুর রহমান জাতীয় পার্টির(জাপা) মনোনয়নে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনে প্রার্থী হন। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরগুনার জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে মিজানুর রহমানকে ঋণ খেলাপী হিসেবে উল্লেখ করেন। এই চিঠি পাবার পর মিজানুর রহমানের প্রার্থীতা বাতিল করে দেন জেলা প্রশাসক। অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার ওই চিঠির বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে আবেদন করেন মিজানুর রহমান। ওই তিন আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট ৫ ব্যাংক কর্মকর্তাকে সাজা দিয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেন হাইকোর্ট।