ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

অ*খণ্ড বিজয়নগরের আন্দোলন: বি*ভক্তির বি*রুদ্ধে সোচ্চার নাদিয়া পাঠান পাপন

আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-ব্রাহ্মণ বাড়ি প্রতিনিধি 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫ ১৬২ বার পড়া হয়েছে


আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-ব্রাহ্মণ বাড়ি প্রতিনিধি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলাকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের এক প্রস্তাবে বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চান্দুরা, হরষপুর ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজয়নগরের মানুষ। তাদের একটাই দাবি, “অখণ্ড বিজয়নগর চাই”।
এই আন্দোলনের অন্যতম একজন সংগঠক হিসেবে সামনে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি নিজে বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের সুনামধন্য পরিবারের মরহুম আনোয়ার হোসেন বেলালের সন্তান।
এক বিবৃতিতে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, “কারো স্বেচ্ছাচারিতার জন্য, কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিজয়নগরবাসীকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা হবে, বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা আমাদের এলাকাবাসীর কোনো প্রকার দুর্ভোগ চাই না। এই নোংরা খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নইলে কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের দিকে যাবো ইন-শা-আল্লাহ্।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দশটি ইউনিয়ন একসাথে থাকবে। নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন ও গণস্বাক্ষর জমাদান পর্ব শেষ। এবার শুনানির অপেক্ষায়। প্রয়োজনে মামলায় যাবো। আপনাদের সবার দোয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকলে ইন-শা-আল্লাহ্ আমরা বিজয়ী হবো। আমাদের মাটির একটি কণাও টুকরো করতে দিবো না।”
ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত নাদিয়া পাঠান পাপন ধাপে ধাপে বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই আন্দোলনকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়।
এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিজয়নগরে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গত ৭ই আগস্ট, ২০২৫ তারিখে উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই বিভক্তি বিজয়নগরের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং জনগণের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের নেতারা, যার মধ্যে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নেতারাও রয়েছেন, এই সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া বাতিল না হলে ভবিষ্যতে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের মতে, বিজয়নগর উপজেলাকে বিভাজিত করার এই প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অ*খণ্ড বিজয়নগরের আন্দোলন: বি*ভক্তির বি*রুদ্ধে সোচ্চার নাদিয়া পাঠান পাপন

নিউজ প্রকাশের সময় : ১১:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫


আবদুল্লাহ আল হৃদয়ঃ-ব্রাহ্মণ বাড়ি প্রতিনিধি 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলাকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের এক প্রস্তাবে বিজয়নগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চান্দুরা, হরষপুর ও বুধন্তি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজয়নগরের মানুষ। তাদের একটাই দাবি, “অখণ্ড বিজয়নগর চাই”।
এই আন্দোলনের অন্যতম একজন সংগঠক হিসেবে সামনে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন। তিনি নিজে বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের সুনামধন্য পরিবারের মরহুম আনোয়ার হোসেন বেলালের সন্তান।
এক বিবৃতিতে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, “কারো স্বেচ্ছাচারিতার জন্য, কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য বিজয়নগরবাসীকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা হবে, বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমরা আমাদের এলাকাবাসীর কোনো প্রকার দুর্ভোগ চাই না। এই নোংরা খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। নইলে কঠিন থেকে কঠিনতর আন্দোলনের দিকে যাবো ইন-শা-আল্লাহ্।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দশটি ইউনিয়ন একসাথে থাকবে। নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদন ও গণস্বাক্ষর জমাদান পর্ব শেষ। এবার শুনানির অপেক্ষায়। প্রয়োজনে মামলায় যাবো। আপনাদের সবার দোয়া ও সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকলে ইন-শা-আল্লাহ্ আমরা বিজয়ী হবো। আমাদের মাটির একটি কণাও টুকরো করতে দিবো না।”
ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত নাদিয়া পাঠান পাপন ধাপে ধাপে বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই আন্দোলনকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখছেন বলে জানা যায়।
এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে বিজয়নগরে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গত ৭ই আগস্ট, ২০২৫ তারিখে উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই বিভক্তি বিজয়নগরের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং জনগণের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানবে।
প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের নেতারা, যার মধ্যে বিএনপি, হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় নেতারাও রয়েছেন, এই সীমানা পুনর্বিন্যাসের খসড়া বাতিল না হলে ভবিষ্যতে রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধসহ আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাদের মতে, বিজয়নগর উপজেলাকে বিভাজিত করার এই প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।