ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক রাতে বিশ্বজুড়ে হাই কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়: সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার পর এবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা  পটুয়াখালীর উলানিয়া বন্দর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।  টোকেনের নামে অটোরিকশা থেকে অর্থ আদায়: নাঙ্গলকোটে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

সিফাত শেখ (বিশেষ প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩ ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নারী কাউন্সিলর ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি, এবার স্নাতক করতে চান ।

 

 

৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে সবাইকে অভাক করে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম। এই নারী কাউন্সিলের ইচ্ছা তিনি স্নাতক পাস করতে চান ।

 

 

দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।এসএসসি রেজাল্ট দিলে তিনি উত্তীর্ণ হয় এ-গ্রেড পেয়ে।

 

 

ছোটবেলায় অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি জলিদা। অল্প বয়সেই বিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এখন জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছেন যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে রাখা।

 

নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম বলেন, ‘এসএসসিতে যে ফল হয়েছে, তাতে আমি খুশি। তবে আমি এখানেই ক্ষান্ত হব না, এবার ডিগ্রি কমপ্লিট করতে চাই।’

 

জলিদা বলেন, ‘বাবা-মা অল্প বয়সে আমাকে বিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছি যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে থাকা। প্রায়ই সালিস-দরবার করতে হয়। আমার স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসাহাসি করেন। তখন নিজের কাছে খারাপ লাগে। সেই থেকে এই বয়সেও পড়াশোনা করার আগ্রহ জাগে। ভবিষ্যতে ডিগ্রি পাস নারী হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

 

এই কাউন্সিলর বলেন, সালিস দরবারে গেলে স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসেন। এই পীড়া থেকেই তিনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। তাই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট পেয়ে তিনি এ-গ্রেড নিয়ে পাস করেছেন।

 

এ বিষয়ে কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লেখাপড়ায় জলিদার প্রবল আগ্রহ। হয়তো সুযোগের অভাবে সঠিক সময়ে তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু এখন একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ব্যস্ততার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ফলাফলও ভালো করেছেন। এ বয়সে তাঁর এমন ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। অনেক নিয়মিত ছাত্রও তাঁর মতো পয়েন্ট তুলতে পারেনি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নারী কাউন্সিলর ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি, এবার স্নাতক করতে চান ।

 

 

৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে সবাইকে অভাক করে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম। এই নারী কাউন্সিলের ইচ্ছা তিনি স্নাতক পাস করতে চান ।

 

 

দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।এসএসসি রেজাল্ট দিলে তিনি উত্তীর্ণ হয় এ-গ্রেড পেয়ে।

 

 

ছোটবেলায় অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি জলিদা। অল্প বয়সেই বিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এখন জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছেন যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে রাখা।

 

নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম বলেন, ‘এসএসসিতে যে ফল হয়েছে, তাতে আমি খুশি। তবে আমি এখানেই ক্ষান্ত হব না, এবার ডিগ্রি কমপ্লিট করতে চাই।’

 

জলিদা বলেন, ‘বাবা-মা অল্প বয়সে আমাকে বিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছি যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে থাকা। প্রায়ই সালিস-দরবার করতে হয়। আমার স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসাহাসি করেন। তখন নিজের কাছে খারাপ লাগে। সেই থেকে এই বয়সেও পড়াশোনা করার আগ্রহ জাগে। ভবিষ্যতে ডিগ্রি পাস নারী হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

 

এই কাউন্সিলর বলেন, সালিস দরবারে গেলে স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসেন। এই পীড়া থেকেই তিনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। তাই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট পেয়ে তিনি এ-গ্রেড নিয়ে পাস করেছেন।

 

এ বিষয়ে কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লেখাপড়ায় জলিদার প্রবল আগ্রহ। হয়তো সুযোগের অভাবে সঠিক সময়ে তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু এখন একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ব্যস্ততার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ফলাফলও ভালো করেছেন। এ বয়সে তাঁর এমন ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। অনেক নিয়মিত ছাত্রও তাঁর মতো পয়েন্ট তুলতে পারেনি।’