ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ নিরাপদ হোক সকলের জীবন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে কঠোর লড়াই: তিন দিনে ১২০০-এর বেশি ফরম বিক্রি, মনোনয়ন জমা ৯ শতাধিক গত ৮ বছর পূর্বে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি চালু হওয়ার ব্যাপারে দ্রুত সংসদে আলোচনা করবো- এমপি শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ  বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন শুরু, ফরম নিলেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন মুন্সিগঞ্জের মোল্লা কান্দি ইউনিয়নে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর সহ অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।  জাতীয় প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী উদ্যোগ সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অ্যাডভোকেট আজমিরি বেগম ছন্দা বাংলাদেশ নারকোটিকস কন্ট্রোল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন রাজিউর রহমান

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

সিফাত শেখ (বিশেষ প্রতিনিধি)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নারী কাউন্সিলর ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি, এবার স্নাতক করতে চান ।

 

 

৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে সবাইকে অভাক করে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম। এই নারী কাউন্সিলের ইচ্ছা তিনি স্নাতক পাস করতে চান ।

 

 

দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।এসএসসি রেজাল্ট দিলে তিনি উত্তীর্ণ হয় এ-গ্রেড পেয়ে।

 

 

ছোটবেলায় অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি জলিদা। অল্প বয়সেই বিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এখন জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছেন যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে রাখা।

 

নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম বলেন, ‘এসএসসিতে যে ফল হয়েছে, তাতে আমি খুশি। তবে আমি এখানেই ক্ষান্ত হব না, এবার ডিগ্রি কমপ্লিট করতে চাই।’

 

জলিদা বলেন, ‘বাবা-মা অল্প বয়সে আমাকে বিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছি যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে থাকা। প্রায়ই সালিস-দরবার করতে হয়। আমার স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসাহাসি করেন। তখন নিজের কাছে খারাপ লাগে। সেই থেকে এই বয়সেও পড়াশোনা করার আগ্রহ জাগে। ভবিষ্যতে ডিগ্রি পাস নারী হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

 

এই কাউন্সিলর বলেন, সালিস দরবারে গেলে স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসেন। এই পীড়া থেকেই তিনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। তাই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট পেয়ে তিনি এ-গ্রেড নিয়ে পাস করেছেন।

 

এ বিষয়ে কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লেখাপড়ায় জলিদার প্রবল আগ্রহ। হয়তো সুযোগের অভাবে সঠিক সময়ে তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু এখন একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ব্যস্ততার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ফলাফলও ভালো করেছেন। এ বয়সে তাঁর এমন ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। অনেক নিয়মিত ছাত্রও তাঁর মতো পয়েন্ট তুলতে পারেনি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ অগাস্ট ২০২৩

নারী কাউন্সিলর জলিদা এবার এসএসসি, তিনি স্নাতক করতে চান।

নারী কাউন্সিলর ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি, এবার স্নাতক করতে চান ।

 

 

৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে সবাইকে অভাক করে দিয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভার নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম। এই নারী কাউন্সিলের ইচ্ছা তিনি স্নাতক পাস করতে চান ।

 

 

দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।এসএসসি রেজাল্ট দিলে তিনি উত্তীর্ণ হয় এ-গ্রেড পেয়ে।

 

 

ছোটবেলায় অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেননি জলিদা। অল্প বয়সেই বিয়ে দেন বাবা-মা। কিন্তু এখন জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছেন যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে রাখা।

 

নারী কাউন্সিলর জলিদা বেগম বলেন, ‘এসএসসিতে যে ফল হয়েছে, তাতে আমি খুশি। তবে আমি এখানেই ক্ষান্ত হব না, এবার ডিগ্রি কমপ্লিট করতে চাই।’

 

জলিদা বলেন, ‘বাবা-মা অল্প বয়সে আমাকে বিয়ে দেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে উপলব্ধি করছি যে, শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকা মানে নিজেকে পিছিয়ে থাকা। প্রায়ই সালিস-দরবার করতে হয়। আমার স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসাহাসি করেন। তখন নিজের কাছে খারাপ লাগে। সেই থেকে এই বয়সেও পড়াশোনা করার আগ্রহ জাগে। ভবিষ্যতে ডিগ্রি পাস নারী হিসেবে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’

 

এই কাউন্সিলর বলেন, সালিস দরবারে গেলে স্বাক্ষর দেখে অনেকে মুখ টিপে হাসেন। এই পীড়া থেকেই তিনি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন। তাই ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট পেয়ে তিনি এ-গ্রেড নিয়ে পাস করেছেন।

 

এ বিষয়ে কয়ামাজমপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব সাজ্জাদ হোসেন বলেন, লেখাপড়ায় জলিদার প্রবল আগ্রহ। হয়তো সুযোগের অভাবে সঠিক সময়ে তিনি পড়াশোনা করতে পারেননি। কিন্তু এখন একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও ব্যস্ততার মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ফলাফলও ভালো করেছেন। এ বয়সে তাঁর এমন ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। অনেক নিয়মিত ছাত্রও তাঁর মতো পয়েন্ট তুলতে পারেনি।’