ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান

নিজের সন্তান হত্যার সাক্ষী দিতে এসে নিজে ফেসে গেলন মা রুমা।

এম কে খোকন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যুরো চীফ)
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিজের সন্তান হত্যার সাক্ষী দিতে এসে নিজে ফেসে গেলন মা রুমা।

 

নিজের চার মাসের কন্যা সন্তান হাজেরা খুনের মামলায় সাক্ষী হয়ে এবার আসামি হলেন মা রুমা বেগম (২৬)। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে। এ ঘটনায় নিহতের মা রুমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে দুবাই প্রবাসী অলি উল্লাহ’র স্ত্রী রুমা বেগম বেশ কিছুদিন যাবৎ মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। শুক্রবার রাতে রুমা বেগম তার বড় মেয়ে খাদিজা (৬) ও চার মাস বয়সী অপর কন্যা সন্তান হাজেরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন । মানসিক যন্ত্রণা থেকে রাত দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে ছোট সন্তান হাজেরাকে বুকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘরে এসে ঘুমিয়ে যায়। ভোর রাত ৫ টায় ঘুম ভেঙে গেলে দেখেন পাশে তার শিশু সন্তান হাজেরা নেই। সন্তান পাশে না থাকায় চিৎকার শুরু করেন রুমা বেগম। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার পরিবারসহ প্রতিবেশীরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করে। অনেক খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের বাড়ির পাশে একটি পুকুরে  শিশু ফাতেমার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করেন ।

৪ মাসের শিশু হাজেরা কি করে পানিতে গেলো এবং তার মৃত্যু রহস্যজনক, এমন দাবি করে এলাকাবাসী এবং প্রাথমিকভাবে পুলিশও ধারণা করে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সে কারণে নিহত হাজেরা বেগমের মা রুমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুমা বেগম তার সন্তানকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ  মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, শিশু হাজেরা মারা যাওয়ার ঘটনায় তার চাচা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে নিহতের মা রুমা বেগমকে ১ নং সাক্ষী ও অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে রবিবার (২২ অক্টোবর) নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন রুমা বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ। ওসি আরও বলেন, কন্যা সন্তান নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ও বনিবনা না হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শিশুটিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রুমা বেগমের জবানবন্দী নেওয়ার জন্য তাকে আজ রবিবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে, তিনি বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দিতে শিশুটিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিজের সন্তান হত্যার সাক্ষী দিতে এসে নিজে ফেসে গেলন মা রুমা।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:০১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৩

নিজের সন্তান হত্যার সাক্ষী দিতে এসে নিজে ফেসে গেলন মা রুমা।

 

নিজের চার মাসের কন্যা সন্তান হাজেরা খুনের মামলায় সাক্ষী হয়ে এবার আসামি হলেন মা রুমা বেগম (২৬)। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে ২১ অক্টোবর দিবাগত রাতে। এ ঘটনায় নিহতের মা রুমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের মৃত জলিল মিয়ার ছেলে দুবাই প্রবাসী অলি উল্লাহ’র স্ত্রী রুমা বেগম বেশ কিছুদিন যাবৎ মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। শুক্রবার রাতে রুমা বেগম তার বড় মেয়ে খাদিজা (৬) ও চার মাস বয়সী অপর কন্যা সন্তান হাজেরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন । মানসিক যন্ত্রণা থেকে রাত দুইটার দিকে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে ছোট সন্তান হাজেরাকে বুকে নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘরে এসে ঘুমিয়ে যায়। ভোর রাত ৫ টায় ঘুম ভেঙে গেলে দেখেন পাশে তার শিশু সন্তান হাজেরা নেই। সন্তান পাশে না থাকায় চিৎকার শুরু করেন রুমা বেগম। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তার পরিবারসহ প্রতিবেশীরা শিশুটিকে খুঁজতে শুরু করে। অনেক খুঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের বাড়ির পাশে একটি পুকুরে  শিশু ফাতেমার লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করেন ।

৪ মাসের শিশু হাজেরা কি করে পানিতে গেলো এবং তার মৃত্যু রহস্যজনক, এমন দাবি করে এলাকাবাসী এবং প্রাথমিকভাবে পুলিশও ধারণা করে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সে কারণে নিহত হাজেরা বেগমের মা রুমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুমা বেগম তার সন্তানকে হত্যার দায় প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।

নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ  মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, শিশু হাজেরা মারা যাওয়ার ঘটনায় তার চাচা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে নিহতের মা রুমা বেগমকে ১ নং সাক্ষী ও অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে রবিবার (২২ অক্টোবর) নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন রুমা বেগম মানসিকভাবে অসুস্থ। ওসি আরও বলেন, কন্যা সন্তান নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ও বনিবনা না হওয়ায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শিশুটিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রুমা বেগমের জবানবন্দী নেওয়ার জন্য তাকে আজ রবিবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে, তিনি বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দিতে শিশুটিকে পানিতে ফেলে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি করেন।