ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফেক আইডি ও পরিচয় জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, শাহবাগ থানায় জিডি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক নুর, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানে  টেকনাফে নৌবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক  এবং বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার।  ৯৯৯ ফোন করে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান বোট উদ্ধার ও ১২ যাত্রীকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন কোস্ট গার্ড। গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার।

বীরাঙ্গনা জয়গুন নেছার পানির বিল ১৭ লাখ টাকা

মো: মহিবুল ইসলাম খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চীফ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪ ৭৬ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাশবিক নির্যাতন করা হয় এতেই ক্ষ্যান্ত হন নাই পাকবাহিনী, তার যুবতী কন্যা ও স্বামীকে হানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ২০১৯ সালে তাকে বীরঙ্গনার খেতাব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়।বলছিলাম ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকার শহীদ গোলাম নবী সড়কের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জয়গুন নেছার কথা। বয়স্ক এই বীরাঙ্গনার পানির বিল এসেছে ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮৬৬ টাকা। বিপুল পরিমান পানির বিল নিয়ে চোখে মুখে শর্ষের ফুল দেখছেন জয়গুন নেছা। যে কেউ দেখলেই চমকে উঠবে। জানা যায়, তার বাড়িতে পয়েন্ট ৭৫ ব্যাসার্ধের পানি সরবরাহের লাইন রয়েছে। প্রতি মাসে তার বিল আসে ২৫০ টাকা। কতদিন আগে সে পানি সরবরাহের সংযোগ নিয়েছিলেন ঠিক স্মরণে নেই। তবে ১৫ বছর হবে বলে তিনি জানান। হিসাব অনুযায়ী ১৫ বছরে তার মোট বিল হয় ৪৫ হাজার টাকা।ঝিনাইদহ পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জয়গুন নেছার মূল পানির বিল ৩০ হাজার ১২০ টাকা। বাকী টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে যে সুদ হয় সেটা বিলের সঙ্গে যোগ হয়ে এই বিপুল অংক দাঁড়িয়েছে।ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন বলেন, ২০১৭ সালে এটুআই প্রজেক্টর সফটওয়ারের আওতায় বিল প্রস্তুত করা হয়। সেখানে যেভাবে সফটওয়ার তৈরী হয়েছে তাতে জয়গুন নেছার মূল বিলের সঙ্গে প্রতি মাসে ৮১ হাজার ৫৫৩ টাকার সুদ যোগ হচ্ছে। বছর বছর সেটা আবার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। তিনি বলেন, এটা পৌরসভার কোন ভুল নয়, বরং সফটওয়ারে চক্রবৃদ্ধি হারে যে সুদ হচ্ছে সেটাই তার পানির বিলে যোগ হচ্ছে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জয়গুন নেছা ২০১৪ সাল থেকে পানির বিল দেন না। তিনি যদি সুদ ও আসল মওকুফের আবেদন করেন তবে তা ভেবে দেখা হবে।বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়গুন নেছা জানান, সরকার প্রতি মাসে যে ভাতা দেন তার মধ্যে থেকে ঋন বাবদ ১৪ হাজার টাকা কেটে নেয়। প্রতি মাসে তিনি পান মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই অল্প টাকা দিয়ে এই বিপুল পরিমান পানির বিল পরিশোধ করার সাধ্য তার নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বীরাঙ্গনা জয়গুন নেছার পানির বিল ১৭ লাখ টাকা

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাশবিক নির্যাতন করা হয় এতেই ক্ষ্যান্ত হন নাই পাকবাহিনী, তার যুবতী কন্যা ও স্বামীকে হানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। ২০১৯ সালে তাকে বীরঙ্গনার খেতাব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়।বলছিলাম ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকার শহীদ গোলাম নবী সড়কের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী জয়গুন নেছার কথা। বয়স্ক এই বীরাঙ্গনার পানির বিল এসেছে ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮৬৬ টাকা। বিপুল পরিমান পানির বিল নিয়ে চোখে মুখে শর্ষের ফুল দেখছেন জয়গুন নেছা। যে কেউ দেখলেই চমকে উঠবে। জানা যায়, তার বাড়িতে পয়েন্ট ৭৫ ব্যাসার্ধের পানি সরবরাহের লাইন রয়েছে। প্রতি মাসে তার বিল আসে ২৫০ টাকা। কতদিন আগে সে পানি সরবরাহের সংযোগ নিয়েছিলেন ঠিক স্মরণে নেই। তবে ১৫ বছর হবে বলে তিনি জানান। হিসাব অনুযায়ী ১৫ বছরে তার মোট বিল হয় ৪৫ হাজার টাকা।ঝিনাইদহ পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জয়গুন নেছার মূল পানির বিল ৩০ হাজার ১২০ টাকা। বাকী টাকা চক্রবৃদ্ধি হারে যে সুদ হয় সেটা বিলের সঙ্গে যোগ হয়ে এই বিপুল অংক দাঁড়িয়েছে।ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল উদ্দীন বলেন, ২০১৭ সালে এটুআই প্রজেক্টর সফটওয়ারের আওতায় বিল প্রস্তুত করা হয়। সেখানে যেভাবে সফটওয়ার তৈরী হয়েছে তাতে জয়গুন নেছার মূল বিলের সঙ্গে প্রতি মাসে ৮১ হাজার ৫৫৩ টাকার সুদ যোগ হচ্ছে। বছর বছর সেটা আবার চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। তিনি বলেন, এটা পৌরসভার কোন ভুল নয়, বরং সফটওয়ারে চক্রবৃদ্ধি হারে যে সুদ হচ্ছে সেটাই তার পানির বিলে যোগ হচ্ছে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, জয়গুন নেছা ২০১৪ সাল থেকে পানির বিল দেন না। তিনি যদি সুদ ও আসল মওকুফের আবেদন করেন তবে তা ভেবে দেখা হবে।বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়গুন নেছা জানান, সরকার প্রতি মাসে যে ভাতা দেন তার মধ্যে থেকে ঋন বাবদ ১৪ হাজার টাকা কেটে নেয়। প্রতি মাসে তিনি পান মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই অল্প টাকা দিয়ে এই বিপুল পরিমান পানির বিল পরিশোধ করার সাধ্য তার নেই।