রাজশাহীর তানোরে ফসলী জমি হাস্র পাচ্ছে এজন্য খাদ্যের ঘাটতি হতে পারে

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:১৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর তানোর উপজেলার অর্থনীতি প্রায় সম্পুর্ণ কৃষি নির্ভর। তবে নির্বিচারে ফসলি জমি নষ্টের কারণে খাদ্য উদ্বৃত্ত উপজেলায় খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের হোমরাচোমরা ও প্রভাবশালী ভুমিগ্রাসী চক্রের কৌশলের কাছে পরাস্থ হয়ে কৃষি জমির মালিকেরা অনেকটা বাধ্য হয়ে তাদের আবাদি জমিতে পুকুর খনন করতে দিচ্ছে প্রভাবশালীরা প্রথমে বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মধ্যে যে জমিতে ফসল উৎপাদন তুলনামূলক কম হয় ওই জমিতে কৌশলে পুকুর করা শুরু করে। এর পর ওই পুকুরের কারণে আশপাশের জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন ওই সব জরিম মালিকেরা ফসল উৎপাদনে লোকশানে পড়ে। এতে তারা তাদের আবাদি জমি প্রভাবশালী ওই পুকুর খননকারীকে লীজ দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির বেড়লপাড়া, জুড়ানপুর, হাড়দহ, রাতৈল কামাগাঁ ইউপির হাতিশাইল নিজামপুর তানোর পৌরসভার মাসিন্দা মাঠ এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুকুর খননকারী বলেন সকলকে ম্যানেজ করতে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করলেই অনায়াসে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা যায়রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছে, রাজশাহী জেলায় গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ হেক্টর (প্রায় ২ হাজার ৪০০ বিঘা) এবং গত কয়েক বছরে প্রায় ১৭ হাজার ২৪৬ একর ফসলি জমি কমেছে। এ পরিমাণ জমি জেলার মোট আবাদযোগ্য ফসলি জমির এক-তৃতীয়াংশ। এসব জমির বড় অংশই গেছে অবৈধ পুকুরের পেটে এছাড়াও যত্রতত্রকল-কারখানা, বসতভিটা বা গ্রামীণ সড়ক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। তানোরে বিগত ১০ বছরে প্রায় ১০ হাজার বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন হয়েছে এবং কলকারখানা, হিমাগার ও আবাসিক ভবনের কারণে আরো বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি নষ্ট হয়েছেস্থানীয়রা জানান, তানোর-মুন্ডুমালা রাস্তার ধারে বিএমডিএ’র গভীর নলকুপের কমান্ড এরিয়ায়, আন্ডারগ্রাউন্ড সেচনালা ভেঙ্গে ও জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে, চার ফসলি কৃষি জমিতে কোল্ড স্টোর নির্মাণ করা হচ্ছে এতে বিপুল পরিমাণ ফসলি নস্ট হচ্ছে।যার প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনেস্থানীয়রা জানান, শিল্পায়ন হোক সেটা তারাও চাই, তবে ভাতের থালায় লাথি দিয়ে নয়। অর্থাৎ ফসলি জমি নস্ট করে নয়, পতিত বা এক ফসলি জমিতে করা হোক সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ফসলী জমি নষ্ট করে কোনো কিছুই করা যাবে না। কিন্ত্ত তানোরে প্রশাসনের রহস্যজনক ভুমিকায় ফসলি জমি নষ্টের হিড়িক পড়েছে বলে মনে করছেন কৃষকগণ
















