ঢাকা ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এক রাতে বিশ্বজুড়ে হাই কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো হয়: সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনার পর এবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা  পটুয়াখালীর উলানিয়া বন্দর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।  টোকেনের নামে অটোরিকশা থেকে অর্থ আদায়: নাঙ্গলকোটে চাঁদাবাজির অভিযোগ মোগরা পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন সাহেবের পক্ষ থেকে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়েছে।

শেরপুরে বন্যার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপরে

তৌহিদুর রহমান শেরপুর প্রতিনিধি-
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বর্ষণের ফলে শেরপুরে আবারো ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গেলো বছরের অক্টোবরে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে শেরপুরের চেল্লাখালী নদীর পানি। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ শুরু করেছে।

গত বছর দশদিনের বেশি স্থায়ী বন্যায় জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় হাজার কোটি টাকা। প্রাণহানিও ঘটেছিল অন্তত দশজনের। এবারও এমন শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার কিছু নিচু এলাকাতেও পানি ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা এখনো গত বছরের ক্ষতি পুরোপুরি সামলে উঠতে পারিনি। আবারো যদি এমন পানি বাড়তে থাকে, তাহলে বাড়ির ফসল তো যাবে, ঘরবাড়িও টিকবে না।” ঝিনাইগাতীর মহারশী নদীর তীরবর্তী এলাকার ফুলমতি বলেন, “রাতদিন আতঙ্কে থাকি। পানি বাড়ছে, প্রশাসনের লোকজন মাইকিং করছে। কিন্তু আমরা যাব কোথায়?”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত শেরপুর জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে, দিঘিরপাড় ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন বাঁধ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের এই বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক জানান, “ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজের প্রস্তুতি আছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, “গত বছরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।”

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার প্রায় ৯৪ শতাংশ পাকা ধান ইতোমধ্যেই কাটা শেষ হয়েছে। তবে আকস্মিক ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এজন্য দ্রুত অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে উঁচু স্থানে সংরক্ষণের তাগিদ দেয়া হয়েছে কৃষকদের।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শেরপুরে বন্যার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপরে

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪:১৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বর্ষণের ফলে শেরপুরে আবারো ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গেলো বছরের অক্টোবরে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি এখনও কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে শেরপুরের চেল্লাখালী নদীর পানি। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ শুরু করেছে।

গত বছর দশদিনের বেশি স্থায়ী বন্যায় জেলায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় হাজার কোটি টাকা। প্রাণহানিও ঘটেছিল অন্তত দশজনের। এবারও এমন শঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা। শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার কিছু নিচু এলাকাতেও পানি ঢুকেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা এখনো গত বছরের ক্ষতি পুরোপুরি সামলে উঠতে পারিনি। আবারো যদি এমন পানি বাড়তে থাকে, তাহলে বাড়ির ফসল তো যাবে, ঘরবাড়িও টিকবে না।” ঝিনাইগাতীর মহারশী নদীর তীরবর্তী এলাকার ফুলমতি বলেন, “রাতদিন আতঙ্কে থাকি। পানি বাড়ছে, প্রশাসনের লোকজন মাইকিং করছে। কিন্তু আমরা যাব কোথায়?”

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০ মে পর্যন্ত শেরপুর জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষিতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে, দিঘিরপাড় ফাজিল মাদ্রাসা সংলগ্ন বাঁধ ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের এই বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সমন্বিত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক জানান, “ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজের প্রস্তুতি আছে।” পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, “গত বছরের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।”

এদিকে জেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার প্রায় ৯৪ শতাংশ পাকা ধান ইতোমধ্যেই কাটা শেষ হয়েছে। তবে আকস্মিক ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৫ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এজন্য দ্রুত অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ পাকা ধান কেটে উঁচু স্থানে সংরক্ষণের তাগিদ দেয়া হয়েছে কৃষকদের।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।