ঢাকাশুক্রবার , ২৯ মার্চ ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

কক্সবাজার জেলা মহেশখালী উপজেলায় কালারমার ছড়ার ডাকাত গ্রুপ জিয়া বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আজরাইল লোকমান গ্রেফতার

আশরাফুল আলম আরিফ (রিপোর্টার কক্সবাজার) 
মার্চ ২৯, ২০২৪ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ । ৩৬ জন
Link Copied!

print news

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।। চার হত্যা মামলাসহ ১০ মামলায় দীর্ঘ দুই দশক পলাতক থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীর কুখ্যাত ক্রমিক খুনি (Serial Murderer), মহেশখালীতে সক্রিয় জিয়া বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং নবনিয়োগ শাখা (রিক্রুটমেন্ট উইং) এর প্রধান মোঃ লোকমান ওরফে আজরাইল লোকমান বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া দ্বীপস্থ দূর্গম গোপন আস্তানা থেকে র‌্যাব-১৫ গ্রেফতার১। র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অপরাধ নির্মূলে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। দায়িত্বাধীন এলাকা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় হত্যা, ধর্ষণ, জঙ্গী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জলদস্যু, ডাকাতি, চুরি-ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক, অপহরণ ও দেশে বিরাজমান নানাবিধ অপরাধ দমনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে এ সকল অপরাধে দায়েরকৃত মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করছে।  ২। কক্সবাজারের মহেশখালীতে খুন, ডাকাতি, অপহরণ, ঘের দখল-পাল্টা দখলের অন্ধকার জগতের লোকমান এক সুপরিচিত নাম। সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা ও লক্ষ্যবস্তুর প্রতি নৃশংসতার ভয়াবহতায় ধীরে ধীরে মহেশখালীর মূর্তিমান আতঙ্কের নামান্তর হয়ে উঠলেও নানান কৌশলে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। ২০০৬ সাল থেকে অপরাধ জগতে তার সদর্প পদচারণা। ২০০৭ সালের ০৮ ডিসেম্বর লোকমান ও তার বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা পরিকল্পিত হামলা চালিয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ শরীফ চেয়ারম্যানের কনিষ্ঠ পুত্র, কালামারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান এবং মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওসমান গনিকে কুপিয়ে ও গলায় গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এছাড়া ২১ মে ২০১১ তারিখে সরকারি বাহিনীকে জলদস্যু দমনে সহায়তা করার সন্দেহে কোরআনে হাফেজ আব্দুল গফুরকে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার দ্বিখন্ডিত মস্তক হতে হাত দিয়ে মগজ বের করে নেয়। লোকমান ও তার সহযোগীদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই মেলেনি মহেশখালীর মাছ ব্যবসায়ী, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান গনিরও ৷ নিজেদের আধিপত্য নিশ্চিত করতে ২৯ মার্চ ২০১২ তারিখে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। একই সালের ১১ জুন তারিখে কুপিয়ে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় দরিদ্র মৎস্যজীবী বেলাল হোসেনকে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে র‌্যাব ব্যাপক গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারী বৃদ্ধি করে।৩। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার মামলা নং-১৬(০৪)১১, ধারা-১৪৩/৩০২/১০৯/৩৭৯ এবং মামলা নং-১৫(০২)১৮, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৪২৭/৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড মোতাবেক ৪ হত্যা মামলাসহ ১০ মামলায় দীর্ঘ দুই দশক পলাতক থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীর কুখ্যাত ক্রমিক খুনি (Serial Murderer), মহেশখালীতে সক্রিয় জিয়া বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং নবনিয়োগ শাখা (রিক্রুটমেন্ট উইং) এর প্রধান মোঃ লোকমান ওরফে আজরাইল লোকমান’কে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার এর গোয়েন্দা তৎপরতা চলমান থাকে। এরই ধারাবাহিকতায়, র‌্যাব-১৫, সিপিএসসি ক্যাম্পের আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন দূর্গম সোনাদিয়া দ্বীপের আস্তানায় আত্নগোপনে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে গত ২৭ মার্চ ২০২৪ তারিখ অনুমান ০৪.০৫ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১৫, সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোঃ লোকমান ওরফে আজরাইল লোকমান (৫৩), পিতা-ফজল হক, সাং- ৪। গ্রেফতারকৃত মোঃ লোকমান ওরফে আজরাইল লোকমান মহেশখালী উপজেলা সক্রিয় প্রধান ডাকাত গ্রুপ জিয়া বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছে। একজন ক্রমিক খুনি (সিরিয়াল কিলার) হিসেবে নিজের প্রতিদ্বন্দীদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করতো। এছাড়া ঘের দখলকারী হিসাবে তার এবং তার দলের পরিচিতি স্থানীয়ভাবে সর্বজনবিদিত বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ৪ হত্যা মামলা ও ৪ হত্যাচেষ্টাসহ কমপক্ষে ১০টি মামলার তথ্য পাওয়া যায।৫। গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।