গণমাধ্যম সপ্তাহের শোভাযাত্রা আজ, সাংবাদিক নির্যাতন রোধে সুরক্ষা আইনের দাবি

- নিউজ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম
“১–৭ মে ১০ম জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ-২০২৬” উদযাপন উপলক্ষে আজ ১ মে সকাল ১০টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সাংবাদিকদের বৃহৎ জোট এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশন-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন আহ্বায়ক আহমেদ আবু জাফর এবং সঞ্চালনায় থাকবেন সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ এডিটর ফোরামের মহাসচিব ওমর ফারুক জালাল।
শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মোঃ আলমগীর গনি ও সদস্য সচিব মুহাম্মদ মনজুর হোসেন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের মহাসচিব কবি অশোক ধর, বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ রনি, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, হিউম্যান এইডের চেয়ারম্যান সেহলী পারভীন, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদ খান, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুল ইসলাম, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি খান সেলিম রহমান, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সংস্থার চেয়ারম্যান বীথী মোস্তফা, সাংবাদিক সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের মহাসচিব সুজন মাহমুদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সংস্থার চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক, জার্নালিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী মামুন, বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংবাদিক সোসাইটির মহাসচিব বিএম আশিক হাসান, বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এমএ মান্নান।
এছাড়াও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীরা উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ (বিজেইউসি)-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে জাতীয় প্রেস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুর রহমান পাভেল বলেছেন, দেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, বিগত বছরে ৩৮১ জন সাংবাদিক নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ বারবার মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। Transparency International Bangladesh (টিআইবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর ১,০৭৩ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তিনজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। অথচ সাংবাদিকরাই সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরেন। পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালে কুড়িগ্রাম জেলায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে মাদক মামলায় চালানের ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পান এবং এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়েও দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। গাজীপুর-এ দিবালোকে সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার এখনো হয়নি। একইভাবে মানিকগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হাতিয়া, কক্সবাজার ও রংপুর-সহ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার ঝুলে আছে।
তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে।










