ঢাকাশনিবার , ৯ মার্চ ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ খবর

চিহ্নিত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন; এগুলো কি ভাঙতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার:মেহেদী হাসান
মার্চ ৯, ২০২৪ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ । ৪১ জন
Link Copied!

print news

ফায়ার সার্ভিসের হিসেব মতে, ঢাকায় অগ্নিঝুঁকিতে আছে এরকম ভবনের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ টিরও বেশি। তবে সংখ্যাটা বাস্তবে আরো বেশি হবে কারণ খোদ ফায়ার সার্ভিস বলছে ঢাকার সবগুলো ভবন তাদের জরিপে আসেনি।কিন্তু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হলেই সেটি ভাঙতে হবে এমনটা নয়।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যেসব বহুতল ভবন আগুনের ঝুঁকিতে আছে সেগুলোতে কিছু পরিবর্তন এনেই ঝুঁকিমুক্ত করা যায়।তিনি বলেন, “এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে যে ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা বাড়াতে হবে। আপনি যে ভবনেই থাকেন, সেখানে সহজে বের হওয়ার রাস্তা আছে কি না সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বহুতল ভবনে একাধিক সিঁড়ি রাখতে হয়। সেটা যদি না থাকে তখন সিড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক সময় ভবনের বাইরেও আলাদা করে সিঁড়ি যুক্ত করা যায়। এছাড়া ফায়ার ডোর দিতে হবে, যেন আগুনটা সিঁড়িতে চলে আসতে না পারে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”যে বহুতল ভবনে একাধিক সিঁড়ি নেই, সেখানে ভবনের বাইরের অংশেও সিঁড়ি যুক্ত করা যায়। যা ফায়ার এক্সিট হিসেবে ব্যবহার হবে।তিনি বলেন, সিঁড়ি এবং ছাদ দুটোকেই ফাঁকা রাখতে হবে এবং ছাদ থেকে যেন সহজে উদ্ধার করা যায় সেরকম ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই ফায়ার লিফট আছে যেটা আগুন কিংবা বিদ্যুৎহীন অবস্থাতেই চলে। সেটা ভবনে যুক্ত করা যাবে।তবে যেসব ভবনে এগুলো করার মতো অবস্থা নেই, যাচাই করে সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে রাজউককে।আবাসিক ভবন থেকে রেস্টুরেন্ট সরাতে হবেবাংলাদেশে এখন অনেক আবাসিক ভবনে রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক ভবনেও রেস্টুরেন্ট হচ্ছে। যদিও বাণিজ্যিক হলেও ভবনের ডিজাইন এবং অনুমোদন মূলত অফিস বা অন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য করা হয়ে থাকে, রেস্টুরেন্টের জন্য নয়।ফলে এসব ভবন থেকে রেস্টুরেন্টগুলো সরিয়ে নিলেই ঝুঁকি বহুগুণে কমে যাবে বলে জানাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান।তবে তিনি সব ধরনের ভবনেই অবস্থা এবং ব্যবহার বুঝে বিভিন্ন ধরনের অগ্নি নির্বাপন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথাও বলছেন।“আগুনের একটা বড় উৎস বৈদ্যুতিক লাইন এবং সংযোগ। এক্ষেত্রে মানসম্মত ক্যাবল লাগাতে হবে। পুরনো লাইন নতুন করতে হবে। লাইনগুলো সিল করে দিতে হবে যেন লাইন দিয়ে আগুন এক ঘর থেকে আরেক ঘরে না যেতে পারে।”“গ্যাসের লাইন চেক করতে হবে নিয়মিত। সাধারণ রান্নাঘর আর রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর, গ্যাস সংযোগ, লোড ক্যাপাসিটি ইতাদি ভিন্ন হয়। সেগুলো ঠিক না থাকলে ঠিক করতে হবে। তাহলে এমনিতে ঝুঁকি কমবে। এছাড়া স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ নানারকম যন্ত্রপাতি আছে, সেগুলো ব্যবহার করতে এবং ট্রেনিং থাকতে হবে,” বলছিলেন আলী আহমেদ খান।ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খুঁজবে কে?নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন এক্ষেত্রে রাজউককেই দায়িত্ব নিতে হবে। যদিও একের পর এক অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলেও সংস্থাটি থেকে এর আগে সে উদ্যোগ দেখা যায়নি।যে ভবনে রেস্টুরেন্ট থাকার কথা নয়, সেখানে রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠলেও রাজউক সেটি নজরদারির ব্যবস্থা নিতে পারেনি বলেও অভিযোগ।তবে এখন রাজউক তো বটেই সিটি করপোরেশন এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোর তরফেও অভিযান দেখা যাচ্ছে।চাপে পড়ে রাজউকও এখন বলছে, শিগগিরই ঢাকার অগ্নিঝুঁকিতে থাকা ভবন চিহ্নিত করার কাজ শুরু করবে তারা। কিন্তু সংস্থাটির কি সে সক্ষমতা আছে? এর উত্তরে রাজউক বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার কাজ করা হবে তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে।জানতে চাইলে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলছেন, ঢাকার ৮টি জোন অফিসে ৮টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে এ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়া হবে।“এসব প্রতিষ্ঠান সরেজমিন নিজ নিজ এলাকায় প্রতিটি ভবন পরিদর্শন করবে। প্রয়োজনে বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করবে। তারাই ভবনগুলোর সেফটি প্রটোকল দিয়ে দেবে যে, কী কী করতে হবে। আর যেগুলো অতি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, সেগুলোতে আমরা নোটিশ টাঙিয়ে দিবো, যেন সাধারণ মানুষ সেখানে না যায়।”