ঢাকাশনিবার , ২৭ এপ্রিল ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

চুয়াডাঙ্গায় ফের অতি তীব্র তাপদাহ শুরু, ৪২.২ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড

মোঃ মহিবুল ইসলাম খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো চিফ
এপ্রিল ২৭, ২০২৪ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ । ৩২ জন
Link Copied!

print news

টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর চুয়াডাঙ্গায় আবারও শুরু হয়েছে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১৪ শতাংশ। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী কয়েকদিন এমন তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। এদিকে, কাঠফাটা রোদ ও তীব্র গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বিপর্যয়।চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২০ এপ্রিল) এ জেলায় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরপর রোববার (২১ এপ্রিল) ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি, সোমবার (২২ এপ্রিল) ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি ও বুধবার (২৪ এপ্রিল) ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এ জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ১৮ শতাংশ। বেলা তিনটায় তাপমাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১৪ শতাংশ।চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, তীব্র তাপদাহের পর এবার চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই। এসময় জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে গরমে অস্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা চলে গিয়েছে, তাই এ জেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সবসময় বেশি থাকে।এদিকে, টানা তাপপ্রবাহে কাহিল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, গনগনে রোদ ও তীব্র গরম থেকে বাঁচতে অনেকে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ বা আবার নির্জন পরিবেশ খুঁজে বাতাসের জন্য প্রকৃতির দিকে চেয়ে আছেন। তবে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ তীব্র গরম উপেক্ষা করে কাজে বেরিয়েছেন।জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারি সাপ্তাহিক পশুহাটে গরু বিক্রি করতে আসা আব্দুল জলিল মন্ডল নামের এক কৃষক জানান, ‘গরু বিক্রি করতে হাটে এসে পড়েছি বিপাকে। একে তো খোলা মাঠে হাট, মাথার ওপর সূর্য দাওদাও করে জ্বলছে। রোদ আর গরমে মনে হচ্ছে শরীর একেবারে পুড়ে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে ছাতাও নিয়ে আসা হয়নি।’চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোটেল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, এই গরমে সকালে রান্না করা খাবার দুপুর গড়াতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই অল্প অল্প করে বারবার রান্না করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। তবে এই গরমে অন্য সময়ের তুলনায় মানুষ খুব কম খাবার খেতে আসছে।দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা মাঠে ধানকাটার কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এদের মধ্যে সলেমান কাজী বলেন, এই রোদ-গরম উপেক্ষা করে ধান কাটার কাজ করতে হচ্ছে। বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ নেই। বসে থাকলে ৬ সদস্যের পরিবারে সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে।