ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারের পথে ডা. আব্দুল হালিম এসকে ভূমি সেবা দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান — মোঃ আলমগীর হোসেন পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে র‌্যাব-৮, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কোস্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল।  মিডিল ইস্টে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জনগণের সমর্থন নিয়ে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে চান শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া।  গণঅধিকার পরিষদে আনিসুর রহমান মুন্নার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার COAST Foundation সমৃদ্ধি কর্মসূচি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকে এস এফ) এর সহায়তায় নাক,কান,গলা ও মেডিসিন বিষয়ক বিনামুল্যে স্বাস্থ‍্যক‍্যাম্প 2026 লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৫ কর্মী, হযরত শাহজালালে সহায়তা নিশ্চিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত Abdulla Ali AlHmoudi পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

তারায় তারায় ইতিহাস: ঢাকার অনন্য ঐতিহ্য ‘তারা মসজিদ’

রিপোর্টার: ফয়সাল হোসেন 
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ২৮৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার পুরান অংশে, আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত এক মোহনীয় স্থাপনা—তারা মসজিদ। সাদা মার্বেলের গায়ে নীল তারার ঝিলিক, দেয়ালে হাতে আঁকা ফুল ও জ্যামিতিক নকশা—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উপমহাদেশীয় মুসলিম স্থাপত্যের এক অমূল্য রত্ন।

নির্মাণকাল ও ইতিহাস:তারা মসজিদের নির্মাণকাল আনুমানিক ১৮ শতকের মাঝামাঝি।এটি নির্মাণ করেন একজন ধনী ব্যবসায়ী, নাম মির্জা গোলাম পীর।পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ করেন আলী জান বেপারী, যিনি মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য টাইলস, মার্বেল ও তারার অলঙ্করণ যুক্ত করেন।

নামকরণের পেছনের গল্প:মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ ও পিলারে নীল রঙের তারার নকশা থাকায়, এটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পায় ‘তারা মসজিদ’ নামে। এই তারাগুলি মূলত জাপান থেকে আনা চীনামাটির টাইলস দ্বারা তৈরি, যা মসজিদটিকে করেছে অন্যরকম মোহনীয় ও অনন্য।

স্থাপত্যশৈলী ও নকশা:• পুরো মসজিদের বাইরের দেয়ালে সাদা ও নীল টাইলসে মোড়ানো তারার নকশা• অভ্যন্তরে আছে ফুল, লতা-পাতা, গম্বুজে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি• মসজিদের মোট ৫টি গম্বুজ, যা মুঘল স্থাপত্যের ধারা বহন করে• মূল মেহরাব ও মিনারেও দেখা যায় সুক্ষ্ম কারুকাজ ও মার্বেল খোদাই

অবস্থান:আরমানিটোলা, পুরান ঢাকাঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার অন্তর্গত এই মসজিদটি এখনও সক্রিয় ধর্মীয় স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও জুমা ও ঈদের দিন এখানে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় হয়।

বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ:যদিও মসজিদটি অনেকটাই সংরক্ষিত, তবে আশপাশের অগোছালো পরিবেশ এবং ট্রাফিক জট এর সৌন্দর্য উপভোগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।পুরাতত্ত্ব অধিদপ্তর এই মসজিদকে সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকাভুক্ত করলেও পর্যাপ্ত বাজেট ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে।

স্থানীয়দের কণ্ঠে গর্ব:স্থানীয় এক বৃদ্ধ মুসল্লি বলেন,“এটা শুধু নামাজের জায়গা না, এটা আমাদের ইতিহাসের অংশ। এখানে ঢুকে মনে হয় যেন মুগল আমলে চলে এসেছি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তারায় তারায় ইতিহাস: ঢাকার অনন্য ঐতিহ্য ‘তারা মসজিদ’

নিউজ প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

ঢাকার পুরান অংশে, আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত এক মোহনীয় স্থাপনা—তারা মসজিদ। সাদা মার্বেলের গায়ে নীল তারার ঝিলিক, দেয়ালে হাতে আঁকা ফুল ও জ্যামিতিক নকশা—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উপমহাদেশীয় মুসলিম স্থাপত্যের এক অমূল্য রত্ন।

নির্মাণকাল ও ইতিহাস:তারা মসজিদের নির্মাণকাল আনুমানিক ১৮ শতকের মাঝামাঝি।এটি নির্মাণ করেন একজন ধনী ব্যবসায়ী, নাম মির্জা গোলাম পীর।পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ করেন আলী জান বেপারী, যিনি মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য টাইলস, মার্বেল ও তারার অলঙ্করণ যুক্ত করেন।

নামকরণের পেছনের গল্প:মসজিদের দেয়াল, গম্বুজ ও পিলারে নীল রঙের তারার নকশা থাকায়, এটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিতি পায় ‘তারা মসজিদ’ নামে। এই তারাগুলি মূলত জাপান থেকে আনা চীনামাটির টাইলস দ্বারা তৈরি, যা মসজিদটিকে করেছে অন্যরকম মোহনীয় ও অনন্য।

স্থাপত্যশৈলী ও নকশা:• পুরো মসজিদের বাইরের দেয়ালে সাদা ও নীল টাইলসে মোড়ানো তারার নকশা• অভ্যন্তরে আছে ফুল, লতা-পাতা, গম্বুজে ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি• মসজিদের মোট ৫টি গম্বুজ, যা মুঘল স্থাপত্যের ধারা বহন করে• মূল মেহরাব ও মিনারেও দেখা যায় সুক্ষ্ম কারুকাজ ও মার্বেল খোদাই

অবস্থান:আরমানিটোলা, পুরান ঢাকাঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার অন্তর্গত এই মসজিদটি এখনও সক্রিয় ধর্মীয় স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও জুমা ও ঈদের দিন এখানে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় হয়।

বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ:যদিও মসজিদটি অনেকটাই সংরক্ষিত, তবে আশপাশের অগোছালো পরিবেশ এবং ট্রাফিক জট এর সৌন্দর্য উপভোগে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।পুরাতত্ত্ব অধিদপ্তর এই মসজিদকে সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকাভুক্ত করলেও পর্যাপ্ত বাজেট ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে।

স্থানীয়দের কণ্ঠে গর্ব:স্থানীয় এক বৃদ্ধ মুসল্লি বলেন,“এটা শুধু নামাজের জায়গা না, এটা আমাদের ইতিহাসের অংশ। এখানে ঢুকে মনে হয় যেন মুগল আমলে চলে এসেছি।”