ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাভার উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: পহেলা মে দিবস শ্রমিক দলের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন।  বস্তা পদ্ধতিতে বসত বাড়ীর আঙ্গিনায় আদা চাষের উপকরণ বিতরণ।  দেশের জ্বালানি তেলের সংকটে অর্থনীতির চাকা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও গার্মেন্টস কর্মী সহ নিম্ন আয়ের সকল মানুষের আত্মচিৎকার। পটুয়াখালী উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে একযোগে শুরু হলো ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হাম কি সত্যি-ই ভয়ানক সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাস, শারীরিক অবস্থার উন্নতি মানবিক আবেদনঃ এক পায়ে জীবনযুদ্ধ- সাংবাদিক নেতা মোঃ মতিউর রহমানের পাশে দাঁড়ান

দেশের অন্যতম উষ্ণতম জেলা চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা ঝড়, চার উপজেলায় কন্ট্রোল রুম।

শাকিল আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্যুরো চীফ
  • নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ ৬৮৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের অন্যতম উষ্ণতম জেলা চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এক দিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা কমেছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকে নেমে এসেছে। শুরু হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বয়ে যাচ্ছে দমকা হাওয়া। এদিকে প্রস্তুতি হিসেবে জেলার চার উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাত থেকে জেলায় ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার পর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো), মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থানীয় আবহাওয়ায় বেশ প্রভাব পড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকে (৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) নেমে আসে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় দিনব্যাপী ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার পর পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন ঘটতে পারে।এদিকে গতকাল রবিবার এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত পরশু দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সংরক্ষিত চলতি মে মাসের ২৬ দিনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১ মে এক দিন অতি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস); ২, ৩, ৫, ২৪ ও ২৫ মে পাঁচ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস); ৪, ১৭, ১৯ ও ২৩ মে চার দিন মাঝারি তাপপ্রবাহ (৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ৬, ১৪, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ মে ছয় দিন মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬ দশমিক ২ থেকে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত) রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ মে ২৬ মিলিমিটার, ৭ মে ১৫ মিলিমিটার, ৯ মে ৪ মিলিমিটার এবং ১২ ও ২১ মে ১ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং সর্বশেষ গতকাল রবিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মে মাসে ছয় দিনে জেলায় মোট ৪৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশের অন্যতম উষ্ণতম জেলা চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা ঝড়, চার উপজেলায় কন্ট্রোল রুম।

নিউজ প্রকাশের সময় : ০১:০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪

দেশের অন্যতম উষ্ণতম জেলা চুয়াডাঙ্গায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। এক দিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা কমেছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকে নেমে এসেছে। শুরু হয়েছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বয়ে যাচ্ছে দমকা হাওয়া। এদিকে প্রস্তুতি হিসেবে জেলার চার উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাত থেকে জেলায় ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার পর আগামী ৪৮ ঘণ্টায় অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো), মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে স্থানীয় আবহাওয়ায় বেশ প্রভাব পড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে তাপমাত্রা স্বাভাবিকে (৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) নেমে আসে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় দিনব্যাপী ভ্যাপসা গরম অনুভূত হয়। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার পর পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন ঘটতে পারে।এদিকে গতকাল রবিবার এ জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট থেকে ৫টা পর্যন্ত ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত পরশু দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমেছে ৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সংরক্ষিত চলতি মে মাসের ২৬ দিনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১ মে এক দিন অতি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস); ২, ৩, ৫, ২৪ ও ২৫ মে পাঁচ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস); ৪, ১৭, ১৯ ও ২৩ মে চার দিন মাঝারি তাপপ্রবাহ (৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ৬, ১৪, ১৫, ১৬, ২১ ও ২২ মে ছয় দিন মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬ দশমিক ২ থেকে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত) রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬ মে ২৬ মিলিমিটার, ৭ মে ১৫ মিলিমিটার, ৯ মে ৪ মিলিমিটার এবং ১২ ও ২১ মে ১ মিলিমিটার করে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং সর্বশেষ গতকাল রবিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি মে মাসে ছয় দিনে জেলায় মোট ৪৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।