ঢাকাশনিবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ খবর

পাণ্ডব নদী তীরবর্তী দক্ষিণ সাদিষের কৃষিজমি কর্তন বিরোধীরাই মামলার আসামী।

রিপোর্টার ফাতেমা আক্তার মাহমুদা ইভা
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৪ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ । ৮৩ জন
Link Copied!

print news

IMG 20240203 WA0009 2

 

বিচিত্র এই দেশ, বিচিত্র এই দেশের কর্মকতাদের কার্যকলাপ। কী ধরণের কর্মকতা হ’লে এই ধরণের গর্হিত কাজ করতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করতেও গ্রামবাসি ঘৃণা বোধ করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশে আইন পাশ করিয়েছেন নদী তীরবর্তী কৃষিজমি কর্তন করা যাবে না, সেখানে বাকেরগঞ্জ থানার কলসকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদিশ পাণ্ডব নদী তীরবর্তী কৃষি জমি ১৫/২০ ফুট নীচ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে ভূমিদস্যুরা ইট ভাটায় বিক্রি করছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন যাবত চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা এই গ্রামের মাটি কাটছে। এর প্রতিবাদে গ্রামবাসি একত্রিত হয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে যা সময় টিভি, একাত্তর টিভি, মাইটিভিসহ বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এই সব মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় ভূমিদস্যু জনপ্রতিনিধিসহ চিহ্নিত চোর চক্রের কীছু নাম গ্রামবাসি প্রকাশ করে। ইতিপূর্বে প্রশাসন লোক দেখানো ২/১ টি অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনাকারীরাই ম্যানেজ হয়ে যায় ফলশ্রুতিতে আবার শুরু হয় মাটি-কাটা। এভাবে চলছে চোর পুলিশ খেলা। সদ্য জাতীয় নির্বাচন শেষে সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে নবোদ্যমে একাধিক ভেকু দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে। গ্রামবাসি ফেসবুক সহ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ করলে পটুয়াখালীর দুমকী পুলিশ প্রশাসন দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের পূর্বপাশের পাণ্ডব নদী থেকে একটি ভেকু ও দুইজন চালককে মাটি কাটার সময় আটক করে। ঘটনাস্থল বাকেরগঞ্জ থানার আওতাধীন হওয়ায় দুমকী থানার এসআই শাহীন হোসেন, নিরস্ত্র, বিপি-৮৭০৭১১১২২১, একটি মামলা দায়ের করে আসামীদ্বয়কে বাকেরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করে যার মামলা নং- জিআর ৪২/২০২৪ তারিখঃ ২৮/০১/২০২৪। ঘটনাস্থলে ধৃত দুই জনসহ আসামী করা হয় মোট ১০ জন কিন্তু বাদ দেয়া হয় ভূমিদস্যু মূল হোতাদের। এই দশ জনের মধ্য ৫-১০ পর্যন্ত ক্রমিক নাম্বার আসামীরা মাটি কাটার বিপক্ষে নদী তীরবর্তী বাসিন্দা যারা কিছুদিনের মধ্যেই এভাবে কাটতে থাকলে বাড়ি-ঘর খোয়াবে। একদিকে বাড়ি-ঘর হারানোর পথে অন্যদিকে মামলার আসামি। এ ব্যাপারে গ্রামবাসি বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও, ওসি এবং এমপি মহোদয়কে নামসহ বিস্তারিত লিখিতভাবে জানিয়েছেন। মাটি কাটার বিপক্ষে অবস্থান কারী নদীতীরবর্তী দক্ষিণ সাদিশ গ্রামের বাসিন্দারা হ’লো শাহ আলম হাওলাদার, তুহিন হাওলাদার , আনোয়ার হাওলাদার, নয়ন হাওলাদার , আতাউল্লাহ খান ও হালিম খান। দুমকী থানার তদন্তকারী কর্মকতা কীসের ভিত্তিতে মাটি কাটার বিপক্ষে অবস্থানকারীদের মামলার আসামী করলেন তা এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। এইসব আসামীরা বিভিন্ন সময় মাটি কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তার প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ আছে। মহামতি আলেকজান্ডার এর ভাষায় বলতে হয় ‘সত্যিই সেলুকাস’ কী বিচিত্র এই দেশ’।